ফুটবল বিশ্ব আজ যার পায়ের জাদুতে মুগ্ধ, সেই লামিন ইয়ামালের গল্পের শুরুটা কোনো রাজপ্রাসাদে হয়নি। স্পেনের বার্সেলোনা শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে। অভিবাসী আর শ্রমজীবী মানুষের অবহেলিত এক মহল্লা রোকাফোন্ডা। যেখানে দারিদ্র্য আর প্রতিদিনের বেঁচে থাকার লড়াই নিত্যদিনের সঙ্গী। সেখানে মরক্কোন বাবা আর গিনি বিসাউয়ের মায়ের ঘরে জন্ম নেওয়া এক ছোট শিশু থেকে বিশ্ব-দরবারে দাপট দেখানা কৃষ্ণাঙ্গ যুবকের গল্প।
২০০৭ সালে জন্ম নেয়া এ ইয়ামালের শৈশব মোটেও সহজ ছিলো না। বাবা চিত্রশিল্পী মা কাজ করতেন সাধারণ একটি দোকানে। তিন বছর বয়সে দেখেছেন, বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের সঙ্গে বর্ণবাদ আর চরম আর্থিক অনটনের মাঝেও ছোট্ট লামিনের একমাত্র সঙ্গী ছিলো একটি ফুটবল। রোকাফন্ডার কংক্রিটের শক্ত পিচে নানা লাঞ্ছনা আর বঞ্চনার মধ্যে গোলপোস্ট ছাড়া মাঠেই চলতো তার ড্রিবলিংয়ের অনুশীলন। অভাবের সংসারে নতুন বুট কেনার টাকা না থাকলেও, তার পায়ে ছিলো বিধাতার দেয়া এক অবিশ্বাস্য জাদু।
মাত্র ৬ বছর বয়সে লামিনের এ প্রতিভা নজরে আসে বার্সেলোনা স্কাউটদের। জায়গা হয় বিশ্বসেরা ফুটবল একাডেমি লা মাসিয়া তে। তখনই যেন তার ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায়। ২০১৪তে বার্সেলোনাতে শুরু হয় বিশ্বের অন্যতম ফুটবলার হওয়ার গল্প। তবে নিয়তি তার জন্য এক অদ্ভুত চিত্রনাট্য লিখে রেখেছিল ২০০৭ সালেই। কে জানতো ১৯ বছর আগে ইউনিসেফের এক দাতব্য ক্যাম্পেইনে লিওনেল মেসির কোলে ওঠা শিশুটি আজ চ্যালেঞ্জ জানাবে বিশ্ব ফুটবলের জাদুকরকেই।
বয়সভিত্তিক দলগুলোতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর মাত্র ১৫ বছর বয়সে বার্সেলোনার মূল দলে অভিষেক হয় ইয়ামালের। ভেঙে দেন ক্লাব ইতিহাসের সব রেকর্ড। এরপর স্পেনের জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বমঞ্চে তার পদার্পণ। মাঠে নামলেই তিনি যেন এক অপ্রতিরোধ্য ঝড়। কিন্তু এতো আলো, এতো খ্যাতির মাঝেও ইয়ামাল ভুলে যাননি তার অতীত।
লামিন ইয়ামাল প্রমাণ করেছেন, প্রতিভা আর কঠোর পরিশ্রম করলে নানা সংকটও হার মানানো সম্ভব। তিনি আজ শুধু স্পেনের সম্পদ নন, বিশ্বজুড়ে সুবিধাবঞ্চিত কোটি কোটি শিশুদের জন্য এক জীবন্ত অনুপ্রেরণা।





