সম্প্রতি ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানান, তিনি আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা করেন না। ট্রাম্পের এ অবস্থানের বিষয়ে জানতে চাইলে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক নিয়মিত ব্রিফিংয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানান।
তিনি বলেন, ‘মহাসচিবের বার্তা অত্যন্ত স্পষ্ট, আমরা আইনের শক্তিতে বিশ্বাসী, শক্তির আইনে নয়।’
মুখপাত্র আরও মনে করিয়ে দেন, এ আন্তর্জাতিক আইনগুলো সদস্য রাষ্ট্রগুলো নিজেরাই তৈরি করেছে, তাই এগুলো সম্মান করা তাদের নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব।
ট্রাম্প প্রশাসন থেকে জাতিসংঘের ৩১টি সংস্থা থেকে সদস্যপদ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়া হলেও এখন পর্যন্ত এর কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিফলন দেখা যায়নি। ডুজারিক জানান, জাতিসংঘের আইনি বিভাগে এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কোনো দাপ্তরিক বার্তা বা নোটিফিকেশন পৌঁছায়নি।
আরও পড়ুন:
হোয়াইট হাউসের ঘোষণা অনুযায়ী পররাষ্ট্র দপ্তরকে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেয়া হলেও বাস্তবে এর প্রয়োগ নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে।
জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেটে বড় ধরনের বকেয়া নিয়ে বিপাকে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত নিয়মিত বাজেটে কোনো অর্থই পরিশোধ করেনি ওয়াশিংটন। জাতিসংঘ সনদ বা ‘আর্টিকেল ১৯’ অনুযায়ী, যদি কোনো রাষ্ট্র টানা দুই বছর অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হয়, তবে তারা সাধারণ পরিষদে ভোটাধিকার হারাবে। মুখপাত্র জানান, নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কেবল কূটনৈতিক টানাপোড়েন নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিবর্ষণের একটি ভিডিওকে ‘অত্যন্ত বিচলিত করার মতো’ বলে আখ্যা দিয়েছে বিশ্ব সংস্থাটি।
একইসঙ্গে মার্কিন জনগণের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার রক্ষার আহ্বান জানিয়ে গুলিবর্ষণের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জবাবদিহিতা দাবি করা হয়েছে।





