নকল বাড়ি বানিয়ে মহড়া, যেভাবে মাদুরোকে তুলে নেয় যুক্তরাষ্ট্র

যেভাবে মাদুরোকে তুলে নেয় যুক্তরাষ্ট্র
যেভাবে মাদুরোকে তুলে নেয় যুক্তরাষ্ট্র | ছবি: এখন টিভি
0

ভেনেজুয়েলার দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে (Nicolas Maduro) এক নজিরবিহীন ও নাটকীয় সামরিক অভিযানের মাধ্যমে আটক করেছে মার্কিন কমান্ডোরা। এই আটক করার পেছনে ছিল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিশেষ বাহিনীর এক অবিশ্বাস্য ও নিখুঁত পরিকল্পনা। ড্রোন, ব্লোটর্চ থেকে শুরু করে পোষা প্রাণীর ওপর নজরদারি—সব মিলিয়ে এই অভিযানটি হলিউড সিনেমাকেও হার মানিয়েছে। অত্যন্ত গোপনে পরিচালিত এই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘অপারেশন অ্যাবসলিউট রিজলভ’ (Operation Absolute Resolve)।

পোষা প্রাণীর ওপর নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা (Intelligence and Surveillance on Pets)

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা মাসের পর মাস ধরে ৬৩ বছর বয়সী মাদুরোর প্রতিটি পদক্ষেপের ওপর কড়া নজর রাখছিলেন। তিনি কী খাচ্ছেন, কোথায় ঘুমাচ্ছেন বা কী পরছেন—সবই ছিল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর (US Intelligence Agencies) নখদর্পণে। এমনকি মাদুরোর পোষা প্রাণীগুলোর ওপরও নজর রাখা হতো যাতে তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। ভেনেজুয়েলা সরকারের ভেতরের একটি সূত্র এই নজরদারিতে সরাসরি সহায়তা করেছিল।

আরও পড়ুন:

নকল বাড়ি বানিয়ে মহড়া (Mock House and Delta Force Rehearsals)

মাদুরো কারাকাসের যে বাড়িতে (সেফ হাউস) থাকতেন, যুক্তরাষ্ট্রে ঠিক তেমন একটি বাড়ির নকল কাঠামো (Mock structure) তৈরি করা হয়েছিল। মার্কিন এলিট ফোর্সের সদস্যরা (US Elite Forces) দীর্ঘ সময় ধরে সেই বাড়িতে ঢোকার কৌশল এবং রুট নিয়ে মহড়া চালিয়েছিলেন। বাড়িতে প্রবেশের প্রতিটি পথ এবং প্রতিবন্ধকতা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়েছিল।

অপারেশন অ্যাবসলিউট রিজলভ (Operation Absolute Resolve Details)

ডিসেম্বরের শুরুর দিকে এই অভিযানের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়। লাতিন আমেরিকায় স্নায়ুযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের এমন সামরিক হস্তক্ষেপ (US Military Intervention) আর দেখা যায়নি। পুরো বিষয়টি এতটাই গোপন রাখা হয়েছিল যে, এমনকি মার্কিন কংগ্রেসকেও (US Congress) এ বিষয়ে আগাম কিছু জানানো হয়নি।

মোক্ষম সময়ের অপেক্ষা ও ট্রাম্পের অনুমোদন (Waiting for Right Moment and Trump's Approval)

অভিযানের চার দিন আগে একবার প্রস্তুতি নেওয়া হলেও খারাপ আবহাওয়ার কারণে তা পিছিয়ে যায়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) আগে থেকেই অভিযানের অনুমোদন দিয়ে রেখেছিলেন। শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল ড্যান কেইন জানান, বড়দিন ও নতুন বছরের ছুটির সময়টাতেও মার্কিন সেনারা ধৈর্যের সাথে সঠিক পরিস্থিতির জন্য অপেক্ষা করছিলেন।

আরও পড়ুন:

‘গুড লাক অ্যান্ড গডস্পিড’: ট্রাম্পের নির্দেশে ২ ঘণ্টা ২০ মিনিটের শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে ধৃত মাদুরো

