মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বৈশ্বিক অর্থনীতি। বড় ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে ভারতের জ্বালানি খাতে। দক্ষিণ ভারতের উপকূলীয় শহর মঙ্গালুরুতে মাছ ধরার কার্যক্রম প্রায় স্থগিত হয়ে পড়েছে। রান্নার গ্যাসের ঘাটতির কারণে অনেক জেলে সমুদ্রে যেতে পারেননি। কারণ খাবার রান্নার জন্য এলপিজি সিলিন্ডারের ওপরই তাদের নির্ভর করতে হয়।
ভোটচালক একজন বলেন, ‘নৌকা চালানোর সময় প্রায় ১০-১৫ দিন সমুদ্রে থাকতে হয়। তাই, রান্নার কাজসহ সবকিছুই সমুদ্রেই হয়। পারস্যের নৌকায় কমপক্ষে ৪০ জন জেলে থাকে এবং ট্রলার নৌকায় প্রায় ১০ জন জেলে থাকে। তাই রান্নার গ্যাস জরুরি।’
আরও পড়ুন:
মার্চের প্রথমার্ধে ভারতের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি খুচরা বিক্রেতাদের এলপিজি বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এর প্রধান কারণ পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়া।
ভারত তার আমদানিকৃত এলপিজির প্রায় ৯০ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে কিনে থাকে। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় সরবরাহে বড় ধরনের বাধা তৈরি হয়।
তবে সীমিত পরিসরে কিছু জাহাজ চলাচল আবার শুরু হয়েছে। ভারতীয় পতাকাবাহী এলপিজি পরিবহণকারী জাহাজ ‘শিভালিক’ গতকাল (সোমবার, ১৬ মার্চ) হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে মুন্দ্রা পোর্টে পৌঁছেছে। এর আগে আরেকটি জাহাজ ‘নন্দা দেবি’ একই পথে প্রায় ৯২ হাজার টন এলপিজি নিয়ে যাত্রা সম্পন্ন করে।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে ভারতের জ্বালানি সরবরাহ ও বাজারে চাপ আরও বাড়তে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ ভোক্তা এবং বিভিন্ন শিল্পখাতে।





