এনগ্যাজেট প্রকাশিত প্রতিবেদনে আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠিতব্য পুনঃপরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ২২ জুন পরীক্ষা শেষ হওয়া পর্যন্ত অ্যাপটি সম্পূর্ণভাবে ব্লক রাখা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।
টেলিগ্রামের সবচেয়ে বড় বাজার (আনুমানিক ৮ কোটি ৪০ লাখ ব্যবহারকারী) ভারতে অ্যাপটি বন্ধ করার জন্য এই যুক্তিটিকে অত্যন্ত খোঁড়া মনে হতে পারে, তবে এর পেছনে আরও ঘটনা রয়েছে। প্রশ্নফাঁসের পাশাপাশি ভারতের প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা পুরো পরীক্ষা ব্যবস্থাকে ‘ভঙ্গুর ও দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
মূলত এ ইস্যুকে কেন্দ্র করেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। আল জাজিরার একটি প্রতিবেদনে ভারতের সেন্ট্রাল বোর্ড অব সেকেন্ডারি এডুকেশনের (সিবিএসই) এই তথাকথিত কেলেঙ্কারির একটি ভালো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
এর সারসংক্ষেপ হলো, গত ৩ মে প্রায় ২২ লাখ ৮০ হাজার শিক্ষার্থী এনইইটি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়, যাদের অনেকেই বছরের পর বছর ধরে এ পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছিল। লাখ লাখ উত্তরপত্র আরও নিখুঁতভাবে মূল্যায়নের জন্য সিবিএসই এবার ‘অন-স্ক্রিন মার্কিং’ সিস্টেম চালু করে। কিন্তু এ সিস্টেম পরিচালনার চুক্তিটি দেয়া হয়েছিল একটি বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানকে। প্রাথমিক পরীক্ষার পরই শিক্ষার্থীরা তাদের ফলে উদ্বেগজনক অসঙ্গতি দেখতে পান।
এক শিক্ষার্থী তার উত্তরপত্রের স্ক্যান কপি হাতে পেয়ে দেখেন যে সেটি তার নিজের খাতা নয়। এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমি পুরো এক বছর ধরে পড়াশোনা করেছি। আর এখন আমি জানিই না যে আমার আসল পদার্থবিজ্ঞান খাতাটি আদৌ মূল্যায়ন করা হয়েছে কি না।’ এরপর এরকম আরও অনেক অভিযোগ আসতে থাকে। পরে আরেক শিক্ষার্থী মার্কিং পোর্টালের নিরাপত্তা ত্রুটি ধরিয়ে দেন এবং দাবি করেন যে, তিনি সিস্টেমে প্রবেশ করে প্রাপ্ত নম্বর পরিবর্তন করতে সক্ষম।
গত ১২ মে সরকারের ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) পরীক্ষার ফল বাতিল ঘোষণা করে। তারা জানায়, তদন্তকারীরা প্রমাণ পেয়েছেন যে পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্রের বড় একটি অংশ ফাঁস হয়ে টেলিগ্রামে ছড়িয়ে পড়েছিল। এনটিএ জানায়, ‘পেপার লিকড নিট’ এর মতো নামের বিভিন্ন টেলিগ্রাম চ্যানেল অর্থের বিনিময়ে প্রশ্নপত্র সরবরাহ করার প্রস্তাব দিচ্ছিল।
তবে, ইন্টারনেট ফ্রিডম ফাউন্ডেশন টেলিগ্রামের ওপর এই নিষেধাজ্ঞাকে পরীক্ষা জালিয়াতি রোধের ক্ষেত্রে একটি ‘জোড়াতালি দেওয়া সমাধান’ এবং ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ প্রতিক্রিয়া বলে অভিহিত করেছে।