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার চূড়ান্ত ক্ষণটি ছিল নাটকীয়তায় ঠাসা। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৪৬ মিনিটে হোয়াইট হাউস থেকে সবুজ সংকেত আসে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি মাত্র বাক্য—‘গুড লাক অ্যান্ড গডস্পিড’ (Good Luck and Godspeed)—এর মাধ্যমেই শুরু হয় আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম বড় সামরিক অভিযান।

চূড়ান্ত মুহূর্তের বর্ণনা দিলেন ট্রাম্প (Trump’s account of the final moments)

শনিবার সকালে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’-এ (Fox & Friends) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই সেই মুহূর্তের বর্ণনা দেন। তিনি জানান, তারা গত কয়েক দিন ধরেই সঠিক সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন। ট্রাম্প বলেন, “আমরা চার দিন আগে, তিন দিন আগে, এমনকি দুই দিন আগেও এটা করতে চেয়েছিলাম। হঠাৎ সুযোগ এল, আর আমরা বললাম, শুরু করো।”

২ ঘণ্টা ২০ মিনিটের নজিরবিহীন অভিযান (Unprecedented 2 hour 20 minute operation)

কারাকাসে যখন মধ্যরাত, রাতের সেই ঘন আঁধারে আকাশ, স্থল ও নৌ—তিন পথেই (Air, land, and sea operations) চালানো হলো এই নজিরবিহীন অভিযান। মোট ২ ঘণ্টা ২০ মিনিটের এই অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে পুরোপুরি স্তব্ধ করে দেওয়া হয়। মার্কিন বাহিনীর এই অভিযানের ব্যাপকতা ও নিখুঁত পরিকল্পনা (Perfect planning and execution) দেখে হতবাক হয়ে গেছে পুরো বিশ্ব।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও লুলার নিন্দা (International response and Lula’s condemnation)

মাদুরোকে এভাবে আটকের ঘটনায় দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা ইনাসিও লুলা দা সিলভা (Lula da Silva) এই অভিযানের কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এভাবে সহিংস উপায়ে কোনো দেশের নেতাকে আটক করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত’ (Extremely dangerous precedent) হয়ে থাকবে।

আরও পড়ুন:

মার-এ-লাগো থেকে ‘টিভি শো’ স্টাইলে মাদুরো অপারেশন দেখলেন ট্রাম্প: কারাকাসে ১৫০ বিমানের হামলা ও ব্ল্যাকআউট

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে (Nicolas Maduro) আটক করার পুরো প্রক্রিয়াটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করেছেন। হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমের পরিবর্তে ফ্লোরিডার বিলাসবহুল রিসোর্ট মার-এ-লাগো (Mar-a-Lago) থেকেই পরিচালিত হয় এই ঐতিহাসিক অভিযান।

মার-এ-লাগোতে ট্রাম্পের ‘অপারেশন রুম’ (Trump monitoring from Mar-a-Lago)

শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি আক্ষরিক অর্থেই এটি একটি টানটান উত্তেজনার টিভি শো (Watching like a TV show) দেখার মতো করে উপভোগ করেছেন। তার পাশে ছিলেন সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ (CIA Director John Ratcliffe) এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও (Marco Rubio)। বড় পর্দায় লাইভ ফিডের মাধ্যমে তারা দেখেন কীভাবে মার্কিন এলিট ফোর্স মাদুরোর দুর্গে হানা দিচ্ছে। ট্রাম্প বলেন, “কী গতি, কী তীব্রতা!... ওরা দারুণ কাজ করেছে।”

১৫০ বিমানের মহাযজ্ঞ ও আকাশপথের দখল (150+ aircraft in Operation Absolute Resolve)

মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার গভীর রাতে পরিচালিত এই অভিযানে ১৫০টিরও বেশি বিমান (150+ aircraft) অংশ নেয়। এর মধ্যে ছিল:

  • অত্যাধুনিক বোমারু বিমান (Bombers)
  • যুদ্ধবিমান (Fighter jets)
  • গোয়েন্দা ও নজরদারি বিমান (Surveillance planes)

ট্রাম্প ফক্স নিউজকে (Fox News) বলেন, “যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলার জন্য আমাদের যুদ্ধবিমান প্রস্তুত ছিল। পুরো বিষয়টি ছিল অত্যন্ত জটিল ও বিশাল এক আয়োজন।”

