ইরানকে পরমাণু চুক্তিতে বাধ্য করার পাশাপাশি বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধের দাবিতে বারবার সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর জের ধরে এরই মধ্যেই, ইসরাইলি বন্দর ইলাতে নোঙর করেছে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ। আর এসব ঘটনায় তেহরান-ওয়াশিংটন মধ্যকার উত্তেজনার পারদ ক্রমেই বাড়ছে।
এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। বললেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায়, তবে তা আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেবে।
ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেন, আমেরিকানরা বারবার আমাদের হুমকি দিয়েছে। বলেছে সব বিকল্প তাদের টেবিলে প্রস্তুত। যার মধ্যে যুদ্ধও রয়েছে। তারা সবসময় এই কথা বলছে। যুদ্ধ জাহাজও পাঠিয়েছে। কিন্তু ইরানি জাতি এসব হুমকিতে ভীত ও বিচলিত হবে না। তবে আমরা এর সূচনা করতে চাই না। কোনও দেশে আক্রমণ করতে চাই না। যদি ইরান আক্রান্ত হয় তবে তার জবাব দেয়া হবে। মার্কিনদের জানা উচিত, তারা যদি যুদ্ধ শুরু করে, তাহলে এবার এটি একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ হবে।
আরও পড়ুন:
খামেনির হুঁশিয়ারির পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তির বিষয়ে এখনও আশাবাদী তিনি। তবে যদি হামলা চালাতে হয় তা সত্যি আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেবে কি-না সে বিষয়টিও বিবেচনায় নেয়ার বার্তা দিলেন ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আমাদের কাছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ আছে। যা ইরানের খুব কাছাকাছি। তবে আশা করি আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাবো। যদি কোনও চুক্তি না হয়, তখন দেখা যাবে তিনি ঠিক বলেছেন কিনা।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলা হুমকির মধ্যে ইরানে জীবনযাত্রা ব্যয় আরও ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে। ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সংকটে হিমশিম খাচ্ছে জনগণ। এরমধ্যেও মার্কিন হামলা শঙ্কায় আতঙ্কিত নয় বলে জানিয়েছেন তেহরানবাসী। যুদ্ধ শুরু হলেও নিজ ভূখণ্ডে থেকে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন অনেকে।
তেহরানের একজন বাসিন্দা বলেন, গত বছর ১২ দিনের যুদ্ধের সময়ও আমি পালিয়ে যাইনি। আমি তেহরানেই ছিলাম। আমি কখনও যাবো না। সবকিছুর দাম বাড়তে থাকায় আমাদের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। আমরা কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।
এদিকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের নির্বিচারে হত্যা ও ব্যাপক দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলে সম্প্রতি আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আখ্যা দেয় ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এরজের ধরে ইইউ সেনাবাহিনীকেও এবার সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনায় নেয়ার ঘোষণা দিলেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ। ভিত্তিহীন অভিযোগে আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।





