দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদুল ফিতর। আর কিশোরগঞ্জে দেশের সবচেয়ে বড় ঈদ জামাতের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ। এবারের ঈদুল ফিতরের জামাত হবে ১৯৮তম। জামাত শুরু হবে সকাল ১০টায়। দীর্ঘ ১৫ বছর পর ইমামতি করবেন সাবেক ইমাম মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ ছাইফুল্লাহ।
শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবক, পৌরসভা এবং স্থানীয়রা। মাঠে দাগ কাটা, বালু ফেলা, দেয়ালে রং, ওজুখানা ও টয়লেট সংস্কার সবকিছুতেই ছুঁয়ে আছে ঈদের স্পর্শ।
আরো পড়ুন: সৌদি আরব, ইরান-ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যে ঈদ আজ
তবে প্রশ্ন রয়ে যায় কেন এই আয়োজন কেবল একদিনের জন্য? বছরের বাকি সময় এই ঐতিহাসিক মাঠটি পড়ে থাকে অবহেলা আর অযত্নে। মুসল্লিদের চাওয়া শোলাকিয়া হোক সারা বছরের যত্নে গড়া একটি গর্বের স্থাপনাও।
স্থানীয়দের একজন বলেন, 'ছোট থেকে আমরা এখানে নামাজ পড়ছি। প্রতিবছরই এখানে লাখ লাখ মানুষ একসঙ্গে নামাজ পড়ি।'
নিরাপত্তার চাদরে মোড়ানো হচ্ছে পুরো মাঠ। থাকবে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও আনসার। থাকবে সাদা পোশাকের গোয়েন্দা সদস্য। সিসি ক্যামেরা, অস্থায়ী ওয়াচ টাওয়ার ও ড্রোন ক্যামেরায় নিবিড় পর্যবেক্ষণ।
আরো পড়ুন: সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে মৌলভীবাজারে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত
কিশোরগঞ্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী বলেন, ‘১১০০ মতো সদস্য আমাদের বিভিন্ন জায়গায় থাকবে। সেক্ষেত্রে পোশাকে, সাদা পোশাক ও ট্রাফিক ডিউটিতে থাকবে।’
মাঠে প্রবেশে স্পষ্ট নির্দেশনা জায়নামাজ ও মোবাইল ছাড়া অন্য কিছু বহন করা যাবে না। মুসল্লিদের যাতায়াতে শোলাকিয়া স্পেশাল নামে দুটি বিশেষ ট্রেন ছেড়ে যাবে ভৈরব ও ময়মনসিংহ থেকে সকাল ৮টায়।
আরো পড়ুন: চাঁপাইনবাবগঞ্জে অনুষ্ঠিত হলো ঈদুল ফিতরের নামাজ
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে বাংলাদেশে রেলওয়ে দুইটি স্পেশাল ট্রেনের ব্যবস্থা করেছে।’
১৮২৮ সালের সেই সোয়া লাখ মুসল্লির জামাত এখন ইতিহাসের গর্ব। জামাত শেষে মুসলিম উম্মার শান্তি কামনায় করা হবে প্রার্থনা।
শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের ইমাম মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ ছাইফুল্লাহ বলেন, ‘রাসূল (সা:) বলেছেন যে জামাতে মুসল্লি বেশি হয় সেখানে সোয়াবও বেশি হয়। আমরা দেশবাসীর জন্য শান্তি কামনায় প্রার্থনা করবো।’
জনশ্রুতি রয়েছে, কোন এক জামাতে সোয়া লাখ মুসল্লি এক সাথে নামাজ আদায় করেছিলেন। সেই থেকে এ মাঠের নাম হয় 'সোয়া লাখিয়া' যা এখন শোলাকিয়া নামেই পরিচিত।