ডোমিনিকা: এক নজরে (Dominica at a Glance):
- অবস্থান: ক্যারিবীয় অঞ্চলের পুয়ের্তো রিকো ও ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর মাঝখানে।
- আয়তন ও জনসংখ্যা: ৭৫০ বর্গ কিলোমিটার এবং জনসংখ্যা প্রায় ৭৩ হাজার।
- স্বাধীনতা: ১৯৭৮ সালে ব্রিটিশ কলোনি থেকে স্বাধীন হয়।
- বিশেষত্ব: সৈকতের চেয়ে সবুজ পর্বতমালা ও ইকো-ট্যুরিজমের (Eco-tourism) জন্য বিখ্যাত।
আরও পড়ুন:
প্রকৃতির অপার বিস্ময় (Natural Wonders of Dominica)
ডোমিনিকার রাজধানীর নাম রোসো (Roseau)। দেশটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর বিশাল রেইনফরেস্ট এবং সক্রিয় আগ্নেয়গিরি। এখানে রয়েছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বয়লিং লেক (Boiling Lake), যা ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট (UNESCO World Heritage Site) হিসেবে স্বীকৃত। ইকো-ট্যুরিজম (Eco-tourism) এর জন্য বর্তমানে ডোমিনিকা বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য।
কেন ডোমিনিকা বেছে নেবেন? (Why Choose Dominica)
ক্যারিবীয় অঞ্চলের শান্ত ও সুন্দর দেশ ডোমিনিকা (Dominica) বর্তমানে অভিবাসীদের জন্য অন্যতম আকর্ষনীয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে। কমনওয়েলথ অফ ডোমিনিকা (Commonwealth of Dominica) তার শক্তিশালী পাসপোর্ট এবং সহজ নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ার জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। আপনি যদি উন্নত জীবনযাপন বা ব্যবসায়িক প্রয়োজনে সহজে বিদেশ যেতে চান, তবে ডোমিনিকা হতে পারে আপনার সেরা পছন্দ।
ডোমিনিকার নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রধান আকর্ষণ হলো এর শক্তিশালী পাসপোর্ট (Powerful Passport)। ডোমিনিকার পাসপোর্ট দিয়ে বিশ্বের ১৪০টিরও বেশি দেশে ভিসা-মুক্ত ভ্রমণ (Visa-free Travel) সম্ভব, যার মধ্যে রয়েছে ইউরোপের শেনজেনভুক্ত দেশগুলো, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর এবং হংকং।
নাগরিকত্ব পাওয়ার উপায় (Ways to Get Dominica Citizenship)
ডোমিনিকায় সরাসরি যাওয়ার এবং নাগরিকত্ব পাওয়ার দুটি প্রধান মাধ্যম রয়েছে:
১. সরকারি তহবিলে অনুদান (Contribution to Govt. Fund): ডোমিনিকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন তহবিলে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ অনুদান দিয়ে দ্রুত নাগরিকত্ব পাওয়া যায়।
২. রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগ (Real Estate Investment): সরকারের অনুমোদিত আবাসন প্রকল্পে নির্দিষ্ট পরিমাণ বিনিয়োগ করেও নাগরিকত্বের আবেদন করা সম্ভব।
আরও পড়ুন:
ডোমিনিকা নাগরিকত্বের বিশেষ সুবিধাসমূহ (Key Benefits of Dominica Citizenship)
দ্বৈত নাগরিকত্ব (Dual Citizenship): ডোমিনিকা দ্বৈত নাগরিকত্ব সমর্থন করে, তাই আপনাকে আগের দেশের নাগরিকত্ব ছাড়তে হবে না। বাংলাদেশসহ অনেক দেশের নাগরিকদের জন্য ডোমিনিকা দ্বৈত নাগরিকত্বের সুযোগ দেয়।
ট্যাক্স সুবিধা (Tax Incentives): এখানে বিদেশে উপার্জিত অর্থ বা উত্তরাধিকার সম্পদের ওপর কোনো কর (Tax) দিতে হয় না।
স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ (Permanent Residency): কমনওয়েলথের সদস্য হওয়ায় নাগরিকরা ডোমিনিকায় স্থায়ীভাবে বাস ও কাজ করার পূর্ণ অধিকার পান।
দ্রুত প্রক্রিয়া (Fast Processing): সাধারণত ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যেই নাগরিকত্ব ও পাসপোর্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
আবেদন করার শর্তাবলী (Requirements for Application): আবেদনকারীর বয়স ১৮ বছরের বেশি হতে হবে এবং তার কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড (Criminal Record) থাকা চলবে না। এছাড়া বিনিয়োগের অর্থের উৎস স্বচ্ছ হতে হবে।
