সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে স্থানীয় সময় শুক্রবার দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তথাকথিত ইউএফও বা অজানা উড়ন্ত বস্তু বিষয়ক কয়েক ডজন নথি প্রকাশ করে। জনগণকে নজিরবিহীন স্বচ্ছতা প্রদানের লক্ষ্যে এটি করা হয়েছে বলে দাবি মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের।
দ্য গার্ডিয়ান বলছে, প্রায় ১৬০টির বেশি নথি, ভিডিও, ছবি, গোয়েন্দা প্রতিবেদন ও সাক্ষ্য প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৯৪০-এর দশকের সামরিক রিপোর্ট থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক ড্রোন ও সামরিক বিমানের রহস্যময় ঘটনার বর্ণনা। নথিগুলো প্রকাশ করা হয়েছে নতুন ওয়েবসাইট ‘ওয়ার.গভ/ইউএফও’-তে, যাকে পেন্টাগন প্রথম ধাপ বলে উল্লেখ করেছে। ভবিষ্যতে আরও নথি প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে তারা।
তবে প্রকাশিত এসব নথিগুলোর মধ্যে আলোচিত, হলো অ্যাপোলো-১১ মিশনের নভোচারী বাজ অলড্রিনের একটি ডিব্রিফিং। সেখানে তিনি চাঁদের কাছে ‘উজ্জ্বল এক বস্তু’ দেখার কথা বলেছিলেন। আরেকটি নথিতে অ্যাপোলো-১৭ মিশনের তোলা ছবিতে ত্রিভুজাকৃতিতে থাকা তিনটি আলোর বিন্দুর কথা উল্লেখ রয়েছে।
অবশ্য এ নথিগুলোর মধ্যে অনেকগুলোই আগেই প্রকাশ করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা।
ইউএফও বিশ্লেষক মিক ওয়েস্ট বলেন, ‘আমার মনে হয়, এখানে মানের চেয়ে পরিমাণই বেশি। ফাইলগুলোর বেশিরভাগই পুরোনো, এফবিআই-এর পুরোনো ফাইল যা বহু বছর আগে প্রকাশ করা হয়েছিল এবং সেগুলোর মধ্যে কিছু চল্লিশ ও পঞ্চাশের দশকের।’
এদিকে, প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওগুলো কবে নাগাদ তোলা হয়েছে সে বিষয়ে জানা যায় নি। তবে এসব প্রকাশের ফলে সরকারি গোপনীয়তা এবং মহাবিশ্বের অন্য কোথাও প্রাণের সম্ভাব্য অস্তিত্ব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উস্কে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে ইরান, লেবানন, গাজা ও ইউক্রেন যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে ইউএফও ফাইল বা অজানা উড়ন্ত বস্তুর গোপন নথি প্রকাশকে ভালোভাবে দেখছেন না ট্রাম্প বিরোধীরা। তাদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজের ব্যর্থতা ঢাকতেই এসব নথি উন্মোচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।





