যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের নতুন শর্ত ‘ভিসা বন্ড’: কারা দেবেন, নতুন কর্মসূচির বৈশিষ্ট্য কী

মার্কিন ভিসা বন্ড
মার্কিন ভিসা বন্ড | ছবি: এখন টিভি
0

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশসহ ৩৮টি দেশের নাগরিকদের জন্য কঠোর ‘ভিসা বন্ড’ (Visa Bond) নীতি কার্যকর করতে যাচ্ছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী কঠোর পদক্ষেপের (US Visa Bond for Bangladeshi Citizens) অংশ হিসেবে বি-১ (ব্যবসায়িক) ও বি-২ (পর্যটন) ভিসাধারীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। বাংলাদেশিদের জন্য এই বিশেষ জামানত ব্যবস্থা আগামী ২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে। এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আগে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার (প্রায় ১৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা) পর্যন্ত ভিসা বন্ড (Visa Bond) বা জামানত জমা দিতে হতে পারে।

একনজরে ভিসা বন্ড কর্মসূচি (US Visa Bond: New Rules for Bangladeshi Citizens 2026)

  • কার্যকর তারিখ: ২১ জানুয়ারি ২০২৬ (বাংলাদেশিদের জন্য)।
  • বন্ডের পরিমাণ: $৫,০০০ থেকে $১৫,০০০ (ব্যক্তিভেদে)।
  • পেমেন্ট পোর্টাল: শুধুমাত্র Pay.gov।
  • প্রয়োজনীয় ফরম: DHS ফরম আই-৩৫২ (I-352)।
  • প্রবেশপথ: JFK, BOS, এবং IAD বিমানবন্দর।

ভিসা বন্ড কী এবং কেন? (What is US Visa Bond)

ভিসা বন্ড হলো একটি আর্থিক নিশ্চয়তা বা সিকিউরিটি ডিপোজিট। মূলত যেসব দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় থাকার (Overstay) প্রবণতা বেশি, তাদের ক্ষেত্রেই এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের (US State Department) মতে, অনেক বিদেশি পর্যটক ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশে ফেরেন না, যা অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা বাড়াচ্ছে। এই প্রবণতা রোধ করতেই ১২ মাসের এই পরীক্ষামূলক কর্মসূচি (Pilot Program) চালু করা হয়েছে।

কারা এই বন্ড দিতে বাধ্য? (Who Must Pay the Visa Bond)

যুক্তরাষ্ট্রের বি-১ (ব্যবসায়িক) ও বি-২ (পর্যটন) ভিসার (B1/B2 Visa) আবেদনকারীদের ওপর এই বন্ড কার্যকর হবে। বাংলাদেশিদের জন্য এই নিয়ম কার্যকর হচ্ছে আগামী ২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে। কনস্যুলার অফিসার আবেদনকারীর প্রোফাইল যাচাই করে বন্ডের পরিমাণ নির্ধারণ করবেন। বন্ডের পরিমাণ তিনটি স্তরে হতে পারে:

  • ৫,০০০ ডলার।
  • ১০,০০০ ডলার।
  • ১৫,০০০ ডলার।

বন্ড জমা ও ফেরতের নিয়ম (Payment and Refund Process)

আবেদনকারীকে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অনলাইন পোর্টাল Pay.gov-এর মাধ্যমে এই অর্থ জমা দিতে হবে।

টাকা ফেরত: যদি ভ্রমণকারী ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন এবং তার প্রস্থান রেকর্ড করা হয়, তবে এই অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেরত দেওয়া হবে।

বন্ড বাজেয়াপ্ত: যদি কেউ নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করেন (Visa Overstay), স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন করেন বা রাজনৈতিক আশ্রয় (Asylum) চান, তবে তার বন্ডের টাকা বাজেয়াপ্ত করা হবে।

আরও পড়ুন:

নির্ধারিত ৩ বিমানবন্দর ও শর্তাবলী (Designated Ports of Entry)

ভিসা বন্ড জমা দেওয়া যাত্রীদের জন্য সব বিমানবন্দর ব্যবহারের সুযোগ থাকবে না। তাদের অবশ্যই নিচের ৩টি বিমানবন্দরের যেকোনো একটি দিয়ে প্রবেশ ও প্রস্থান করতে হবে:

১. জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (JFK), নিউ ইয়র্ক।

২. বোস্টন লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (BOS)।

৩. ওয়াশিংটন ডুলাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (IAD)। অন্য কোনো পথে যাতায়াত করলে জামানতের টাকা ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

