বিদেশে এখন

শতাব্দীর ভয়াবহ বন্যার কবলে চীন

শতাব্দীর ভয়াবহ বন্যার কবলে চীন। কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও ভূমিধসে ঝুঁকির মুখে পড়েছে ১২ কোটির বেশি মানুষ। দেশটির কয়েকটি প্রদেশের নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ১১ লাখের বেশি মানুষ।

চীনের প্রধান রপ্তানি ও অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র গুয়াংডং প্রদেশ। সবচেয়ে জনবহুল এই প্রদেশে কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিতে দেখা দিয়েছে শতাব্দীর ভয়াবহ বন্যা। বন্যার ঝুঁকিতে থাকা প্রদেশের ১২ কোটি ৭ লাখ বাসিন্দার সুরক্ষায় ইতিমধ্যে জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

প্রাদেশিক রাজধানী গুয়াংজুসহ শিজিয়াং, বেইজিয়াং প্রদেশের প্রধান নদ-নদীর কয়েকটি অংশে পানির স্তর বেড়ে গেছে বহুগুণ। যা গত ৫০ বছরের মধ্যে বিরল ঘটনা। পরিস্থিতিকে ভয়াবহ আখ্যা দিয়েছে স্থানীয় আবহাওয়া অফিস।

শনিবার (২১ এপ্রিল) রাত থেকে শুরু হওয়া ভারি বৃষ্টিপাতে গুয়াংডং প্রদেশ এবং ঝাওকিং, শাগুয়ান, কিংগুয়ানসহ বেশকিছু অঞ্চল বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। বেশিরভাগ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের হেঝো শহরে একদিনে ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে ৬৫টি। বন্যার পানিতে আটকা পড়েছেন কয়েক লাখ মানুষ। এখনো নিখোঁজ ১১ জন। তবে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে প্রায় ৮০ হাজার বাসিন্দাকে।

পানির তোড়ে বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে পড়েছে লোকালয়ে। ধসে পড়েছে কয়েক ডজন ঘরবাড়ি। মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শহরের রাস্তাঘাট। এছাড়া, বিদ্যুৎকেন্দ্রে পানি ঢুকে পড়ায় বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে সাড়ে ১১ লাখ বাসিন্দার ঘরবাড়ি।

গুয়াংডং প্রদেশের তিনটি শহরে ১ হাজার ১০৩টি কিন্ডারগার্টেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল সোমবার পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বৈরি আবহাওয়ায় বাতিল ও বিলম্বিত হয়েছে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট।

গুয়াংডং ও প্রতিবেশি ফুজিয়ান উপকূলীয় এলাকায় আরও দুই থেকে তিনদিন ভারী বৃষ্টিপাতের আভাস দিয়েছে চীনের আবহাওয়া অফিস। রাজধানী বেইজিংসহ আরও কয়েকটি অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে।

ইএ

এই সম্পর্কিত অন্যান্য খবর