বিশেষজ্ঞদের মতে, এবার পশ্চিমবঙ্গে আসন গেড়ে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করবে বিজেপি। যার প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশেও। চলতি বছরের ডিসেম্বরে গঙ্গা পানি বন্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। বিজেপির হিন্দুত্ববাদীর নীতিতে উদ্বেগের মধ্যে সংখ্যালঘু মুসলিম ও বাংলা ভাষাভাষীরা।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক এম শাহীদুজ্জামান বলেন, ‘আশ্বাস হযতো দেবে যে, এখন বিজেপি আসছে, তিস্তা চুক্তি হতে পারে; তবে আমার মনে হয় এ আশ্বাসে বাংলাদেশের কোনোভাবেই বিশ্বাস করা উচিত নয়। সীমান্তের কথা চিন্তা করলে, সেখানে অবশ্যই আমাদের জন্য হুমকি। বিজেপি যেভাবে রংপুর সীমান্তের দু’পাশেই সেনাবাহিনী পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করেছে, তাতে এটা একরকম আশঙ্কাজনক বাস্তবতা।’
বাংলাদেশ ইস্যুতে সবচেয়ে বেশি সরব ভারতের দু’টি রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম। সম্প্রতি আসামের বিজেপি নেতার ‘পুশইন’ মন্তব্য ঘিরে ঢাকা-নয়াদিল্লির সম্পর্কে নতুন করে বেড়েছে উত্তেজনা। এছাড়া বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে বিজেপি সবসময় কঠোর। এবার দুই রাজ্যেই গেরুয়া শিবিরের আধিপত্য। বাংলাদেশে যার বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে শঙ্কা বিশ্লেষকদের।
আরও পড়ুন:
অধ্যাপক এম শাহীদুজ্জামান বলেন, ‘বর্তমানে যে পুনঃনির্বাচিত আসামের মুখ্যমন্ত্রী পরিকল্পনা করে রেখেছে যে, আমার পুশইন করবে, বাংলাদেশে ঠেলে দেবে—সেটা করতে পারেনি মূলত মমতা ব্যানার্জি ও পশ্চিম বাংলার কারণে। তবে এখন তো সেই পথ উন্মুক্ত!’
বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূলের ভবিষ্যত অনেকটাই শঙ্কায় পড়েছে। সেইসঙ্গে ৭১ বছর বয়সী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারেও বিদায় ঘণ্টা বেজে উঠতে পারে।
অধ্যাপক শাহীদুজ্জামান বলেন, ‘মমতা ব্যানার্জি আগামীতে আর মুখ্যমন্ত্রীর পদে যাবেন বলে আমার মনে হয় না। আগামী দিনগুলোতে সুবেন্দু ও বিজেপির জন্য, তাদের জীবন অস্থির করে তুলতে পারে তৃণমূল কংগ্রেস এবং মমতা তাই-ই করবে। হয়তো তারা এমন ইস্যু তুলে আনবে যে, কীভাবে ৯০ লাখ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া হলো!’
ভারতের নির্বাচনের ইতিহাসে পশ্চিমবঙ্গের এবারের বিধানসভা নির্বাচন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ভোটার তালিকা সংশোধন ইস্যুতে বিপুলসংখ্যক ভোটাধিকার প্রয়োগ। আর নজিরবিহীন কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি। যার ফলে পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো সহিংসতার ঘটনা কম ঘটেছে।