কেন এই ভিসা বন্ড কর্মসূচি? (US Visa Bond Pilot Program)

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মতে, ২০০০ সাল থেকে দেখা যাচ্ছে হাজার হাজার বিদেশি নাগরিক পর্যটন বা ব্যবসা ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলেও সময়মতো দেশ ছাড়েন না। ২০২৩ অর্থবছরেই প্রায় ৪ লাখ মানুষ ভিসার মেয়াদ শেষে অবৈধভাবে থেকে গেছেন। এই সংকট নিরসনে গত বছরের ২০ আগস্ট থেকে ১২ মাসের একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচি শুরু হয়, যা বি-১ (ব্যবসায়িক) ও বি-২ (পর্যটন) ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

আরও পড়ুন:

মার্কিন ভিসা বন্ড: ১৮ লাখ টাকা মওকুফের সুযোগ কি আছে? বাংলাদেশিদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ (US Visa Bond Waiver and Impact on Bangladesh)

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অভিবাসন নীতি অনুযায়ী, বাংলাদেশসহ নির্দিষ্ট দেশের ভ্রমণকারীদের জন্য ৫ থেকে ১৫ হাজার ডলারের ভিসা বন্ড (Visa Bond) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই নিয়মটি কার্যকর হওয়ার পর সাধারণ ভ্রমণকারীদের মনে বড় প্রশ্ন—এই বিপুল পরিমাণ টাকা কি মওকুফ বা ছাড় পাওয়ার কোনো সুযোগ আছে?

বন্ড মওকুফ বা ছাড়ের শর্তাবলী (US Visa Bond Waiver Conditions)

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর (US State Department) জানিয়েছে, ঢালাওভাবে সবাইকে এই বন্ড দিতে হবে না। তবে মওকুফ বা ছাড় পাওয়ার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত।

সরকারি ভ্রমণ: কেউ যদি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আমন্ত্রণে বা সরকারি কোনো দাপ্তরিক কাজে ভ্রমণে যান, তবে তিনি বন্ড মওকুফ পেতে পারেন।

মানবিক প্রয়োজন: অত্যন্ত জরুরি মানবিক বা চিকিৎসাজনিত কারণে (Emergency Humanitarian Needs) ভ্রমণে গেলে কনস্যুলার অফিসার চাইলে বন্ড মওকুফ করতে পারেন।

পর্যটক ও ব্যবসায়ী: সাধারণ পর্যটক (B2) বা ব্যবসায়িক (B1) ভ্রমণকারীদের জন্য এই ছাড় পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে।

আরও পড়ুন:

অতীতেও কি এমন নিয়ম ছিল? (Historical Context of Visa Bond)

ভিসা বন্ডের ধারণাটি আন্তর্জাতিকভাবে নতুন নয়, তবে এটি কার্যকর করা বেশ চ্যালেঞ্জিং:

নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য: নিউজিল্যান্ড একসময় ‘ওভারস্টে’ নিয়ন্ত্রণে এই ব্যবস্থা চালু করলেও পরে বাতিল করে। ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্যও ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশের জন্য এমন উদ্যোগ নিয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ: ২০২০ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন প্রথমবার এই বন্ড কর্মসূচি চালুর চেষ্টা করে। কিন্তু করোনা মহামারির (COVID-19) কারণে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তা আর আলোর মুখ দেখেনি। ২০২৬ সালে এসে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হচ্ছে।

বাংলাদেশের মধ্যবিত্তের ওপর প্রভাব (Impact on Bangladeshi Travelers)

বাংলাদেশ এই তালিকায় যুক্ত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা বড় ধরনের আর্থিক বাধার মুখে পড়তে যাচ্ছেন।

আর্থিক চাপ: ১৫ হাজার ডলার বা ১৮ লাখ টাকার জামানত জোগাড় করা মধ্যবিত্ত পর্যটক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য অনেক কঠিন হবে। যেহেতু এই টাকা ফেরতযোগ্য (Refundable), তাই এটি স্থায়ী খরচ নয়। তবে যারা নিয়ম ভেঙে থেকে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন, তাদের জন্য এটি একটি কঠোর সতর্কবার্তা। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর ফলে বাংলাদেশিদের মধ্যে ‘ভিসা ওভারস্টে’ করার হার কমে আসতে পারে।

ভিসা বন্ডের আওতায় থাকা দেশ ও সময়সূচী (Visa Bond Country List 2026)

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর (US State Department) মূলত সেই সব দেশকেই তালিকায় রেখেছে, যাদের নাগরিকদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত থাকার (Visa Overstay) হার সবচেয়ে বেশি।

