বেতন না পেয়ে দুর্বিষহ জীবন, আইনি লড়াইয়ে মালয়েশিয়া প্রবাসীরা

প্রবাসী বাংলাদেশিরা
প্রবাসী বাংলাদেশিরা | ছবি: এখন টিভি
0

উন্নত স্বপ্ন নিয়ে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমালেও, ৪ মাস বেতন না পেয়ে অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় অ্যারোফোম ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে কর্মরত শতাধিক বাংলাদেশি। এমনকি কর্মীদের থাকার স্থানের বিদুৎ সরবরাহও বিচ্ছিন্ন রেখেছে কোম্পানি। তাই বাধ্য হয়ে বকেয়া বেতন আদায়ে আইনি লড়াইয়ে নেমেছেন কর্মীরা। তাদের প্রত্যাশা, সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

পরিবার- পরিজন ছেড়ে উন্নত ভবিষ্যতের আশায় মালয়েশিয়ার অ্যারোফোম ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানিতে যোগ দেন শতাধিক বাংলাদেশি কর্মী। তবে মালিকপক্ষের গাফিলতির অভাবে সেই স্বপ্ন এখন পরিণত হয়েছে দুঃসহ বাস্তবতায়। টানা ৪ মাস বেতন না পেয়ে দেশে থাকা পরিবার তো দূরে থাক, কর্মীদের নিজেদেরই তিনবেলা খাবার জোটানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

ভুক্তভোগী কর্মী বলেন, ‘আমরা খুব সমস্যার ভিতরে আছি। বর্তমানে আমাদের ফ্যামিলি আছে, এখানে খাওয়া-দাওয়ার খুব কষ্ট, কারেন্ট নাই। মূলত কোম্পানি আমাদের কোনো দেখাশোনাও করে না, আমরা এই অবস্থায় আছি।’

দুর্ভোগের শেষ এখানেই নয়। কর্মীদের অভিযোগ, দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে মালিকপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের থাকার স্থানের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে রেখেছে। একারণে গরমের এই মৌসুমে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন কর্মীরা।

আরেকজন ভুক্তভোগী কর্মী বলেন, ‘দেড় মাস ধরে আমরা অলরেডি কাজ বন্ধ করে বসে রয়েছি, বেতন-ভাতা দেয় না। বর্তমানে কারেন্টের সমস্যা, কারেন্টও নাই রুমের ভিতরে। কারেন্ট ছাড়াই আমরা অনেক কষ্টে জীবনযাপন করতেছি।’

শ্রমিকদের আরও অভিযোগ, গত প্রায় দুই বছর ধরেই অনিয়মিতভাবে বেতন দিচ্ছিল অ্যারোফোম ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের মালিকপক্ষ। চরম অর্থ সংকটে সময়মতো ভিসাও নবায়ন করতে পারেননি অনেকে। এরই মধ্যে বকেয়া বেতনসহ অন্যান্য আইনগত পাওনা আদায়ের আশায় আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন শ্রমিকেরা।

অভিযোগের শুনানি শেষে মালয়েশিয়ার স্থানীয় শ্রম বিভাগ, মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করেছে। শ্রমিকদের প্রত্যাশা, বকেয়া বেতন পরিশোধসহ তাদের সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

জেআর