প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার সময় ২০১৮ সালে ঐতিহাসিক ইরান পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাম প্রত্যাহার করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যার ফলে খাদের কিনারায় পৌঁছে যায় ইরানের অর্থনীতি। তবে এরপরও পারমাণবিক অস্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ইউরেনিয়াম উত্তোলন নাটকীয় মাত্রায় জোরদার করে ইরান। পৌঁছে যায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের লক্ষ্যে।
অস্ত্রভাণ্ডার আধুনিকায়ন ও বৃদ্ধিতে অনেকটা যে এগিয়েছে ইরান, তা স্পষ্ট দেশটির সাম্প্রতিক সামরিক মহড়াগুলোতে। এ অবস্থায় দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা বাড়ান ট্রাম্প। দেশটির ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের কর্মসূচি হাতে নেয়ার পর চলতি সপ্তাহে ইরান সরকারের সাথে পারমাণবিক শান্তি চুক্তি নিয়ে কাজ করার আগ্রহও জানান মার্কিন রাষ্ট্রপ্রধান। এতে সাড়া দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে ইরান। তবে ট্রাম্পের চাপে নত না হওয়ার সিদ্ধান্তে অটল দেশটি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাকচি বলেন, 'যদি ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণ বন্ধ করা মূল লক্ষ্য হয়, তাহলে বলবো এটি কোনো অসম্ভব কিংবা জটিল প্রক্রিয়া নয়। সর্বোচ্চ চাপপ্রয়োগের চেষ্টা একটি ব্যর্থ কৌশল বলে আমি মনে করি। দ্বিতীয়বার এ চেষ্টা আরেকটি ব্যর্থতাই শুধু ডেকে আনবে।'
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, 'যুদ্ধ আমাদের পক্ষে নেই। পারমাণবিক অস্ত্রের পথেও আমরা হাঁটছি না। ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতে আমাদের বিপ্লবী নেতা যুদ্ধের বিরুদ্ধে ফতোয়া দিয়েছেন। এমনকি যারা নিজেদের যুদ্ধের পক্ষে বলে দাবি করেছিলেন, তারাও এদেশকে পারমাণবিক অস্ত্রের দিকে নিতে পারেননি। কারণ ইরানের প্রতিরক্ষার মতবাদেও নিরীহ মানুষকে হত্যা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।'
বিশ্লেষণধর্মী প্ল্যাটফর্ম ওয়ার অন দ্য রকস বলছে, ইরানের সাথে সংকট নিরসনের বিরল আর স্বল্পস্থায়ী সুযোগ আছে ট্রাম্পের। কারণ বহু বছর পর মধ্যপ্রাচ্যে ইরান এবং হামাস-হিজবুল্লাহসহ দেশটির ছায়া বাহিনীগুলোর সক্ষমতা কমেছে। সবচেয়ে বড় কৌশলগত সম্পদ হিসেবে ইরান যে ছায়া বাহিনীগুলোর নেটওয়ার্ক পুনর্গঠন করবে, তাতে সন্দেহ নেই কোনো। তাই ডোনাল্ড ট্রাম্পই হয়তো পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার নির্মাণ করা থেকে ইরানকে ঠেকাতে সক্ষম শেষ মার্কিন রাষ্ট্রপ্রধান। ইরানের ইতিবাচক সাড়ার প্রেক্ষিতে সরাসরি সংঘাতের চেয়ে ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তিতেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন ট্রাম্প নিজেও।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, 'ইরান খুব একনিষ্ঠভাবে আমাদের কথা শুনছে। খুব ভালো একটি চুক্তিতে যদি পৌঁছাতে পারি আমরা, দারুণ হবে। যে চুক্তির মাধ্যমে মানুষের প্রাণ বাঁচবে। আমি আশা করছি যে চরম এক বিপর্যয় এড়িয়ে ভালো কিছু করতে পারবো আমরা। কোনো বিপর্যয় দেখতে চাই না।'
আদৌ কি ইরানের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতি ফেরাতে সফল হবেন ট্রাম্প? বলে দেবে সময়, চলছে ক্ষণগণনা।