১. ২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর (বাংলাদেশসহ ২৫টি দেশ):

সবচেয়ে বড় তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। এই দেশগুলোর নাগরিকদের আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে বন্ড জমা দিতে হবে:

  • বাংলাদেশ (Bangladesh)
  • আলজেরিয়া (Algeria)
  • অ্যাঙ্গোলা (Angola)
  • অ্যান্টিগুয়া অ্যান্ড বারবুডা (Antigua and Barbuda)
  • বেনিন (Benin)
  • বুরুন্ডি (Burundi)
  • কেপ ভার্দে (Cape Verde)
  • আইভরি কোস্ট (Ivory Coast)
  • কিউবা (Cuba)
  • জিবুতি (Djibouti)
  • ডোমিনিকা (Dominica)
  • ফিজি (Fiji)
  • গ্যাবন (Gabon)
  • কিরগিজস্তান (Kyrgyzstan)
  • নেপাল (Nepal)
  • নাইজেরিয়া (Nigeria)
  • সেনেগাল (Senegal)
  • তাজিকিস্তান (Tajikistan)
  • টোগো (Togo)
  • টোঙ্গা (Tonga)
  • টুভ্যালু (Tuvalu)
  • উগান্ডা (Uganda)
  • ভানুয়াতু (Vanuatu)
  • ভেনেজুয়েলা (Venezuela)
  • জিম্বাবুয়ে (Zimbabwe)

২. ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর (৭টি দেশ):

  • ভুটান (Bhutan)
  • বতসোয়ানা (Botswana)
  • মধ্য আফ্রিকা প্রজাতন্ত্র (Central African Republic)
  • গিনি (Guinea)
  • গিনি বিসাউ (Guinea-Bissau)
  • নামিবিয়া (Namibia)
  • তুর্কমেনিস্তান (Turkmenistan)

৩. অক্টোবর ২০২৫ থেকে কার্যকর (৪টি দেশ):

  • মৌরিতানিয়া (Mauritania) - ২৩ অক্টোবর
  • সাও তোমে ও প্রিন্সিপে (Sao Tome and Principe) - ২৩ অক্টোবর
  • তানজানিয়া (Tanzania) - ২৩ অক্টোবর
  • গাম্বিয়া (Gambia) - ১১ অক্টোবর

৪. ২০ আগস্ট ২০২৫ থেকে কার্যকর (২টি দেশ):

  • মালাবি (Malawi)
  • জাম্বিয়া (Zambia)

এই তালিকার দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য মার্কিন ভিসা পাওয়া এখন অনেক বেশি ব্যয়বহুল এবং চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ালো। কারণ, একজন আবেদনকারীকে ভিসা ফি-র পাশাপাশি অতিরিক্ত ৫ লক্ষ থেকে ১৮ লক্ষ টাকা আলাদাভাবে সরিয়ে রাখতে হবে, যা ফেরতযোগ্য হলেও বড় একটি আর্থিক চাপ।

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড (US Visa Bond) সংক্রান্ত সাধারণ জিজ্ঞাসা (US Visa Bond for Bangladeshis 2026)-FAQ

প্রশ্ন: ভিসা বন্ড (Visa Bond) আসলে কী?

উত্তর: এটি একটি আর্থিক গ্যারান্টি বা জামানত। যেসব দেশের নাগরিকদের ভিসার মেয়াদ শেষে অতিরিক্ত সময় থাকার (Overstay) প্রবণতা বেশি, তাদের শর্ত সাপেক্ষে এই টাকা জমা দিতে হয়। এটি নিশ্চিত করে যে ভ্রমণকারী ভিসার শর্ত মেনে সময়মতো দেশ ছাড়বেন।

প্রশ্ন: এই নিয়ম কি সব বাংলাদেশির জন্য প্রযোজ্য?

উত্তর: না, এটি শুধুমাত্র বি-১ (ব্যবসায়িক) এবং বি-২ (পর্যটন) ভিসার আবেদনকারীদের জন্য প্রযোজ্য হতে পারে। স্টুডেন্ট ভিসা বা ওয়ার্ক ভিসার ক্ষেত্রে এটি কার্যকর নয়।

প্রশ্ন: বন্ডের টাকার পরিমাণ কত এবং এটি কে নির্ধারণ করে?

উত্তর: বন্ডের পরিমাণ ৩টি স্তরে হতে পারে— ৫,০০০ ডলার, ১০,০০০ ডলার অথবা ১৫,০০০ ডলার। ভিসা ইন্টারভিউয়ের সময় কনস্যুলার অফিসার আবেদনকারীর প্রোফাইল ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে এটি নির্ধারণ করবেন।

প্রশ্ন: ১৫,০০০ মার্কিন ডলার বাংলাদেশি টাকায় কত হয়?

