বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে ভারতের কাছে যুদ্ধবিমান বিক্রি বাড়াবে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য
0

বাংলাদেশে ক্ষমতা পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপ স্টেটের ভূমিকা ছিল না বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটিতে সফররত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন তিনি। এসময় মোদিকে এ বিষয়ে কথা বলতে বললেও বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি। এদিকে, ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়িয়ে ৫০ হাজার কোটি ডলারে উন্নীত করতে সম্মত হয়েছে দেশ দুটি। ট্রাম্প বলেছেন, বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে তেল-গ্যাস রপ্তানি বাড়ানোর পাশাপাশি ভারতের কাছে যুদ্ধবিমান বিক্রি বাড়াবে যুক্তরাষ্ট্র।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশের সরকারপ্রধান হিসেবে নরেন্দ্র মোদির যাত্রা অব্যাহত থাকলেও বিশ্ব রাজনীতিতে সবচেয়ে প্রতাপশালী দেশটির মসনদে এক মেয়াদ বিরতি দিয়ে ফিরেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মাঝখানে প্রায় পাঁচ বছর বিরতির পর প্রথম সাক্ষাতেই পরমবন্ধুর মতো একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন হাস্যোজ্জ্বল দুই নেতা।

দুদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ওয়াশিংটনে অবস্থান করছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ওভাল অফিসে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাথে দেখা করেন তিনি। পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপ আর বাণিজ্য যুদ্ধের ছায়া ঘিরে থাকার মধ্যেই আগামী ছয় বছরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ দ্বিগুণ বাড়িয়ে ৫০ হাজার কোটি ডলারে নেয়ার ঘোষণা দেন মোদি। বৈঠক শেষে জানান, ভারতের জ্বালানি খাতে সহযোগিতা করবে মার্কিন প্রশাসন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণের বেশি বাড়িয়ে ৫০ হাজার কোটি ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি আমরা। খুব শিগগিরই দুপক্ষের স্বার্থ রক্ষা করে, এমন একটি বাণিজ্য চুক্তির কাজ শেষ করতে আমাদের প্রতিনিধিরা কাজ করবেন। ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই আমরা। তাই তেল ও গ্যাস থাকবে বাণিজ্যের কেন্দ্রে।’

বাণিজ্য ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের মতের অমিল থাকলেও বৈঠকে দুই নেতার ব্যক্তিগত সুসম্পর্কের প্রভাব স্পষ্ট ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় আলোচনা শেষে দুই দেশের মধ্যে বড় জ্বালানি চুক্তির ঘোষণা দেন ট্রাম্প। জানান, বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে তেল-গ্যাস রপ্তানি বৃদ্ধির পাশাপাশি ভারতের কাছে এফ থার্টি ফাইভ যুদ্ধবিমানসহ সামরিক সরঞ্জাম বিক্রিও বাড়াবে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘বর্তমানে ভারতের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলার। দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা এই ভারসাম্যহীনতা থেকে বেরিয়ে আসতে আলোচনা শুরু করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও আমি একমত হয়েছি। বিশ্বে যে কারো তুলনায় আমাদের যেটি সবচেয়ে বেশি, সেই তেল, গ্যাস, এলএনজি বিক্রি করে বাণিজ্য ঘাটতি থেকে সহজেই বেরিয়ে আসতে পারবো আমরা।’

ট্রাম্প-মোদির বৈঠকে আলোচনার অন্যতম ইস্যু ছিল অভিবাসন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে হাজারও অবৈধ অভিবাসীকে ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে সম্মতি দেন মোদি। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ ইস্যুতেও শান্তির বার্তা দিয়ে জানান দ্রুত অস্ত্রবিরতি কার্যকরের আহ্বান।

এদিকে, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা নেই উল্লেখ করে প্রতিবেশি হিসেবে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর ওপর উত্তর দেয়ার দায়িত্ব ছেড়ে দেন ট্রাম্প। তবে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে ইউক্রেন-রাশিয়া ইস্যুতে কথা বলতে শুরু করেন মোদি।

এর আগে মহাকাশ, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন ইস্যুতে মার্কিন শিল্পপতি ও ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম কর্মকর্তা ইলন মাস্কের সঙ্গেও বৈঠক করেন মোদি। মাস্ক ও ট্রাম্পের সঙ্গে মোদির বৈঠকের সময় হোয়াইট হাউজের বাইরে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ করেন মোদির সমর্থক ও বিরোধীরা।

ইএ