ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করাই মূল লক্ষ্য, মার্কিনদের আর্থিক কষ্ট বড় নয়: ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্প
ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: রয়টার্স
0

ইরান যুদ্ধ বন্ধের আলোচনার ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকদের আর্থিক টানাপোড়েন বা কষ্টকে বিবেচনায় নিচ্ছেন না প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, তেহরান যাতে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করাই এখন তার প্রধান লক্ষ্য। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

গতকাল (মঙ্গলবার, ১২ মে) হোয়াইট হাউস থেকে চীন সফরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। মার্কিন নাগরিকদের আর্থিক অবস্থা তাকে চুক্তির ব্যাপারে কতটা প্রভাবিত করছে—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি বলেন, ‘একটুও নয়।’

ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের বিষয়ে আমি যখন কথা বলি, তখন একটি বিষয়ই কেবল গুরুত্ব পায়—তারা পরমাণু অস্ত্র রাখতে পারবে না। আমি মার্কিনিদের আর্থিক অবস্থা নিয়ে ভাবছি না। আমি অন্য কাউকে নিয়েও ভাবছি না। আমার মাথায় কেবল একটিই চিন্তা, আমরা ইরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন করতে দিতে পারি না। এটিই একমাত্র বিষয় যা আমাকে তাড়িত করছে।’

আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যখন জীবনযাত্রার ব্যয় মার্কিন ভোটারদের কাছে প্রধান ইস্যু, তখন ট্রাম্পের এমন মন্তব্য তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে পারে। তবে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চুং এই বক্তব্যকে সমর্থন করে বলেন, ‘মার্কিনিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রেসিডেন্টের মূল দায়িত্ব। ইরান পরমাণু অস্ত্র পেলে তা সব আমেরিকানের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।’

ইরান সংকটের প্রভাবে দেশটিতে জ্বালানি ও গ্যাসের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি দেখা দিয়েছে। গত এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যস্ফীতি গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। রিপাবলিকান দলের অনেক সদস্য আশঙ্কা করছেন, যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট এই অর্থনৈতিক মন্দা নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এতে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস এবং সম্ভবত সিনেটের নিয়ন্ত্রণও হারাতে পারে দলটি।

তবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন বলছে, গত গ্রীষ্মের তুলনায় ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতার সময়সীমায় বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। মার্কিন ও ইসরাইলি হামলার পর সেই সময়সীমা ৯ মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত বেড়েছিল। যুদ্ধের দুই মাস পার হওয়ার পরও সেই চিত্র আগের মতোই আছে।

ইরান অবশ্য বরাবরই দাবি করে আসছে যে তারা পরমাণু অস্ত্র তৈরিব প্রচেষ্টায় নেই এবং তাদের এই কর্মসূচি কেবল শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহারের জন্য। তবে পশ্চিমা দেশগুলোর সন্দেহ, তেহরান গোপনে বোমা তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে চায়।

এএম