মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে পণ্যের দাম বেড়ে গেছে, যেন দ্রব্যমূল্যে লেগেছে যুদ্ধের আগুন। যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতেও পড়েছে বড় ধাক্কা। জ্বালানি সরবরাহে ঝুঁকি বাড়ায় তেলের দাম ঊর্ধ্বগতি, লন্ডনসহ সারা দেশে জ্বালানির দাম প্রতি লিটারে ২ পাউন্ডের রেকর্ড ছুঁইছুঁই। যার প্রভাব পড়ছে নিত্যপণ্যে। বাসাবাড়ির গ্যাস বিলও বেড়েছে। এতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ বাড়ছে এবং জীবনযাত্রা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
যুক্তরাজ্যের প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে একজন বলেন, ‘ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আসলে বিশ্বজুড়েই নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে। যুক্তরাজ্যজুড়েও আমরা সেই প্রভাব দেখতে পাচ্ছি। বিশেষ করে সুপার মার্কেটগুলোতে।’
আরেক প্রবাসী বাংলাদেশি বলেন, ‘শেষ দু’মাস যুক্তরাজ্যে বিদ্যুৎ বিল যেমন ছিল, তার চেয়ে বর্তমানে বেশি আসছে।’
চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বড় ধাক্কা লাগতে পারে যুক্তরাজ্যর অর্থনীতিতে। গ্যাস ও তেলের পর্যাপ্ত মজুত ব্যবস্থা না থাকায় ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে একটু বেশিই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে যুক্তরাজ্য। সরবরাহশৃঙ্খল ব্যাহত হলে ব্যবসা ও শিল্পখাত চাপে পড়বে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধ দীর্ঘ হলে মুদ্রাস্ফীতি বাড়বে, জীবনযাত্রার ব্যয় সামলানো আরও কঠিন হয়ে উঠবে।
আরও পড়ুন:
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ব্যারিস্টার নাজির আহমদ বলেন, ‘সরকার এরই মধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিতে চলেছে। সবকিছু মিলে আগামী কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ ইরান যুদ্ধ কোন দিকে যাচ্ছে, সেটার ওপর নির্ভর করবে যে, অর্থনীতি কোন দিকে যাবে। সবকিছু বিবেচনায়, দ্রব্যমূল্য বাড়বে, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমবে। বলা যায়, দারুণ কঠিন এক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি।’
অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভস বলেন, ‘যুদ্ধের প্রভাব এখনই নির্দিষ্টভাবে বলা কঠিন। পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত। তবে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও আন্তর্জাতিকভাবে সমন্বয় করছে সরকার।’
মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তাল পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি সংকটে নড়বড়ে যুক্তরাজ্য। লন্ডনসহ দেশজুড়ে পেট্রোলের দাম লিটারপ্রতি প্রায় ৭০ পেনস বেড়ে ২ পাউন্ডের কাছাকাছি পৌঁছেছে, বন্ধ হচ্ছে বহু পাম্প। পাইকারি দামের চাপে ক্ষুদ্র বিক্রেতারা পড়েছেন চরম লোকসানে, এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।