উত্তর: বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী ১৫,০০০ ডলার প্রায় ১৮ লাখ ৩৫ হাজার থেকে ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার সমান।

প্রশ্ন: বাংলাদেশিদের জন্য এই নিয়ম কবে থেকে কার্যকর হবে?

উত্তর: বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য এই নিয়ম ২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে।

প্রশ্ন: বন্ডের টাকা জমা দেওয়ার সঠিক পদ্ধতি কী?

উত্তর: শুধুমাত্র মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অফিশিয়াল পোর্টাল Pay.gov-এর মাধ্যমে অনলাইনে এই অর্থ জমা দিতে হবে। কনস্যুলার অফিসার নির্দেশ দেওয়ার পরই কেবল টাকা জমা দেওয়া যাবে।

প্রশ্ন: টাকা কি ফেরত পাওয়া যায়?

উত্তর: হ্যাঁ, এটি একটি ফেরতযোগ্য জামানত (Refundable Deposit)। যদি ভ্রমণকারী ভিসার শর্ত মেনে সঠিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন, তবে এই অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেরত দেওয়া হবে।

প্রশ্ন: কোন কোন পরিস্থিতিতে বন্ডের টাকা বাজেয়াপ্ত হতে পারে?

উত্তর: অনুমোদিত সময়ের চেয়ে বেশি দিন অবস্থান করলে, ভিসার ধরন পরিবর্তনের আবেদন করলে, কিংবা রাজনৈতিক আশ্রয় (Asylum) দাবি করলে বন্ডের টাকা বাজেয়াপ্ত হবে।

প্রশ্ন: বন্ডের টাকা জমা দিলে কি ভিসা পাওয়ার গ্যারান্টি আছে?

উত্তর: না, বন্ড জমা দেওয়া মানেই ভিসা নিশ্চিত নয়। ভিসা পাওয়ার জন্য অন্যান্য সব যোগ্যতা ও শর্ত পূরণ করতে হবে।

প্রশ্ন: ভিসা বন্ড দিলে কোন কোন বিমানবন্দর দিয়ে যাতায়াত করা যাবে?

উত্তর: বন্ড প্রদানকারী যাত্রীদের অবশ্যই নিউ ইয়র্ক (JFK), বোস্টন (BOS), অথবা ওয়াশিংটন (IAD) বিমানবন্দর ব্যবহার করতে হবে। অন্য বিমানবন্দর ব্যবহার করলে টাকা ফেরত পেতে জটিলতা হতে পারে।

প্রশ্ন: ভিসা রিজেক্ট হলে কি বন্ডের টাকা ফেরত পাওয়া যাবে?

উত্তর: হ্যাঁ, যদি বন্ড জমা দেওয়ার পর কোনো কারণে ভিসা রিজেক্ট হয়, তবে সেই টাকা ফেরত পাওয়া যাবে।

প্রশ্ন: বন্ড জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে কি দালালের সহায়তা নেওয়া যাবে?

উত্তর: একদমই না। কোনো তৃতীয় পক্ষ বা দালালের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করা যাবে না। শুধুমাত্র সরকারি পোর্টালে (Pay.gov) নিজের কার্ড বা অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

প্রশ্ন: 'আই-৩৫২' (Form I-352) ফরমটি কী?

উত্তর: এটি হলো ইমিগ্রেশন বন্ড ফরম। কনস্যুলার অফিসার নির্দেশ দিলে এই ফরমটি পূরণ করে বন্ডের শর্তাবলীতে সম্মতি দিতে হয়।

প্রশ্ন: আগে থেকে ভিসা নেওয়া থাকলে কি বন্ড দিতে হবে?

উত্তর: না, যাদের কাছে আগে থেকেই বৈধ মার্কিন ভিসা আছে, তাদের ওপর এই নতুন নিয়ম কার্যকর হবে না। এটি শুধুমাত্র নতুন আবেদনকারীদের জন্য।

প্রশ্ন: জরুরি প্রয়োজনে আমেরিকা যেতে চাইলেও কি বন্ড লাগবে?

উত্তর: কিছু বিশেষ মানবিক কারণ বা সরকারি কাজের ক্ষেত্রে কনস্যুলার অফিসার চাইলে এই বন্ডের শর্ত মওকুফ করতে পারেন, তবে তা সম্পূর্ণ তাদের বিবেচনার ওপর নির্ভর করে।

এসআর