গত বুধবার (২৭ মে) সকাল থেকে গতকাল (২৯ মে) সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলার আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী, ভাঙ্গা, সালথা ও সদরপুর উপজেলায় এসব সহিংসতার ঘটনা ঘটে।
সর্বশেষ গতকাল শুক্রবার (২৯ মে) সন্ধ্যায় সদরপুর উপজেলার চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের চর চাঁদপুর গ্রামে বসতবাড়ির গাছ কাটাকে সিরাজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ভাতিজাদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মাসুদ রানা (৪০) নামে আরেকজনকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে।
আরও পড়ুন:
পবিত্র ঈদুল আজহার দিন শুক্রবার সকালে আলফাডাঙ্গায় ছেলে হাসান শেখের কোদালের কোপে ফুলজান বেগম (৬০) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। ওই দিন সকাল ৯টার দিকে উপজেলার বানা ইউনিয়নের পন্ডিত বানা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ফুলজান বেগম ওই গ্রামের হাফিজার শেখের স্ত্রী। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আরও পড়ুন:
ঈদের আগের দিন বোয়ালমারীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধে ফিরোজা বেগম (৭১) নামে এক বৃদ্ধাকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ওইদিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার চতুল ইউনিয়নের বনচাকী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ফিরোজা বেগম ওই গ্রামের ওজেদ মোল্যার মেয়ে ও মৃত মুক্তার মোল্লার স্ত্রী।
এছাড়া ভাঙ্গা ও সালথায় তিনটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে শুক্রবার সন্ধ্যায় ভাঙ্গায় ফেসবুকে ইউপি চেয়ারম্যানের অনিয়ম নিয়ে ভিডিও ছড়িয়ে দেয়াকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হয়। উপজেলার চুমুরদী ইউনিয়নের বাবনাতলা বাসস্ট্যান্ডে মহাসড়কের উপর প্রায় দুই ঘন্টাব্যাপী এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন:
একইদিনে সন্ধ্যা ৭টায় সালথায় বসতঘরের ওপর গাছ পড়াকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের পুরুরা সাধুর পাড়া গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন:
এছাড়া ঈদের দিন কোরবানির মাংস বন্টনের জায়গা নির্ধারণ নিয়ে ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের পূর্ব আড়ুয়াকান্দী গ্রামে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের প্রায় ৩০ জন আহত হন।
আরও পড়ুন:
ঈদের ছুটিতে ফরিদপুরের হঠাৎ করেই সহিংসতা ও হতাহতের ঘটনা বেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে সচেতন নাগরিক কমিটির সড়কের ফরিদপুরের সিনিয়ার সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট শিপ্রা গোস্বামী বলেন, ‘ঈদ আনন্দ, সম্প্রীতি ও পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করার একটি উৎসব। কিন্তু অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরে সহিংসতা, সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তুচ্ছ ঘটনা, ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘাতের ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এতে যেমন মূল্যবান প্রাণহানি ঘটছে, তেমনি সমাজে ভয় ও অস্থিরতা সৃষ্টি হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। পরিবার থেকে সন্তানদের নৈতিক শিক্ষা ও সহনশীলতার চর্চা বাড়াতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক প্রচারণা এবং গুজব থেকেও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সহিংসতা কোনো সমস্যার সমাধান নয়। ঈদের প্রকৃত শিক্ষা হলো শান্তি, সহমর্মিতা ও ক্ষমাশীলতা। তাই সবাইকে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সংলাপের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানাই। একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও মানবিক ফরিদপুর গড়তে সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।’





