বাংলাদেশ ও ভারত থেকে কি দেখা যাবে? (Visibility in Bangladesh and India)
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, ১৭ ফেব্রুয়ারির এই সূর্যগ্রহণ বাংলাদেশ থেকে দেখা যাবে না। এমনকি প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকেও এই মহাজাগতিক ঘটনা (Celestial Event) উপভোগ করার সুযোগ নেই। দক্ষিণ এশিয়ার আকাশপ্রেমীদের জন্য এটি কিছুটা হতাশাজনক হলেও, বিশ্বের অন্যান্য কিছু প্রান্ত থেকে এটি আংশিক বা পূর্ণরূপে দেখা যাবে।
আরও পড়ুন:
গ্রহণের সময়সূচি (Eclipse Schedule)
নাসার তথ্য অনুযায়ী, গ্রহণটি শুরু হবে আন্তর্জাতিক সময় (UTC) সকাল ৭টা ১ মিনিটে। বাংলাদেশ সময় (Bangladesh Time) অনুযায়ী এটি দুপুর ১টা ১ মিনিটে শুরু হবে। বলয়াকার বা পূর্ণ অংশটি সর্বোচ্চ প্রায় ২ মিনিট ২০ সেকেন্ড স্থায়ী হতে পারে।
যেসব এলাকায় দেখা যাবে (Affected Areas)
এই সূর্যগ্রহণ মূলত অ্যান্টার্কটিকার দুর্গম এলাকা থেকে সবচেয়ে স্পষ্ট দেখা যাবে। এছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার কিছু দেশ এবং দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অংশে আংশিক সূর্যগ্রহণ (Partial Solar Eclipse) পরিলক্ষিত হবে। তবে এশিয়া মহাদেশের কোনো দেশ থেকেই এটি দৃশ্যমান হবে না।
সতর্কতা (Safety Precautions)
সূর্যগ্রহণ দেখার ক্ষেত্রে চোখের নিরাপত্তা অত্যন্ত জরুরি। সরাসরি খালি চোখে সূর্যের দিকে তাকালে চোখের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। তাই যারা এটি সরাসরি দেখার সুযোগ পাবেন, তাদের অবশ্যই অনুমোদিত সূর্যগ্রহণ চশমা (Solar Eclipse Glasses) ব্যবহার করতে হবে। সাধারণ চশমা বা এক্স-রে প্লেট দিয়ে এটি দেখা ঝুঁকিপূর্ণ।
আরও পড়ুন:
১৭ ফেব্রুয়ারি সূর্যগ্রহণ নিয়ে কয়েকটি প্রশ্নোত্তর-FAQ
প্রশ্ন: ১৭ ফেব্রুয়ারির সূর্যগ্রহণ কি বাংলাদেশ থেকে দেখা যাবে? (Is solar eclipse visible from Bangladesh?)
উত্তর: না, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর এই সূর্যগ্রহণ বাংলাদেশ থেকে দেখা যাবে না। এমনকি প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকেও এটি দৃশ্যমান হবে না।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী সূর্যগ্রহণ কখন শুরু হবে? (Solar eclipse timing in Bangladesh)
উত্তর: নাসা ও জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ১ মিনিটে এই মহাজাগতিক ঘটনাটি শুরু হবে।
প্রশ্ন: এবারের সূর্যগ্রহণকে ‘রিং অব ফায়ার’ (Ring of Fire) বলা হচ্ছে কেন?
উত্তর: চাঁদ যখন সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে আসে কিন্তু চাঁদ পৃথিবী থেকে দূরে থাকে, তখন সেটি সূর্যকে পুরোপুরি ঢাকতে পারে না। ফলে সূর্যের চারপাশে একটি উজ্জ্বল আগুনের বলয় দেখা যায়, যাকে ‘রিং অব ফায়ার’ বলা হয়।
প্রশ্ন: এটি কি পূর্ণগ্রাস নাকি আংশিক সূর্যগ্রহণ? (Total or Partial Solar Eclipse?)
উত্তর: এটি মূলত একটি বলয়াকার (Annular) সূর্যগ্রহণ। তবে যেসব এলাকা থেকে বলয়াকার রূপ দেখা যাবে না, সেখানে এটি আংশিক হিসেবে পরিলক্ষিত হবে।
প্রশ্ন: বিশ্বের কোন কোন দেশ থেকে এই সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে? (Which countries can see the eclipse?)