বিশেষ প্রযুক্তিতে কারাকাসে ব্ল্যাকআউট (Special technology for Caracas blackout)

অভিযান সফল করতে মার্কিন বাহিনী বিশেষ সাইবার ও ইলেকট্রনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুরো কারাকাস শহরের বিদ্যুৎ সংযোগ (Power cut in Caracas) বিচ্ছিন্ন করে দেয়। ট্রাম্পের ভাষায়, “বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা শহরের বাতিগুলো নিভিয়ে দিয়েছিলাম। পরিবেশটা ছিল অন্ধকার ও ভয়ংকর।” এই অন্ধকারের সুযোগ নিয়েই নিচু দিয়ে চক্কর দেওয়া হেলিকপ্টার থেকে কমান্ডোরা মাদুরোর ডেরায় অবতরণ করেন।

কারাকাসে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী (Explosions and smoke in Caracas)

কারাকাসের স্থানীয় সময় রাত দুইটার দিকে বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো শহর। বিবিসি (BBC) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, মুহুর্মুহু বিস্ফোরণে জানালার কাঁচ পর্যন্ত কেঁপে উঠছিল। হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল:

  • লা কার্লোটা বিমানঘাঁটি (La Carlota Airbase)
  • লা গুয়াইরা বন্দর (La Guaira Port)
  • ভেনেজুয়েলার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Venezuelan Air Defense)

আরও পড়ুন:

‘ওরা জানত আমরা আসছি’: ইস্পাতের দরজা কেটে মাদুরোর শোবার ঘরে ডেল্টা ফোর্স, যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক তোলপাড়

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে যখন মার্কিন যুদ্ধবিমানের বোমা বর্ষণ চলছিল, ঠিক তখনই স্থলপথে মাদুরোর সুরক্ষিত ডেরায় হানা দেয় যুক্তরাষ্ট্রের চৌকস ডেল্টা ফোর্স (Delta Force)। সিবিএস নিউজ (CBS News) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সূত্রমতে, এই অভিযানটি ছিল অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত কিন্তু ভয়ংকর রকমের শক্তিশালী।

ব্লোটর্চ ও দুর্ভেদ্য দুর্গে হানা (Using blowtorches on the 'Fortress')

জেনারেল ড্যান কেইন জানান, শনিবার রাত ২টা ১ মিনিটে ডেল্টা ফোর্সের সদস্যরা মাদুরোর বাড়ির সামনে পৌঁছান। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভাষায়, বাড়িটি ছিল এক দুর্ভেদ্য দুর্গের মতো। ভারি অস্ত্রের পাশাপাশি সেনাদের কাছে ছিল বিশেষ ব্লোটর্চ (Blowtorches), যা দিয়ে তারা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে মাদুরোর বাড়ির মজবুত ইস্পাতের দরজা কেটে ভেতরে ঢুকে পড়েন। ট্রাম্প বলেন, “ওরা জানত আমরা আসছি এবং মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত ছিল।”

শোবার ঘর থেকে আটক ও গোলাগুলি (Dragged from bedroom and gunfight)

সেনারা পৌঁছামাত্রই সেখানে ব্যাপক গোলাগুলি শুরু হয়। এমনকি একটি মার্কিন হেলিকপ্টারে গুলি লাগলেও সেটি উড্ডয়ন ক্ষমতা হারায়নি। সিএনএন-এর (CNN) রিপোর্ট অনুযায়ী, কমান্ডোরা বাড়ির ভেতরে ঢুকে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে (Cilia Flores) তাদের শোবার ঘর থেকেই টেনেহিঁচড়ে বের করে আনেন। মাদুরো পালানোর চেষ্টা করলেও ডেল্টা ফোর্সের অবিশ্বাস্য গতির সামনে তিনি অসহায় হয়ে পড়েন।

ওয়াশিংটনে ডেমোক্র্যাটদের ক্ষোভ (Outrage from Congressional Democrats)

অভিযানটি সফল হলেও মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এটি ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ডেমোক্র্যাট দলীয় শীর্ষ নেতারা কংগ্রেসকে আগে না জানানোয় ক্ষুব্ধ।

