গত মার্চে আফগানিস্তানের কাবুলে একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে বিমান হামলা চালিয়ে আড়াইশো’র বেশি মানুষকে হত্যা করে পাকিস্তান। এরপর দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও উত্তপ্তই ছিল কাবুল-ইসলামাবাদ সম্পর্ক। এখন আবারও ভেস্তে যাওয়ার পথে এই যুদ্ধবিরতি। এবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কুনার প্রদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার অভিযোগ তালেবান সরকারের।
তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বিবিসিকে জানান, গতকাল (সোমবার, ২৭ এপ্রিল) কুনারের একটি বিশ্ববিদ্যালয় ও এর আশেপাশের এলাকায় রকেট, শক্তিশালী গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক অস্ত্র ব্যবহার হামলা চালায় পাক সেনারা। আফগানিস্তানের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও এক বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার কথা জানায়। হামলায় সৈয়দ জামালুদ্দিন আফগানি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী রয়েছে। আহতদের বেশিরভাগই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী।
বিবিসি বলছে, ব্যাপক বিস্ফোরণের শব্দ শুনে শহর ছেড়ে পালাতে শুরু করেন স্থানীয়রা। এসময় আহত অবস্থায় কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলাকে ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ বলছে তালেবান সরকার।
আরও পড়ুন
তবে অভিযোগ প্রত্যাখান করেছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় এক্স পোস্টে জানায়-কুনার প্রদেশে হামলার বিষয়টি সম্পূর্ণ বানোয়াট, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা চালায়নি ইসলামাবাদ। এ প্রচারণাকে আফগানিস্তান ও ভারতের যৌথ ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়েছে তারা।
বরং, পাকিস্তান সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর মুখপাত্র দাবি করেছেন, যুদ্ধবিরতির শর্ত অগ্রাহ্য করে দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের বড় ধরণের হামলা করেছে আফগান যোদ্ধারা। এতে নারী শিশুসহ বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক গুরুতর আহত হয়েছেন। পাল্টাপাল্টি এ অভিযোগের মধ্যেও থেমে থেমে সীমান্তে হামলা করছে দুই পক্ষই।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্চের যুদ্ধবিরতি শুরু থেকেই ভঙ্গুর ছিলো, কিন্তু কুনার প্রদেশের এ হামলা দুই দেশের মধ্যে ফের উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।