উত্তর: এই গ্রহণটি মূলত অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের দুর্গম এলাকা থেকে সবচেয়ে ভালো দেখা যাবে। এছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে, নামিবিয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অংশ থেকে এটি আংশিকভাবে দেখা যাবে।
প্রশ্ন: সূর্যগ্রহণ কতক্ষণ স্থায়ী হবে? (How long will the eclipse last?)
উত্তর: গ্রহণের বলয়াকার অংশ বা 'রিং অব ফায়ার' সর্বোচ্চ প্রায় ২ মিনিট ২০ সেকেন্ড স্থায়ী হতে পারে। তবে পুরো গ্রহণ প্রক্রিয়াটি কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হয়।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ থেকে পরবর্তী সূর্যগ্রহণ কবে দেখা যাবে? (When is the next solar eclipse in Bangladesh?)
উত্তর: ২০২৬ সালের এই গ্রহণটি দেখা না গেলেও, ২০২৭ সালের ২ আগস্ট বাংলাদেশ থেকে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রশ্ন: সূর্যগ্রহণ খালি চোখে দেখলে কি ক্ষতি হয়? (Is it harmful to watch with naked eyes?)
উত্তর: হ্যাঁ, খালি চোখে সূর্যের দিকে তাকালে চোখের রেটিনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং স্থায়ী অন্ধত্বও হতে পারে।
প্রশ্ন: এই সূর্যগ্রহণ দেখার নিরাপদ উপায় কী? (Safe way to watch solar eclipse)
উত্তর: যারা দৃশ্যমান এলাকায় থাকবেন, তাদের অবশ্যই ‘আইএসও ১২৩১২-২’ (ISO 12312-2) সার্টিফাইড সোলার গ্লাস বা সূর্যগ্রহণ দেখার চশমা ব্যবহার করতে হবে।
প্রশ্ন: গর্ভবতী মায়েদের জন্য সূর্যগ্রহণের সময় কি কোনো নিয়ম আছে?
উত্তর: বিজ্ঞান অনুযায়ী সূর্যগ্রহণের সাথে গর্ভবতী মা বা অনাগত সন্তানের কোনো সরাসরি ক্ষতির সম্পর্ক নেই। এগুলো মূলত প্রাচীন লোকবিশ্বাস বা কুসংস্কার।
প্রশ্ন: গ্রহণের সময় কি খাবার খাওয়া নিষেধ?
উত্তর: না, বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে সূর্যগ্রহণের সময় খাবার খাওয়া বা জলপান করায় কোনো বাধা নেই।
প্রশ্ন: সোলার চশমা না থাকলে কীভাবে গ্রহণ দেখা যায়?
উত্তর: পিনহোল প্রোজেক্টর (Pinhole Projector) বা টেলিস্কোপের মাধ্যমে দেয়ালে বা কাগজে সূর্যের প্রতিচ্ছবি তৈরি করে নিরাপদে গ্রহণ দেখা যায়।
প্রশ্ন: ক্যামেরা বা স্মার্টফোন দিয়ে কি সূর্যগ্রহণের ছবি তোলা যাবে?
উত্তর: সরাসরি স্মার্টফোন বা ক্যামেরা লেন্স সূর্যের দিকে ধরলে সেন্সর নষ্ট হয়ে যেতে পারে। বিশেষ সোলার ফিল্টার ব্যবহার না করে ছবি তোলা ঝুঁকিপূর্ণ।
প্রশ্ন: বাংলাদেশে কি এই গ্রহণের কারণে ‘সূতক কাল’ (Sutak Kaal) পালিত হবে?
উত্তর: ধর্মীয় বিধি অনুযায়ী, গ্রহণ যদি দৃশ্যমান না হয় তবে তার কোনো সূতক কাল বা ধর্মীয় প্রভাব কার্যকর হয় না। যেহেতু বাংলাদেশে এটি দেখা যাবে না, তাই এখানে সূতক কাল প্রযোজ্য নয়।
প্রশ্ন: অনলাইনে কি ১৭ ফেব্রুয়ারির সূর্যগ্রহণ সরাসরি দেখা যাবে? (Solar eclipse live stream)
উত্তর: হ্যাঁ, নাসা (NASA) এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্পেস এজেন্সি তাদের ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেলে এই মহাজাগতিক দৃশ্যটি সরাসরি সম্প্রচার করবে।





