আল-ইরাকিয়া নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সিকিউরিটি মিডিয়া সেলের লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাদ মান উম্ম কাসর বন্দরের কাছে তেল ট্যাংকার দুটিতে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘দুটি তেল ট্যাংকার নাশকতার শিকার হয়েছে।’ হামলাটি ইরাকের জলসীমার ভেতরে ঘটেছে বলে তিনি জানান।
নাবিকদের উদ্ধারে ছয়টি জাহাজ মোতায়েন করা হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ইরাক যাতে যুদ্ধে জড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’
এদিকে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার গভীর রাতে বিস্ফোরকবাহী ইরানি বোট দিয়ে হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে, যাতে ট্যাংকার দুটিতে আগুন ধরে যায়।
লক্ষ্যবস্তু জাহাজ দুটি হলো মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী ‘সেইফসি বিষ্ণু’ এবং ‘জেফাইরস’। ইরাকি বন্দর কর্মকর্তারা জানান, জাহাজ দুটিতে ইরাক থেকে জ্বালানি পণ্য তোলা হয়েছিল। এক নিরাপত্তা সূত্র জানায়, ‘জেফাইরস’ মাল্টার পতাকাবাহী।
আরও পড়ুন:
আন্তর্জাতিক তেল বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার মধ্যেই এ হামলার ঘটনা ঘটল।
ট্যাংকারে হামলার পর ইরানের সামরিক কমান্ডের মুখপাত্র এব্রাহিম জোলফাকারি সতর্ক করে বলেন, ‘আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার কারণে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।’ ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলে সংঘাত শুরুর পর থেকে উপসাগরে জাহাজে সন্দেহভাজন ১৩টি ইরানি হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই হামলায় সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ ১ হাজার ২০০ জনের বেশি নিহত এবং ১০ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন।
এর জবাবে তেহরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ইসরাইল, জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা রয়েছে।




