গেলো শনিবার খামেনিকে হত্যার পর ইসরাইলের অভ্যন্তরে ও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস, সামরিক ঘাঁটিতে হামলা শুরু করেছে ইরান। কমব্যাট এরিয়াল যুদ্ধযান থেকে ছোড়া হচ্ছে শত শত ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। বড় আকারের সামরিক অভিযানের বিপরীতে, ছোট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত-মোজাইক স্টাইলে, ভিন্ন-ভিন্ন কমান্ড সেন্টার থেকে অতর্কিতে ও নিরবচ্ছিন্নভাবে হামলা চালিয়ে শত্রুপক্ষকে বিভ্রান্ত করছে আইআরজিসি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের উদ্দেশ্য চলমান এই সংঘাতকে দীর্ঘায়িত করা ও মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে দেয়া। এতে, যুদ্ধের স্থায়িত্বের সঙ্গে প্রতিদিনই বাড়ছে খরচ। যা ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রকে কিছুটা ব্যাকফুটে নিয়ে যাবে। এক পর্যায়ে অস্ত্রবিরতির প্রস্তাব আসতে পারে শত্রুপক্ষের তরফ থেকেও। বিপরীতে শত্রুপক্ষকে ব্যস্ত রেখে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট কাটিয়ে প্রজাতন্ত্রকে পুনর্গঠিত করার সুযোগ পাবে তেহরান। বিশ্লেষকদের দাবি, এই কৌশলেই গেল ৬ দিন ধরে যুদ্ধ চালাচ্ছে বিপ্লবী গার্ড কর্পস।
আরও পড়ুন:
প্রশ্ন ওঠে, তাহলে কি এই যুদ্ধের খরচ চালানোর সক্ষমতা নেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের? গেল ৬ দিনের যুদ্ধের খতিয়ান বাদ দিলেও ২০২৩-এর অক্টোবর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতেই ৩ হাজার ৩৭৭ কোটি ডলার খরচ করেছে ওয়াশিংটন। তেল আবিবকে দেয়া ২ হাজার ১৭০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তার ১ হাজার ২০৭ কোটি ডলার এসেছে মার্কিন করদাতাদের পকেট থেকে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের খরচ হয়েছে প্রায় ৭৭ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার। আর, ইরানের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে ইসরায়েলের প্রতিদিনের গড় সামরিক খরচ প্রায় ৭২ কোটি ৫০ লাখ ডলার। বিশ্লেষকেরাও বলছেন, এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায় যুদ্ধ বেশি দিন চালালে, কৌশলগত লাভের বদলে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ বেশি হবে।
আর এই উদ্দেশ্য সফল করতে স্যাচুরেশন ও লয়টারিং থ্রেট আক্রমণ কৌশল বেছে নিয়েছে বিপ্লবী গার্ড কর্পস। স্যাচুরেশন স্টাইলে শত্রু পক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে অকেজো করার জন্য একসাথে বিপুলসংখ্যক ড্রোন বা মিসাইল ছোড়া হয়। আর লয়টারিং থ্রেট হচ্ছে, সুইসাইড ড্রোন বা 'কামিকাজি ড্রোন ব্যবহার করে আক্রমণ করা। এই সুইসাইড ড্রোনগুলো কোনো টার্গেট খুঁজে পেলে রাসরি সেটির ওপর আছড়ে পড়ে বিস্ফোরিত হয়। ইরানের এমন কৌশলের কারণে ২০ হাজার ডলারের একটি ড্রোন ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রায় ৪০ লাখ ডলারের মিসাইল খরচ করতে হচ্ছে।


 in The Hague Netherlands-320x167.webp)


