আমিরাতের ওপেক ছাড়ার ঘোষণায় বিশ্ববাজারে বড় ধাক্কার আশঙ্কা

ওপেক
ওপেক | ছবি: সংগৃহীত
0

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপেক ছাড়ার ঘোষণা বিশ্ববাজারে বড় ধাক্কার আশঙ্কা তৈরি করেছে। ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান যুদ্ধের মধ্যে এ সিদ্ধান্তে তেল ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, আগামী শুক্রবার থেকে ওপেকের সঙ্গে আমিরাতের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের অবসান ঘটবে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ও অর্থনৈতিক রূপকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই ওপেক ও ওপেক প্লাস ত্যাগের এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলা হয়, ওপেকের সদস্য থাকাকালে তারা অনেক গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে এবং বড় ধরনের ত্যাগ স্বীকার করেছে। তবে এখন সময় এসেছে নিজেদের জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়ার।

ওপেকের অন্যতম প্রভাবশালী ও দীর্ঘদিনের সদস্য আরব আমিরাতের এই বিদায়ে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোটে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরির আশঙ্কা করা হচ্ছে। সাধারণত উৎপাদন ও ভূ-রাজনৈতিক ইস্যুতে নিজেদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও ওপেক সব সময় ঐক্যবদ্ধ থাকার চেষ্টা করে। আমিরাতের এই প্রস্থান সেই ঐক্যে বড় ফাটল ধরাল।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানি মন্ত্রী সুহাইল মোহাম্মদ আল-মাজরুই বলেন, ‘তাদের দেশের ভবিষ্যৎ উৎপাদন নীতির ওপর ভিত্তি করেই এই নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’ ওপেকের নেতৃত্ব দেয়া সৌদি আরবের সঙ্গে কোনো পরামর্শ করা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি রয়টার্সকে জানান, তারা এ বিষয়ে অন্য কোনো দেশের সঙ্গে আলোচনা করেননি।

আরও পড়ুন:

এমন এক সময় এই ঘোষণা এল যখন মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ হুমকির মুখে পড়েছে। ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এই সরু জলপথ দিয়ে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) পাঁচ ভাগের এক ভাগ পরিবাহিত হয়। যুদ্ধের কারণে বর্তমানে এই পথে জাহাজ চলাচল চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক রাজনীতি ও অর্থনৈতিক ইস্যুতে সৌদি আরবের সঙ্গে আরব আমিরাতের তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে লোহিত সাগর অঞ্চল ও ইয়েমেন ইস্যুতে দুই দেশের দ্বিমত এখন প্রকাশ্য। ২০১৫ সালে ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে দুই দেশ একসঙ্গে লড়াই শুরু করলেও গত ডিসেম্বরে সেই জোটে বড় ধরনের ফাটল ধরে।

জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রাইস্টাড এনার্জি বলছে, আরব আমিরাতের প্রস্থান ওপেকের জন্য একটি বড় ধাক্কা। বর্তমানে দেশটির দৈনিক ৪৮ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে এবং তা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা আছে তাদের। আমিরাত বেরিয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার মূল ভার এখন এককভাবে সৌদি আরবের ওপর গিয়ে পড়বে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগেও ওপেকের কঠোর সমালোচনা করেছেন। ট্রাম্প বলেন, ‘ওপেক তেলের দাম বাড়িয়ে সারা বিশ্বকে ‘‘ঠকাচ্ছে’’।’ তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র ওপেকের সদস্য দেশগুলোকে সামরিক সুরক্ষা দিলেও বিনিময়ে তারা তেলের চড়া দাম নির্ধারণ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতারণা করছে।

১৯৬৭ সালে আবুধাবি হিসেবে এবং পরে ১৯৭১ সালে রাষ্ট্র গঠনের পর আরব আমিরাত ওপেকের সদস্যপদ লাভ করেছিল। তবে গত কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্র তেল উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়ায় বিশ্ববাজারে ভিয়েনাভিত্তিক এই জোটের একচ্ছত্র আধিপত্য কিছুটা কমেছে।

এএম