এআইয়ে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে অ্যামাজন, ১৬ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা

বিশ্বের বৃহত্তম ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন
বিশ্বের বৃহত্তম ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন | ছবি: সংগৃহীত
0

খরচ কমিয়ে প্যাকেজিং এবং ডেলিভারির গতি বাড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে বিশ্বের শীর্ষ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন। যার কারণে এবার ১৬ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিলো প্রতিষ্ঠানটি। এতে তিন মাসে মোট ছাঁটাইয়ের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ৩০ হাজারে। এমনকি আরও ছাঁটাইয়ের ইঙ্গিত দিয়েছে অ্যামাজন। ফলে চাকরি হারানোর আতঙ্কে সময় কাটছে হাজার হাজার কর্মীর।

বৈশ্বিক চাকরির বাজারে দিন দিন হুমকি হয়ে উঠছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। যার জলজ্যান্ত উদাহরণ হয়ে ওঠেছে বিশ্বের শীর্ষ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন। খরচ কমাতে এআই খাতে বিনিয়োগ ও দক্ষতা বাড়াতে ইতোমধ্যেই ছাটাই শুরু করেছে হাজার হাজার কর্মী। এবার বছরের শুরুতেই ঘোষণা দিলো ১৬ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের।

২০২৫ সালের অক্টোবরে ১৪ হাজার কর্মী কমানোর তিন মাসের মাথায় এ নিয়ে কর্মী ছাঁটাইয়ের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ৩০ হাজারে। যা তিন দশকের মধ্যে মার্কিন প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বড় চাকরি ছাঁটাই। এমনকি ২০২৩ সালে ২৭ হাজার কর্মী ছাঁটাইকেও ছাড়িয়ে গেছে।

আরও পড়ুন:

বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিকে কর্মী সংখ্যা ১৫ লাখের বেশি। যার মধ্যে কর্পোরেট কর্মীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৩ লাখ। হিসেবে করলে দেখা যায় ৩০ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের সংখ্যাটি কর্পোরেট কর্মী সংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশের সমান। আরও ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা আছে বলে আভাসও দেয়া হয়েছে। বুধবার এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অ্যামাজনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট বেথ গ্যালেটি।

মোট কথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর হতে ওঠে পরে লেগেছে অ্যামাজন। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, কোভিড-১৯ মহামারীর সময় অতিরিক্ত নিয়োগ দিয়েছিলো তারা। কারণ তখন অনলাইন শপিংয়ের চাহিদাও ছিল আকাশচুম্বী। এখন চাহিদা থাকলেও প্যাকেজিং এবং ডেলিভারির গতি বাড়াতে মানব শ্রম নির্ভরতা কমিয়ে প্রতিষ্ঠানে খরচ কমানো মূল উদ্দেশ্য। এজন্য রোবোটিক্স প্রযুক্তি বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিনিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে গুদামগুলোতে।

এদিকে মঙ্গলবার ভুলবশত একটি ই-মেইলেও কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা ফাঁস হয় অ্যামাজনের। ছাঁটাই পরিকল্পনাটির নাম ছিলো "প্রজেক্ট ডন"। অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট কলিন অব্রের লেখা ই-মেইলটিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও কোস্টারিকা থেকে কিছু কর্মী ছাঁটাই করা যেতে পারে। খসড়া পরিকল্পনাটি ভুলবশত কিছু কর্মীর কাছে যেতেই দেশগুলোতে থাকা হাজার হাজার অ্যামাজন কর্মী চরম অস্থিরতায় সময় কাটাচ্ছেন।

ইএ