পারমাণবিক অস্ত্র ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে বিভিন্ন দেশে চলছে পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়ানোর তোড়জোড়। সম্প্রতি সিএনএন এর এক অনুসন্ধনী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, গোপনে সিচুয়ান প্রদেশে পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন বাড়াচ্ছে চীন। এবার আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা- আইএইএর প্রধান রাফায়েল গ্রোসি সরাসরি দাবি করলেন যে, অত্যন্ত উদ্বেগজনক হারে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা বাড়াচ্ছে উত্তর কোরিয়া।
গ্রোসি জানান, উত্তর কোরিয়ার প্রধান পারমাণবিক কেন্দ্র ইয়ংবিওন-এ গত কয়েক মাসে ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। স্যাটেলাইট চিত্র এবং বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে তিনি এ দাবি করেন। এই মুহূর্তে উত্তর কোরিয়ার কাছে অনেকগুলো পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে বলেও ধারণা করছেন আইএইএ'র প্রধান। যা বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
আইএইএ মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত করতে পেরেছি যে ইয়ংবিওন-এ ৫ মেগাওয়াট চুল্লি রিপ্রসেসিং ইউনিট এবং লাইট-ওয়াটার রিঅ্যাক্টরগুলো এখন পূর্ণ উদ্যমে সচল রয়েছে। যা পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদনের ক্ষেত্রে ডিপিআর বা উত্তর কোরিয়া যে তাদের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে তার ইঙ্গিত দেয়।’
আরও পড়ুন:
রাশিয়ার সাথে উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক ঘনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে গ্রোসি জানান, পিয়ংইয়ংকে পারমাণবিক প্রযুক্তিতে মস্কো সরাসরি কোনো সহায়তা দিচ্ছে কি না, সে ব্যাপারে এখনো নিশ্চিত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
রাফায়েল গ্রোসি বলেন, ‘পারমাণবিক অস্ত্রের দিকে অগ্রসর হয়ে কোনো দেশই তাদের নিরাপত্তার গেরান্টি দিতে পারবে না। বরং এটি অস্ত্র বিস্তারের শৃঙ্খলকে উস্কে দেবে।’
২০০৬ সালে প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষার পর থেকে উত্তর কোরিয়া জাতিসংঘের কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকলেও তারা বারবার ঘোষণা দিয়েছে যে, আত্মরক্ষার স্বার্থে তারা তাদের পারমাণবিক ভাণ্ডার ত্যাগ করবে না।
২০০৯ সালে পিয়ংইয়ং আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের বহিষ্কারও করেছিলো। যার কারণে পারমাণবিক অস্ত্র সক্ষমতায় পিয়ংইয়ং ঠিক কোন পর্যায় আছে, তার সঠিক হিসেব নেই। তবে আইএইএ প্রধানের দেয়া নতুন তথ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।





