আক্ষরিক অর্থে না হলেও, গেল মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের সংবাদ সম্মেলনে পরপর দু'টি বোমা ফাটিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীকে পাশে বসিয়ে ঘোষণা দিয়েছেন, গাজা পুনর্গঠনের দায়িত্ব নেবে যুক্তরাষ্ট্র। প্রস্তাব দিয়েছেন গাজার বাসিন্দাদের অন্যদেশের ভূখণ্ডে সরিয়ে নেয়ার।
ট্রাম্পের এমন প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে, ভেস্তে যাবে ফিলিস্তিনিদের স্বাধীন হওয়ার স্বপ্ন, বন্ধ হয়ে যাবে দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের পথও। যদিও সৌদি আরব, রাশিয়া, চীন, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য, ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া- এমনকি খোদ যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন সিনেটরও সম্মত নন ট্রাম্পের প্রস্তাবে। জাতিসংঘ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের পাশাপাশি ক্ষুব্ধ ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী অসংখ্য দেশি-বিদেশি সংগঠন।
ক্ষমতায় বসার প্রথমদিন থেকে ঝড়ের গতিতে নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর থেকে শুরু করে প্রতিদিনই কোনো না কোনো মন্তব্য করে নাটকীয়তার জন্ম দিচ্ছেন নয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট। মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষকরা মনে করেন, গাজা পুনর্গঠনের উদ্দেশে উপত্যকাটি দখলে নিয়ে বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের যে প্রস্তাব দিয়েছেন ট্রাম্প, তা সেই নাটকেরই একটি অংশ।
লেবাবন আমেরিকান ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক রামি খৌরি বলেন, ‘ট্রাম্প নাটকীয়তা পছন্দ করেন। জনগণ ও রাষ্ট্রযন্ত্রকে চমকে দিতে ভালোবাসেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিও ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত সমর্থন করে। চল্লিশ- পঞ্চাশ বা ষাট বছরেরও বেশি সময় ধরে ইসরাইলের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত সম্পর্ক আছে। চলতি শতকের শুরু থেকে ব্রিটিশদের পর উগ্র সাম্রাজ্যবাদী ও আধিপত্যবাদী মনোভাব নিয়ে মধ্যপ্রাচ্য শাসন করতে চেয়েছে মার্কিনরা।’
যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই পরিকল্পনার অন্য অর্থ আছে বলে দাবি করছেন মার্কিন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, অতীতেও ট্রাম্প আলোচনার প্যারামিটার নতুন করে নির্ধারণ করতে একই ধরনের চাল চেলেছেন। হামাস-ইসরাইলের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতির সমঝোতা হয়েছে সেখানে নিজের আধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণ বাড়াবেন বলে গাজা পুনর্গঠনের নামে একপ্রকার হুমকি দিচ্ছেন ট্রাম্প।
স্কাই নিউজ বিশেষ প্রতিবেদক ও বিশ্লেষক অ্যানালিস নিয়েলসন বলেন, ‘ট্রাম্প এভাবেই কাজ করেন। নিজের ইচ্ছামতো সমঝোতার প্যারামিটার নির্ধারণ করেন। এমন পরিস্থিতিতে সবাই আতঙ্কে থাকে, ট্রাম্প কখন কী বলে ফেলবেন! এমন পরিকল্পনার প্রস্তাব করেন যেটা কেউ ভাবতেও পারে না। শেষ পর্যন্ত দেখা যায়, ট্রাম্প মুখে যা ইচ্ছা বলেলেও, তার উদ্দেশ্য ঠিকই পূরণ হচ্ছে।’
এদিকে, ট্রাম্পের এমন ঘোষণার পর ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া নিয়েও সৃষ্টি হয়েছে ধোঁয়াশা। বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু বলছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাব আমলে নেয়া উচিত। খোদ ইসরাইলি গণমাধ্যম বলছে, গাজাবাসীদের অন্যত্র সরিয়ে নিতে ট্রাম্প যে প্রস্তাব করেছেন তা বাস্তাবসম্মত নয়। তবে, টাইমস অব ইসরাইল বলছে, নয়া মার্কিন প্রেসিডেন্টের পরিকল্পনা নিয়ে মন্ত্রিসভার সদস্যদের সাথে আলোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেল আবি