যাচাইহীন তথ্য দিয়েই ইরানের দিকে আঙুল তুলেছিলেন ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্প
ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: সংগৃহীত
1

যুক্তরাষ্ট একটি প্রাথমিক গোয়েন্দা মূল্যায়নের ভিত্তিতে ইরানের প্রাণঘাতী এক স্কুল হামলার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরুতেই ইরানকেই দায়ী করেছিলেন। তবে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই ব্যক্তির দাবি, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সেই মূল্যায়ন ভুল প্রমাণিত হয়; পরে অতিরিক্ত ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা যায়, স্কুলে আঘাত হানা ক্ষেপণাস্ত্রটি ছিল টমাহক। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) শুরুতে প্রেসিডেন্টকে জানায়, স্কুলে আঘাত হানা ক্ষেপণাস্ত্রটি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত কোনো গোলাবারুদ বলে তারা মনে করছে না। কারণ, এর পাখনাগুলোর অবস্থান এতটাই নিচের দিকে দেখা যাচ্ছিল যে সেটিকে টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বলে মনে হয়নি।

তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সিআইএ বুঝতে পারে, সেই প্রাথমিক মূল্যায়ন ভুল ছিল। অন্য কোণ থেকে ধারণ করা অতিরিক্ত ভিডিওতে স্পষ্ট হয় তারা, ক্ষেপণাস্ত্রটি আসলে একটি টমাহক। সংবেদনশীল আলোচনার বিষয় হওয়ায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই দুই ব্যক্তি এ তথ্য জানান।

আরও পড়ুন:

কিন্তু গত শনিবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সামনে বিষয়টি তোলার আগেই ট্রাম্প এই ব্যাখ্যায় স্থির হয়ে যান যে হামলার জন্য ইরান দায়ী। একই সময়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ তুলনামূলক সতর্ক ছিলেন তিনি শুধু বলেন, ‘বিষয়টি তদন্তাধীন।’

পরদিন এক সংবাদ সম্মেলনেও ট্রাম্প তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। ইরানের স্কুলে আঘাত হানা ক্ষেপণাস্ত্রটি যে টমাহক—এটি তিনি যেন মেনে নিয়েছিলেন। টমাহক এমন একটি ক্ষেপণাস্ত্র, যা শুধু যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য, জাপান ও অস্ট্রেলিয়াসহ হাতে গোনা কয়েকটি মিত্র দেশ ব্যবহার করে। তবু ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, এটি ইরানের ছিল।

এবার হালনাগাদ করা গোয়েন্দা তথ্যের বিষয়ে ট্রাম্পকে কখন অবহিত করা হয়েছিল, তা স্পষ্ট নয়।  

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলা সিআইএর এক সাবেক কর্মকর্তা বলেন, ‘ট্রাম্পকে প্রাথমিক তথ্য দেয়া ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ তিনি সেটিকে পুরোপুরি বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পরিণত করতে পারেন।’

এএম