ইসরাইলি কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর এ যাবৎকালের সবচেয়ে উত্তপ্ত কথোপকথন ছিল এটি। এক কর্মকর্তার মতে, এই তথ্য ফাঁস হওয়ায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন নেতানিয়াহু। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ প্রথম এই খবরটি জানায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈরুতে নতুন করে বিমান হামলার হুমকি দেয়ায় নেতানিয়াহুর ওপর চরম চটেছিলেন ট্রাম্প। তিনি সরাসরি বলেন, ‘সবাই এখন তোমাকে ঘৃণা করে। এসবের কারণে সবাই এখন ইসরাইলকেও ঘৃণা করছে।’
মূলত ইরান যখন সতর্ক করেছে যে লেবাননে ইসরাইলি হামলা বন্ধ না হলে তারা শান্তি আলোচনা থেকে সরে দাঁড়াবে, তখনই ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে বৈরুতে হামলা না করার নির্দেশ দেন। ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া এক সমঝোতার পর তিনি দাবি করেন যে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহ গোলাগুলি বন্ধে একমত হয়েছে। তবে এই ঘটনায় ইসরাইলি বিরোধী দলগুলো ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বিরোধী দলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ একে ইসরাইলের ‘সার্বভৌমত্ব বিসর্জন’ এবং দেশটিকে আমেরিকার একটি ‘অধীনস্থ রাজ্যে’ পরিণত করার শামিল বলে মন্তব্য করেছেন।
ইসরাইলি থিঙ্কট্যাংক ‘মিতভিম’-এর প্রেসিডেন্ট নিমরোড গোরেন বলেন, আগে দুই দেশের মতপার্থক্যগুলো রুদ্ধদ্বার বৈঠকে সমাধান হলেও এখন তা সম্পূর্ণ জনসমক্ষে চলে এসেছে। যদিও গত এক বছরে দুবার ইরানের ওপর হামলা চালিয়ে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে বড় বিজয় এনে দিয়েছিলেন, কিন্তু বর্তমানে ট্রাম্পের কিছু পদক্ষেপ ইসরাইলের স্বার্থের পরিপন্থী বলে মনে করছেন অনেকে। এর মধ্যে ইয়েমেনে হুথিদের ওপর হামলা বন্ধ করা এবং সিরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার মতো সিদ্ধান্তগুলো অন্যতম।
সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করলেও ইরান ইস্যুতে ওয়াশিংটনের বর্তমান শান্তি আলোচনায় ইসরাইলের সরাসরি কোনো ভূমিকা নেই। এই আলোচনা চলছে পাকিস্তানের মাধ্যমে, যার সঙ্গে ইসরাইলের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্কই নেই। এদিকে ইসরাইলের ভেতরে এই যুদ্ধ জনপ্রিয় হলেও যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের কট্টর সমর্থকদের মধ্যেও যুদ্ধের বিরুদ্ধে জনমত জোরালো হচ্ছে। ট্রাম্প এখন দ্রুত এই যুদ্ধ শেষ করতে চান, কারণ যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি তাঁর জন্য বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নেতানিয়াহুর সাবেক উপদেষ্টা নাদাভ স্ট্রকলার মনে করেন, ট্রাম্পের সঙ্গে বিবাদের খবরটি যতটা প্রচার হচ্ছে বাস্তবতা হয়তো ততটা খারাপ নয়। তবে ইরান ও হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধ যদি ট্রাম্পের চাপে হঠাৎ শেষ হয়ে যায়, তবে তা হবে নেতানিয়াহুর জন্য বড় পরাজয়। তিনি বলেন, ‘এখানকার (ইসরাইলের) কেউ চায় না যে আমাদের আমেরিকার পতাকার আরেকটি তারকা হিসেবে গণ্য করা হোক। আমরা আমাদের স্বাধীনতা অনুভব করতে চাই।’





