যুক্তরাষ্ট্রের ‘১৪ দফা’ প্রস্তাব; ইরান যুদ্ধ বন্ধের খসড়া চুক্তিতে যা আছে

প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি | ছবি: সংগৃহীত
0

উপসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাত নিরসন এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনার লক্ষ্যে একটি খসড়া রূপরেখা তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ‘১৪ দফা’ প্রস্তাবটি মূলত একটি সংক্ষিপ্ত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), যা একটি স্থায়ী ও বৃহৎ চুক্তির ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। যদিও পূর্ণাঙ্গ নথিটি এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের বরাতে আলোচনার মূল বিষয়গুলো সামনে এসেছে। গালফ  নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রস্তাবিত এই খসড়ায় যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং ইসরাইল সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক অভিযানগুলোর মধ্যে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির কথা বলা হয়েছে। বড় অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়ার ওপর, কারণ বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথেই হয়ে থাকে।

এছাড়া ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সাময়িকভাবে স্থগিত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে ২০ বছরের জন্য স্থগিতাদেশ চাইলেও ইরান পাঁচ বছরের প্রস্তাব দিয়েছিল; এখন উভয় পক্ষ প্রায় ১৫ বছরের একটি সময়সীমার বিষয়ে আলোচনা করছে।

অন্যতম বড় ছাড় হিসেবে ইরান তাদের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশ থেকে সরিয়ে নিতে সম্মত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিনিময়ে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং দেশটিতে আটকে থাকা কয়েক শ কোটি ডলারের তহবিল ছাড় করবে ওয়াশিংটন।

তবে এই সমঝোতার পথে এখনো বেশ কিছু বড় অন্তরায় রয়ে গেছে। ইরানের ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, হিজবুল্লাহ ও হুতির মতো আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি তেহরানের সমর্থন এবং দীর্ঘমেয়াদি পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার মতো বিষয়গুলো এখনো অমীমাংসিত।

অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জারেড কুশনার এই আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আলোচনা সফল হলে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে একটি বিস্তারিত চুক্তি হতে পারে, যার বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে ইসলামাবাদ বা জেনেভায়।

এই সম্ভাব্য চুক্তির খবরে বিশ্ববাজারে ইতিমধ্যে তেলের দাম কমতে শুরু করেছে। তবে শঙ্কাও কাটেনি। ইরান ও ইসরাইলের কট্টরপন্থীরা এই ছাড়ের বিরোধিতা করছে। ট্রাম্পসহ মার্কিন কর্মকর্তারাও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, আলোচনা ব্যর্থ হলে আবারও কঠোর নৌ অবরোধ ও সামরিক অভিযান শুরু করা হবে।

এএম