সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘পুরো দেশকে এক রাতেই ধ্বংস করা যেতে পারে, আর সেই রাতটি হয়তো আগামীকালের রাতও হতে পারে।’ ইরানের জন্য চুক্তি করার সময়সীমাও তিনি আরও কঠোর করেন। ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, মার্কিন স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ৮টার মধ্যে চুক্তি না হলে ইরানের প্রতিটি সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ‘ধ্বংস’ করে দেয়া হবে।
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘ইরানের পক্ষের একটি সক্রিয়, সদিচ্ছাপূর্ণ অংশগ্রহণকারীর সঙ্গে এখন ওয়াশিংটন সদ্ভাবে আলোচনা করছে।’ যুদ্ধ থামাতে কিছু অবিশ্বাস্য দেশও সহায়তা করছে বলে তিনি জানান।
উদ্ধার অভিযান
ট্রাম্প বলেন, নিখোঁজ এক মার্কিন সেনাসদস্যকে উদ্ধারের দ্বিতীয় অভিযানে ১৫৫টি বিমান অংশ নেয়। এর মধ্যে ছিল চারটি বোমারু, ৬৪টি যুদ্ধবিমান ও ৪৮টি জ্বালানি ভরার ট্যাংকার। এর আগে তিনি বলেছিলেন, প্রায় ২০০ বিশেষ বাহিনীর সদস্য উদ্ধার অভিযানে সহায়তা করেছিলেন।
সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ বলেন, ‘দূরবর্তী পাহাড়ের এক ফাটলে বিমানসেনাদের খুঁজে পেতে সংস্থাটি ইরানিদের বিভ্রান্ত করতে একটি প্রতারণামূলক অভিযান চালিয়েছিল এবং সিক্রেট এসেট ব্যবহার করেছিল।’
ট্রাম্প এই উদ্ধার অভিযানকে উচ্চঝুঁকির এক প্রকারের জুয়া হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, ‘তিনি জানতেন এতে ব্যাপক হতাহতের ঝুঁকি ছিল।’
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুসারে, উদ্ধারকাজে পাঠানো দুটি বড় বিমান কাদা মাটিতে আটকে যায়। তাই সেগুলোতে থাকা কর্মী ও সরঞ্জামের ওজন নিয়ে উড়তে পারবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়। ইরানের হাতে যেন মার্কিন সামরিক প্রযুক্তি না পড়ে, সে জন্য তিনি ওই বিমানগুলো স্থলেই ধ্বংস করার নির্দেশ দেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘গত ৩৭ দিনে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরানের ওপর ১০ হাজারের বেশি যুদ্ধফ্লাইট চালিয়েছে এবং ১৩ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভূপাতিত এফ-১৫ই ছিল অভিযান চলাকালে শত্রুর গোলায় হারানো প্রথম মনুষ্যবাহী বিমান।’
তথ্য ফাঁস
ট্রাম্প বলেন, ‘গত সপ্তাহে ইরানে ভূপাতিত প্রথম পাইলটকে উদ্ধারের বিস্তারিত তথ্য ফাঁস করা ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতে তার প্রশাসন অত্যন্ত কঠোরভাবে কাজ করছে।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘ইরানের ভেতরে দ্বিতীয় পাইলট নিখোঁজ থাকার খবর ফাঁস করে একটি অজ্ঞাত সংবাদমাধ্যম দ্বিতীয় উদ্ধার অভিযানকে ঝুঁকিতে ফেলেছিল।’ ট্রাম্পের মতে, ওই তথ্য ফাঁসের পর ইরানজুড়ে পাইলটকে খুঁজে ধরার অভিযান শুরু হয় এবং তার ধরার জন্য পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘দায়ী সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমকে উৎসের পরিচয় জানাতে বলা হবে।’
হরমুজ প্রণালি ও ন্যাটো
ট্রাম্প বলেন, ‘হরমুজ প্রণালিতে ইরানকে টোল আদায় করতে দেয়ার চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রেরই তা করা উচিত।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইরান সামরিকভাবে পরাজিত হয়েছে এবং বিজয়ী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রই হরমুজ প্রণালিতে টোল আদায় করতে চায়।’
তিনি ন্যাটোর ভূমিকায়ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ট্রাম্প বলেন, ‘হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জোটের অস্বীকৃতি ন্যাটোর গায়ে এমন দাগ, যা আর কখনো মুছবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ন্যাটোকে নয়, যুক্তরাষ্ট্রকে ভয় পান।’ তার ভাষায়, ‘ন্যাটো মানে আমরা।’
জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়াকেও তিনি ইরান অভিযানে সহায়তা না করার জন্য দুষেছেন। অন্যদিকে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো বলছে, জোটের কোনো সদস্যের সঙ্গে পরামর্শ না করেই ট্রাম্প এই যুদ্ধ শুরু করেছেন।
ইরানকে নিয়ে আরও বড় ধরনের উত্তেজনা বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কার মধ্যে ট্রাম্প কুর্দি বাহিনীকে ‘দূরে থাকতে’ পরামর্শ দেন। তার ভাষায়, তাদের সঙ্গে ‘কিছু সমস্যা’ আছে এবং তারা নিজেদের জন্য ‘মৃত্যুও ডেকে আনতে’ পারে।
এদিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, ‘সোমবারই ইরানে শুরু থেকে সবচেয়ে বড় পরিসরের হামলা হবে, আর মঙ্গলবার আরও বেশি হামলা চালানো হবে।’
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান তদারককারী সেন্টকম নিশ্চিত করেছে, ২ এপ্রিল কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ভূপাতিত এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের দুই সদস্যকে উদ্ধার করা হয়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ১ হাজার ৩৪০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিও রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
জবাবে তেহরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ইসরাইলকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। জর্ডান, ইরাক এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা থাকা উপসাগরীয় দেশগুলোও হামলার মুখে পড়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলও সীমিত করেছে।





