আজ (রোববার, ৫ এপ্রিল) রাজ্যটির কোচবিহার জেলার রাস ময়দানে বিজেপি প্রার্থীদের সমর্থনে এক নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেন মোদি। সেখান থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনামলে দুর্নীতি, নারীদের উপর অত্যাচার, অনুপ্রবেশ, সিন্ডিকেট, তোলাবাজিসহ একাধিক ইস্যুকে নিশানা করে বক্তব্য দেন তিনি।
নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘উন্নয়নের নিরিখে একটা সময় গোটা দেশের মধ্যে প্রথম দিকে ছিলো এ পশ্চিমবঙ্গ। উদ্যোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য, কলা-সংস্কৃতি প্রতিটা ক্ষেত্রেই পশ্চিমবঙ্গ সবার আগে ছিলো। কিন্তু এরপরই বাংলার উপরে গ্রহণ লাগে। প্রথমে কংগ্রেসের গ্রহণ, তারপরে বামেদের গ্রহণ, আর এখন তৃণমূলের গ্রহণ চলছে। আর এর ফলে পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন ফিকে হয়ে গেছে।’
তার মতে, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, বাকি রাজ্যগুলোর উন্নয়ন ঘটছে কিন্তু তৃণমূল সরকার বাংলাকে পিছনে ঠেলে দিয়েছে। দেশের অধিকাংশ রাজ্যে নতুন নতুন বিনিয়োগ আসছে। কিন্তু বাংলা থেকে কলকারখানা অন্য রাজ্যে চলে যাচ্ছে। আগে কাজের খোঁজে অন্য রাজ্য থেকে এ পশ্চিমবঙ্গে আসতো, আর এখন এ রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে চলে যাচ্ছে।
সংসদে নারীদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের কথাও উল্লেখ করেন ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘দেশের যেকোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার ব্যাপারে নারীদের ভূমিকা আরও বাড়ে। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই কেন্দ্রের বিজেপি সরকার লোকসভা এবং বিধানসভায় নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষিত দেয়ার জন্য আইন তৈরি করেছে। পশ্চিমবঙ্গসহ গোটা দেশের মহিলাদের ২০২৯ সালে লোকসভা নির্বাচন থেকেই এর সুবিধা মিলবে। আর এটা সুনিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। এজন্য কেন্দ্রের সরকার ১৬, ১৭ ও ১৮ এপ্রিল সংবিধানের বিশেষ অধিবেশন ডেকেছে। মা-বোনেদের এ অধিকারের গত ৪০ বছর ধরে আটকে রয়েছে, তাই আর বেশি দেরি করা উচিত হবে না।’
মালদা জেলার মোথাবাড়িতে বিচারকদের গাড়ি আটকে রেখে হামলা, ভাঙচুরের ঘটনারও নিন্দা করেছেন মোদি। এ ইস্যুতে বাংলাতে মহাজঙ্গলরাজ (মহাঅরাজকতা) চলছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘এখানকার নির্মম সরকার প্রতিদিন গণতন্ত্রকে ভূলুণ্ঠিত করছে। এ নির্মম সরকার ওদের ছাড়া কোনো সাংবিধানিক সংস্থাকেও পাত্তা দেয় না। কয়েকদিন আগেই দেখেছেন, গোটা দেশের মানুষ গেছে কীভাবে মালদাতে বিচারপতিদের আটকে রেখে তাদের ওপর হামলা হয়েছে। একবার ভাবুন, এখানে কী সরকার রয়েছে, কী আইন ব্যবস্থা রয়েছে? বিচারপতি, সাংবিধানিক প্রক্রিয়াই এখানে সুরক্ষিত নয়, বাংলার সাধারণ মানুষের সুরক্ষা এরা কীভাবে দেবে? মালদাতে যা হয়েছে, এটা তৃণমূল কংগ্রেসের মহাজঙ্গলরাজের প্রমাণ দিচ্ছে।’
আরও পড়ুন:
