শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার পর ঈদুল ফিতর উদযাপনের আনন্দে মেতে ওঠার কথা থাকলেও ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজাবাসীর চিত্রটা একেবারেই ভিন্ন। ইসরাইলি আগ্রাসনে খুশির সময়টাতেও হত্যার শিকার হচ্ছেন তারা। বাস্তুচ্যুতদের তাঁবুতেও চালানো হচ্ছে হামলা।
এতে প্রাণহানির তালিকা যেমন বাড়ছে তেমনি বাড়ছে মানবিক সংকটও। কারণ খাদ্য ও অন্যান্য পণ্য প্রবেশে বাধা দেয়ার প্রায় এক মাস পর রমজান শেষে দুয়ারে এসেছে ঈদ। এমন পরিস্থিতিতে ধ্বংস্তুপের নগরীতে বিষাদে রূপ নিয়েছে নিরীহ ফিলিস্তিনিদের ঈদ আনন্দ। স্বজনহারা মানুষের চোখ দিয়ে অঝোর ধারায় ঝরছে অশ্রু। সর্বত্র কেবল হাহাকার।
আরো পড়ুন: সৌদি আরব, ইরান-ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যে ঈদ আজ
বাসিন্দাদের একজন বলেন, ‘এটি গণহত্যা এবং অপরাধ, যা পুরো বিশ্বের কাছে স্পষ্ট। মনে হচ্ছে বিশ্ব আমাদের দিকে তাকিয়ে পাবজি শুটিং গেম ভিডিও গেম দেখছে।’
আরেকজন বলেন, ‘ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় সন্তান হারা অনেক বাবা-মায়ের বুক যেমন খা খা করছে; তেমনি বেঁচে থাকা শিশুদের মুখে ঈদের আনন্দ ফুটিয়ে তোলার প্রাণপণ চেষ্টা অভিভাবকদের।’
বাসিন্দাদের আরেকজন বলেন, ‘আজ ঈদ এসেছে তবুও আনন্দ নেই। তাই আমরা শত্রুদের কিছুতেই পরোয়া করবো না। আমরা একদিন জয়ী হবো।’
আরো পড়ুন: শোলাকিয়ায় বৃহত্তম ঈদ জামাতের প্রস্তুতি, নিরাপত্তা জোরদার
এ অবস্থায় মিশর ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে পাওয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়েছে হামাস প্রধান। এরপর পাল্টা প্রস্তাব জমা দিয়েছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ।
গাজার হামাস প্রধান খলিল আল-হাইয়া বলেন, ‘আমরা মিশর এবং কাতারের মধ্যস্থতাকারী ভাইদের কাছ থেকে একটি প্রস্তাব পেয়েছি। পরে ইতিবাচকভাবে বিবেচনায় নিয়ে এতে সম্মত হয়েছি। আমরা আশা করি দখলদারা মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করবে না।’
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনে প্রাণহানি বেড়ে ৫০ হাজার ২শ' ছাড়িয়েছে।