তিনি আরও বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে যেকোনো চুক্তির শর্ত হিসেবে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হবে এবং তেল পরিবহনের জন্য সামুদ্রিক পথ পুনরুদ্ধার করতে হবে। এখন আমরা আলোচনা করছি, আর যদি আমরা কিছু করতে পারি, তাহলে ভালো হবে; কিন্তু ওদের এটা খুলতেই হবে।’
ট্রাম্প তার দাবির পুনরাবৃত্তি করে জানান, তিনি আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র ও রুয়ান্ডা, কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড, মিসর ও ইথিওপিয়া, সার্বিয়া ও কসোভো, ইসরাইল ও হামাস—এসব সংঘাত থামাতে সহায়তা করেছেন।
নিজের লিগ্যাসি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি চাই, আমার লিগ্যাসি শান্তির দূত হিসেবে তৈরি হোক, কারণ আমি সত্যিই বিশ্বাস করি, আমি শান্তির দূত। এখন যেমনটা মনে হচ্ছে, ঠিক তা নয়, কিন্তু আমি মনে করি, আমি শান্তির দূত।’
ভারত-পাকিস্তান প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যেও যুদ্ধ থামিয়েছি, আর তারা প্রায় সপ্তাহ খানেক ধরে লড়ছিল আমি থামিয়েছি। কীভাবে থামিয়েছি? আমি বলেছিলাম, যদি তোমরা লড়াই চালিয়ে যাও, আমি দুজনের ওপরই ২৫০ শতাংশ শুল্ক বসাবো।’
ট্রাম্প বলেন, ‘ওরা বললো, না, আপনি তা করতে পারেন না। আমি বললাম, আমি করছি। ঠিক আছে, আমরা আর লড়বো না। এভাবেই আমি তাদের যুদ্ধ থামালাম।’
আরও পড়ুন:
বক্তব্যের সময় ট্রাম্প মজা করে হরমুজ প্রণালিকে ‘স্ট্রেইট অব ট্রাম্প’ বলে উল্লেখ করেন; পরে নিজেকে সংশোধন করে তিনি বলেন, ‘মন্তব্যটি অনিচ্ছাকৃত ছিল না।’
ট্রাম্প বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা তৈরিতে ইরান দীর্ঘদিন ধরে ভূমিকা রেখে এসেছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের অপারেশন এপিক ফিউরির পর তাদের অবস্থান দুর্বল হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘৪৭ বছর ধরে ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যের ‘‘বুলি’’ হিসেবে দেখা হলেও এখন তারা আর ‘‘বুলি’’ নয়, তারা পালিয়ে বেড়াচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘অভিযানে ইরানের নেতৃত্ব, সশস্ত্র বাহিনী ও পারমাণবিক কর্মসূচি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
ইরানে হামলাকে ‘যুদ্ধ’ বলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ট্রাম্প একে সামরিক অভিযান হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ইরান সংঘাতে তাকে “সহায়তা” না করার অভিযোগ তুলে নর্থ আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা (ন্যাটো) নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, “ন্যাটো কাগুজে বাঘ।”
ট্রাম্প আবারও দাবি করেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানকে জোরালোভাবে আঘাত না করতো, তবে দেশটি দুই থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র পেয়ে যেত।’ সৌদি শ্রোতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ওরা এটা আপনাদের ওপর, ইসরাইলের ওপর, এবং অন্য সবার ওপর ব্যবহার করতো।’
এছাড়া কিউবা নিয়ে মার্কিন সম্ভাব্য পদক্ষেপের প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘আর কিউবাই পালা এর পরেই রয়েছে, তবে ধরে নিন আমি এটা বলিনি।’ এরপর তিনি বলেন, ‘মিডিয়া, অনুগ্রহ করে ওই বক্তব্য উপেক্ষা করুন। ধন্যবাদ। কিউবাই নেক্সট।’