অনুপ্রবেশ ইস্যুতেও তৃণমূল সরকারকে তোপের মুখে দাঁড় করান প্রধানমন্ত্রী। তার অভিযোগ, তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনামলে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী এলাকায় জনবিন্যাসে বদল ঘটেছে। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের সরাসরি তৃণমূলের সংরক্ষণ মেলে।
তিনি বলেন, ‘তৃণমূল এ অনুপ্রবেশকারীদের নিজেদের সিন্ডিকেটে ভর্তি করে, এতে বাংলার মানুষের সুরক্ষা খুবই বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে। এ কারণে ভারত সরকার অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ওদের বাইরে পাঠানোর জন্য কাজ করছে। কেবলমাত্র ভারতই নয়, বিশ্বের বড় বড় দেশও এখন তাদের নিজেদের দেশ থেকে অনুপ্রবেশকারীদের বিতাড়িত করছে।’
পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূলের সরকার এই অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচানোর জন্য উঠে পড়ে লেগেছে দাবি করে তিনি আরও বলেন, ‘এ কারণে তৃণমূল কংগ্রেসের লোকজন এসআইআরের বিরোধিতা করছে। যাতে ওদেরকে চিহ্নিত করা না যায়, উল্টে তৃণমূল কংগ্রেস সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) বন্ধ করার জন্য হুমকি দিচ্ছে। যে সমস্ত হিন্দু শরণার্থীদের ভারতীয় নাগরিকত্ব মিলেছে তাদের সেই নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের দেওয়ার প্রচেষ্টা করছে। কারণ এই অনুপ্রবেশকারীদেরকে তৃণমূল তাদের নিজেদের ভোট ব্যাংক বলে মনে করে।’
মোদীর দাবি, তোষণের এ রাজনীতির কারণে বাংলার আসল পরিচয়ের বদল ঘটছে। এখানকার নির্মম সরকার প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এরা বাংলাতে হিন্দুদের বসবাস করাটা কঠিন করে দিচ্ছে। তোষণের রাজনীতির এ নোংরা খেলা বাংলার সম্মান ও সংস্কৃতি মাটিতে মিশিয়ে দেয়ার একটা ষড়যন্ত্র চলছে। অনেক হয়েছে, এবার বাংলার পরিচয় বদলকারী এ তৃণমূল কংগ্রেসকে বিদায় জানাতে তৈরি হয়েছে বাংলার মানুষ। এবার বাংলার পরিচয় বদল করার চেষ্টা যে করছে, তার বিদায় হবে।’
বিজেপিকে ভোট দিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় আনার আহ্বান জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বাংলার প্রত্যেক মা-বোনদের বলবো, বিজেপি আপনাদের সম্মান সমৃদ্ধির জন্য ময়দানে রয়েছে। বিজেপি সরকার আসলে নারীদের স্বয়ংসম্পূর্ণ করার রাস্তার তৈরি হবে। এ কারণে দেশের মা-বোনদের প্রথম পছন্দ বিজেপি। ৪ মের পর আপনাদের আশীর্বাদ নিয়ে ডবল ইঞ্জিনের সরকার তৈরি হবে। কোচবিহার এবং উত্তরবঙ্গের মানুষের সঙ্গে যে অন্যায় হয়েছে, তার অবসান ঘটবে— এটাই মোদির গ্যারান্টি।’
মোদি বলেন, ‘এবারের নির্বাচন আপনাদের বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করার। এ নির্বাচন এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, আপনারা বাংলার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করার জন্য ভোট দিন। আপনাদের ঘরের সুরক্ষার জন্য আপনাদের রোজগার নিশ্চিত করার জন্য, আপনার অধিকার রক্ষার জন্য আপনারা ভোট দিন। বিজেপি প্রার্থীদের ভোট দিয়ে পরিবর্তনের স্লোগানকে নিশ্চিত করুন।’