চাক শুমার (Chuck Schumer): সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা বলেন, “মাদুরো একজন অবৈধ স্বৈরশাসক হতে পারেন, কিন্তু কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এমন সামরিক অভিযান চালানো বেপরোয়া আচরণ।”

টিম কেইন ও জিম ম্যাকগভার্ন: তারা এই হামলাকে ‘অসাংবিধানিক’ এবং ‘অবৈধ যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

হোয়াইট হাউসের সাফাই (White House's justification)

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও (Marco Rubio) ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনার জবাবে বলেন, অভিযানের গোপনীয়তা বজায় রাখতেই আগে জানানো হয়নি। আগে জানালে বড় ধরনের তথ্যের ফাঁসের (Information leak) ঝুঁকি থাকত। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও যোগ করেন, “কংগ্রেসের পেটে কথা থাকে না, তথ্য ফাঁস করার প্রবণতা আছে তাদের।”

আরও পড়ুন:

সেফ রুমে গিয়েও রক্ষা হয়নি মাদুরোর: দরজায় পৌঁছানোর আগেই জাপটে ধরল মার্কিন সেনারা

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর (Nicolas Maduro) দীর্ঘ স্বৈরশাসনের অবসান ঘটল এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানের মধ্য দিয়ে। মার্কিন এলিট ফোর্সের সদস্যরা যখন তার প্রাসাদে হানা দেয়, তখন তিনি মরিয়া হয়ে জীবন বাঁচাতে তার ‘সেফ রুমে’ (Safe room) আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সামনে সেই চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে।

মাত্র ৪৭ সেকেন্ডের দূরত্ব (Just 47 seconds away from destruction)

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) জানিয়েছেন, মাদুরো যদি তার সেফ রুমে ঢুকতে সক্ষম হতেন, তবুও তিনি বাঁচতে পারতেন না। কারণ, মার্কিন সেনাদের কাছে এমন বিস্ফোরক ছিল যা দিয়ে মাত্র ৪৭ সেকেন্ডের মধ্যে সেই ঘরের দরজাও উড়িয়ে দেওয়া সম্ভব ছিল। ট্রাম্পের ভাষায়, “মাদুরো দৌড়ে দরজার কাছে পৌঁছেছিলেন ঠিকই, কিন্তু সেটি আর বন্ধ করতে পারেননি। এর আগেই তাঁকে জাপটে ধরা হয়।”

কিউবার দেহরক্ষী ও প্রাণহানির ঝুঁকি (Cuban bodyguards and risk of death)

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মাদুরো তার নিরাপত্তার জন্য কিউবার দেহরক্ষীদের (Cuban bodyguards) ওপর নির্ভরতা বাড়িয়েছিলেন। আটকের সময় মাদুরো যদি সশস্ত্র বাধা দিতেন, তবে তাকে হত্যা করা হতো কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি বলেন, “তেমনটা ঘটতেই পারত।” এই অভিযানে কোনো মার্কিন সেনা নিহত না হলেও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

৫ কোটি ডলারের পুরস্কার ও গ্রেপ্তার (50 million dollar bounty and arrest)

মাদুরোকে গ্রেপ্তারে সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র আগেই ৫ কোটি ডলার (50 million dollars) পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। শনিবার স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ২০ মিনিটে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে (Cilia Flores) নিয়ে ভেনেজুয়েলা ছাড়ে মার্কিন হেলিকপ্টার। ট্রাম্প হেলিকপ্টারটি ওড়ার ঠিক এক ঘণ্টা পর বিশ্ববাসীকে এই খবর দেন।

নিউইয়র্কে বিচারের মুখোমুখি (Facing trial in New York)

বর্তমানে মাদুরো ও তার স্ত্রী মার্কিন বিচার বিভাগের (US Department of Justice) হেফাজতে রয়েছেন। তাদের সরাসরি নিউইয়র্কে (New York) নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানে তাদের বিরুদ্ধে মাদক পাচার এবং নারকো-টেররিজমের মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধে বিচার শুরু হবে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “তাদের শিগগিরই আমেরিকার কঠোর বিচারব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে।”

আরও পড়ুন:

এসআর