মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপচারিতার বিষয়ে অবগত একাধিক সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুবরাজ বিন সালমানের মতে, বর্তমান মার্কিন-ইসরাইলি সামরিক অভিযান মধ্যপ্রাচ্যকে নতুন করে সাজানোর একটি ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’।
গত এক সপ্তাহে বেশ কয়েক দফা ফোনালাপে যুবরাজ সালমান ট্রাম্পকে বুঝিয়েছেন যে, ইরানের কট্টরপন্থী সরকারের পতন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ চাপ অব্যাহত রাখতে হবে। যুবরাজের যুক্তি হলো—ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী হুমকি, যা এ শাসনের আমূল পরিবর্তন ছাড়া দূর করা সম্ভব নয়।
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুও ইরানকে দীর্ঘমেয়াদী হুমকি হিসেবে দেখেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইল ও সৌদি আরবের দৃষ্টিভঙ্গিতে একটি সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে।
আরও পড়ুন:
ইসরাইল হয়তো একটি ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ হিসেবে ইরানকে দেখতে পছন্দ করবে, যা অভ্যন্তরীণ সংকটে এতটাই জর্জরিত থাকবে যে ইসরাইলের জন্য হুমকি হতে পারবে না।
কিন্তু সৌদি আরব তার প্রতিবেশী দেশ ইরানে কোনো চরম বিশৃঙ্খলা বা ‘ফেইলড স্টেট’ পরিস্থিতি তৈরি হওয়াকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য সরাসরি এবং গুরুতর হুমকি মনে করে।
এদিকে, সৌদি ও মার্কিন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে যে, এ যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে ইরান সৌদি আরবের তেল স্থাপনাগুলোতে আরও ভয়াবহ হামলা চালাতে পারে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও একটি অন্তহীন যুদ্ধের জালে জড়িয়ে পড়ার শঙ্কায় রয়েছে।
অন্যদিকে প্রকাশ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থানে চরম অস্থিরতাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি কখনো যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার আভাস দিচ্ছেন, আবার কখনো যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছেন। গত সোমবার ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করেন যে, তার প্রশাসন এবং ইরান শত্রুতা নিরসনে ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’ করেছে। যদিও ইরান আলোচনার এ দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে।





