অবরোধের মাঝেও ৪০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি ইরানের

ইরানের তেল ডিপো
ইরানের তেল ডিপো | ছবি: সংগৃহীত
0

চলমান মার্কিন অবরোধের মাঝেও ৪০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বিদেশে রপ্তানি করেছে ইরান। এছাড়াও, বিক্রির জন্য আরও ৪৬ লাখ ব্যারেল তেল ইরানের রপ্তানি টার্মিনালগুলোতে লোড করা হচ্ছে। তবে শান্তি আলোচনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় বিশ্ববাজারে আরেক দফা বাড়লো তেলের দাম। প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি অপরিশোধিত জ্বালানির দাম ১০৮ ডলার ছাড়িয়েছে। এদিকে, আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার পূর্বাভাস, ফুয়েল সংকটের কারণে মে মাসের শেষ নাগাদ ইউরোপে ফ্লাইট বাতিলের হিড়িক পড়তে পারে।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান-ইসরাইল একে অপরের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে প্রাণঘাতী হামলা বন্ধ হলেও, হরমুজ স্থবিরে বিশ্বে এখনও জারি রয়েছে ভয়াবহ জ্বালানি সংকট। ট্রাম্প অনির্দিষ্টকালের জন্য ইরানে যুদ্ধ বিরতির মেয়াদ বাড়ালেও, এখনও দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনায় বসার বিষয়ে কোনো ঐক্যমতে পৌঁছায়নি ওয়াশিংটন ও তেহরান। যার ক্রমাগত প্রভাব পড়ছে বিশ্ব জ্বালানির বাজারে।

সোমবার লেনদেনের শুরুতেই জ্বালানির আরেক দফা দাম বাড়ার সাক্ষী হলো বিশ্ববাসী। প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে অপরিশোধিত জ্বালানির ব্যারেলপ্রতি দাম ১০০ ডলারের ওপরে ওঠানামা করছে। দাম চড়া অপরিশোধিত জ্বালানির আরেক মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমেডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের ব্যারেলপ্রতি দামেও।

আরও পড়ুন:

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়ানো হরমুজ নিয়ে বন্ধ হচ্ছে না বিশ্বমোড়লদের ক্ষমতার খেলা। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্য দিয়ে বয়ে চলা সরু জলপথটি পুনরায় খুলে দিতে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন প্রস্তাব দিয়েছে ইরান।

তবে অবাক করা হলো মার্কিন নৌবাহিনীর চলমান অবরোধের মাঝেও ৪০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বিদেশে রপ্তানি করেছে ইরান। আর নতুন করে রপ্তানির জন্য তেহরানের তেল টার্মিনালগুলোতে লোড হচ্ছে আরও ৪৬ লাখ ব্যারেল তেল। এদিকে, সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, নৌ- অবরোধ শুরুর পর ৩৮টি জাহাজকে গতিপথ পরিবর্তন অথবা বন্দরে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে ট্রাম্পের হরমুজ অবরোধ মেয়াদ বাড়তে থাকায় নতুন করে সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে ইউরোপের বিমান সংস্থাগুলো। ফুয়েল সংকটের কারণে মে মাসের শেষ নাগাদ ইউরোপে ফ্লাইট বাতিলের হিড়িক পড়তে পারে বলে আগাম সতর্কবার্তা দিয়েছে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা। কেননা ইউরোপের দেশগুলো ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ফুয়েল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে।

এফএস