নতুন করে শুরু হতে পারে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ! ইরানে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটি উড়িয়ে দেবে তেহরান। গেলো কয়েকদিন ধরেই একে অপরকে দিয়ে আসছে এমন হুঁশিয়ারি।
জনসম্মুখে এমন সতর্কবার্তা থাকলেও আড়ালে চলছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার দর কষাকষি। শুক্রবার ইসলামাবাদের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রকে শান্তিচুক্তির নতুন প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান। তবে তাতে নাখোশ মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরান শান্তিচুক্তিতে পৌঁছাতে চায়। তবে তাদের প্রস্তাবে খুশি হতে পারিনি। ইরানের সামরিক শক্তি নেই বললেই চলে।
এদিকে যুদ্ধের ৬৪ তম দিনেও কোন সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি কোন পক্ষই। বিশ্বব্যাপী দেখা দিয়েছে চরম জ্বালানি সংকট। যার ভুক্তভোগী খোদ মার্কিনরাও। এমন বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে কমেছে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা। ওয়াশিংটন পোস্টের এক জরিপে দেখা যায়, ৬১ শতাংশ মার্কিন মনে করছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা ট্রাম্পের ভুল সিদ্ধান্ত।
সাধারণের মতামত তো দূরের কথা মার্কিন কংগ্রেসকেই তোয়াক্কা করছেন না ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৩ সালের 'ওয়ার পাওয়ার রেজুলেশন' অনুযায়ী, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ৬০ দিন পর যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে না মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে এই সময়সীমা পার হলেও এ বিষয়ে পার্লামেন্টে কোন প্রস্তাব উঠেনি।
তবে এ বিষয়ে যুক্তি তুলে ধরে কংগ্রেস নেতাদের চিঠি পাঠিয়েছেন ট্রাম্প। জানান, ৭ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতির পর ইরানে কোন সামরিক আঘাত হানেনি যুক্তরাষ্ট্র। অর্থাৎ যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে এর সময়সীমা শেষ হয়েছে।
শুধু তাই নয় কংগ্রেসকে বাইপাস করে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদেশগুলোর কাছে ৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন সামরিক অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এক্ষেত্রে কাতারের কাছে ৪ বিলিয়ন , কুয়েতের কাছে আড়াই বিলিয়ন, ইসরাইলকে ৯৯২ মিলিয়ন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে ১৪৭ মিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি করবে যুক্তরাষ্ট্র। যার মধ্যে কাতারকে পেট্রিয়ট মিসাইল ও ইসরাইলকে প্রিসিশন ওয়েপন সিস্টেম সরবরাহ করবে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই মধ্যপ্রাচ্যের এসব দেশে অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্ত ওয়াশিংটনের।
এদিকে যুদ্ধের ফলে বিশ্ব আগের চেয়ে ভালো আছে বলে দাবি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলো ইরান। এবার তাদের শাসনব্যবস্থাই পরিবর্তন হয়ে গেছে। যদিও তথাকথিত শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের যুদ্ধ নয় এটি। তবে আগের চেয়ে ভালো আছে বিশ্ব ।
এদিকে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে একাধিক নতুন হামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত দুই দিনের হামলায় নিহত হয়েছে অন্তত ১২ লেবানিজ।