বিনিয়োগের হার (Investment Cost): ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, ডোমিনিকার নাগরিকত্ব পেতে ন্যূনতম ২ লাখ মার্কিন ডলার (USD 200,000) সরকারি তহবিলে অনুদান বা আবাসন খাতে বিনিয়োগ করতে হয়।
ভিসা-মুক্ত ভ্রমণ (Visa-free Travel): ডোমিনিকার পাসপোর্ট দিয়ে বিশ্বের ১৪০টির বেশি দেশে ভিসা ছাড়াই ভ্রমণ করা যায়।
আরও পড়ুন:
নাগরিকত্ব ও পাসপোর্টের সুবিধা (Citizenship by Investment & Passport Benefits)
ডোমিনিকা কমনওয়েলথ (Commonwealth) এর সদস্য হওয়ায় এর পাসপোর্টের গুরুত্ব অনেক বেশি। ডোমিনিকার বিনিয়োগের মাধ্যমে নাগরিকত্ব (Citizenship by Investment) প্রোগ্রামের অধীনে ২০২২ সাল থেকে ২০২৬ পর্যন্ত এর নিয়মে কিছু পরিবর্তন এলেও এর জনপ্রিয়তা কমেনি।
জলবায়ু ও টেকসই উন্নয়ন (Climate Resilience and Sustainability)
ডোমিনিকা প্রায়ই শক্তিশালী হারিকেন (Hurricane) এর সম্মুখীন হয়। তবে দেশটি বর্তমানে নিজেকে বিশ্বের প্রথম জলবায়ু সহনশীল দেশ (Climate Resilient Nation) হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে। দুর্যোগ-প্রতিরোধী অবকাঠামো এবং ইকো-ফ্রেন্ডলি রিসোর্ট (Eco-friendly Resort) নির্মাণের মাধ্যমে ডোমিনিকা পর্যটন শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন:
ঘূর্ণিঝড় বিধ্বস্ত ডমিনিকার পুনর্জন্ম: যেভাবে আয়ের প্রধান উৎস হলো ‘নাগরিকত্ব বিক্রি’
সাত বছর আগে এক ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছিল ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র ডমিনিকা (Dominica)। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মুষলধারে বৃষ্টিতে ধ্বংস হয়েছিল প্রায় সব ঘরবাড়ি, বিচ্ছিন্ন হয়েছিল বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা। এই ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশটিকে পুনর্গঠন করতে এবং ‘জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিশ্বের প্রথম জাতি’ (World's First Climate Resilient Nation) হিসেবে গড়ে তুলতে ডমিনিকা সরকার এক সাহসী ও আলোচিত সিদ্ধান্ত নেয়—আর তা হলো ‘সিটিজেনশিপ বাই ইনভেস্টমেন্ট’ (Citizenship by Investment) বা বিনিয়োগের বিনিময়ে নাগরিকত্ব প্রদান।
আয়ের উৎস যখন নাগরিকত্ব (Citizenship as a Source of Income)
দেশের সংকটাপন্ন অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী রুজভেল্ট স্কেরিট বিশ্ববাসীকে ডমিনিকায় বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানান। এর বিনিময়ে দেওয়া হয় ডমিনিকান নাগরিকত্বের প্রতিশ্রুতি। বর্তমানে এই কর্মসূচি থেকে প্রাপ্ত আয় দেশটির জিডিপির (GDP) প্রায় ৩০ শতাংশে পৌঁছেছে। ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ডমিনিকা নাগরিকত্ব বিক্রি করে ১০০ কোটি ডলারের (Over $1 Billion) বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছে।
নাগরিকত্ব পাওয়ার আইনি পথ (Legal Ways to Get Citizenship)
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বর্তমানে দুটি প্রধান পথ খোলা রয়েছে:
১. ইকোনমিক ডাইভারসিটি ফান্ড (Economic Diversity Fund): সরকারকে সরাসরি ১ লাখ ডলার অনুদান প্রদান।
২. রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগ (Real Estate Investment): অনুমোদিত প্রকল্পে কমপক্ষে ২ লাখ ডলার বিনিয়োগ।
আরও পড়ুন:
নিরাপত্তা উদ্বেগ ও সমালোচনা (Security Concerns and Criticisms)
দ্রুত নাগরিকত্ব দেওয়ার এই প্রক্রিয়াটি আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (European Union) এর কাছে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, অনেক ক্ষেত্রে অপরাধমূলক রেকর্ডের ব্যক্তিরাও এই সুযোগ ব্যবহার করছেন। তবে ডমিনিকা সরকার সাফ জানিয়েছে, ফৌজদারি মামলা বা অপরাধের রেকর্ড থাকা আবেদনকারীদের কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:





