ইরানি গণমাধ্যমের উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়, ‘ইরানি ট্যাংকার ও বাণিজ্যিক জাহাজে যেকোনো হামলার জবাবে অঞ্চলে থাকা মার্কিন কেন্দ্র ও শত্রু জাহাজে কঠোর আঘাত হানা হবে।’ উপসাগরে ওমান সাগরে মার্কিন হামলায় দুটি ইরানি পতাকাবাহী ট্যাংকার অচল করে দেওয়ার ঘটনার পরদিন এই বক্তব্য দেওয়া হয়।
আজ (রোববার, ১০ মে) ভোরে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস কেন্দ্র জানায়, কাতারের উপকূলের কাছে অজ্ঞাত কোনো বস্তুর আঘাতে একটি জাহাজে আগুন লাগে। দোহা থেকে প্রায় ৪৩ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে ঘটনাটি ঘটে। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার বলেন, ‘শান্তি প্রস্তাবের বিষয়ে ইরানের জবাব তিনি ‘‘অতি দ্রুত’’ আশা করছেন।’ তবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় কোনো বার্তা পাঠানো হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু জানানো হয়নি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপে বলেন, ‘উপসাগরে মার্কিন বাহিনীর সাম্প্রতিক পদক্ষেপ ও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সদিচ্ছা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।’
গত শুক্রবার মার্কিন যুদ্ধবিমান দুটি ইরানি পতাকাবাহী ট্যাংকারে গুলি চালিয়ে অচল করে দেয়। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, জাহাজগুলো ইরানি বন্দরে আরোপিত অবরোধ অমান্য করছিল। ইরানের এক সামরিক কর্মকর্তা জানান, নৌবাহিনী পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা নতুন নয়। বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের ওপর প্রভাব বিস্তারকে ইরান কৌশলগত সম্পদ হিসেবে দেখছে। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তেহরানের নিয়ন্ত্রণে এই পথ থাকা গ্রহণযোগ্য নয়।
এদিকে উপগ্রহচিত্রে ইরানের খারগ দ্বীপের কাছে তেল ছড়িয়ে পড়ার চিহ্ন দেখা গেছে। খার্গ দ্বীপ ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র। কী কারণে তেল ছড়িয়েছে, তা নিশ্চিত নয়।
লেবানন সীমান্তেও উত্তেজনা বাড়ছে। ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সাম্প্রতিক গোলাগুলিতে দক্ষিণ লেবাননে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে সরাসরি আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে, যদিও হিজবুল্লাহ এ আলোচনার বিরোধিতা করছে।





