মার্কিন অবরোধে ইরানের ৫ বিলিয়ন ডলারের তেলের বাজার লোকসান: এক্সিওস

ইরানের তেল ডিপো
ইরানের তেল ডিপো | ছবি: সংগৃহীত
2

হরমুজ প্রণালি ও পার্শ্ববর্তী নৌপথগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবরোধের কারণে ইরান প্রায় ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন (৪৮০ কোটি) ডলারের তেল রাজস্ব হারিয়েছে। পেন্টাগনের হিসাবের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের ফলে তেহরানের ওপর আর্থিক চাপ আরও তীব্র হয়েছে। গালফ নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে সমুদ্রে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ অভিযান পরিচালনার ফলে তেহরান এই বিশাল পরিমাণ আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে। মূলত ইরানের জ্বালানি রপ্তানি ও নিষিদ্ধ সামুদ্রিক বাণিজ্য বন্ধ করতেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে।

পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (টুইটার) ভারপ্রাপ্ত প্রেস সেক্রেটারি জোয়েল ভালদেজের একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করে জানান, তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। ভালদেজ বলেন, ‘হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ পূর্ণ শক্তিতে কাজ করছে এবং আমরা যেমনটা চেয়েছিলাম ঠিক তেমন ফলাফল দিচ্ছে। ইরানের শাসকদের সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা তৈরির সক্ষমতার ওপর আমরা বড় আঘাত হানছি। আমাদের সশস্ত্র বাহিনী এই চাপ বজায় রাখবে।’

এদিকে, ইরানের নেতৃত্বকে অত্যন্ত কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। শুক্রবার স্থানীয় সময় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ইরানের শাসকেরা বাস্তব জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ‘অন্ধকারে’ বাস করছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন তেহরানের বিরুদ্ধে একজোট হয়েছে।

হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে দাবি করে বেসেন্ট হুঁশিয়ারি দেন, ‘যতক্ষণ না গত ২৭ ফেব্রুয়ারির আগের মতো নৌচলাচলের স্বাধীনতা (ফ্রিডম অব নেভিগেশন) ফিরে আসছে, ততক্ষণ এই অবরোধ অব্যাহত থাকবে।’ তিনি আরও জানান, অবরোধের ফলে ইরানে বর্তমানে মার্কিন ডলারের চরম সংকট দেখা দিয়েছে এবং দেশটিতে খাদ্য ও জ্বালানির রেশনিং বা বরাদ্দ ব্যবস্থা চালু করতে হয়েছে।

এএম