যুদ্ধবিরতি কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে লেবাননে হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ অব্যাহত রাখায় ইসরাইলকে কঠোর জবাব দিলো ইরান। রোববার রাতে ইসরাইলের দিকে মুহুর্মুহু ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে আইআরজিসি। লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে হাইফা শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ইসরাইলের রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটি। ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের ঢেউ মোকাবিলায় হিমশিম খেতে হয় ইসরাইলি সেনাদের।
এপ্রিলে হওয়া যুদ্ধবিরতির পর এই প্রথম ইসরাইলে ভয়াবহ হামলা চালাতে বাধ্য হলো ইরান। এতে খুশি ইরানের সাধারণ মানুষ। রাতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন তারা। তেহরানের রাস্তায় নেমে করেন আনন্দ মিছিল।
এদিকে ইসরাইলের পাল্টা হামলার শঙ্কায়; সতর্কতার অংশ হিসেবে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করলো তেহরানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এছাড়া লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকলে ইরান শুধু আলোচনার পথেই থামাবে না, বরং শত্রুদের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষেও লিপ্ত হতে প্রস্তুত বলে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন ইরানের স্পিকার ও শীর্ষ আলোচক বাঘের গালিবফ।
হামলা চালানোয় ইরানকে খেসারত গুনতে হবে বলে হুমকি দিয়েছে ইসরাইল। আইডিএফ বলছে, মারাত্মক ভুল করেছে ইরান; এর ফলে লেবাননে আগ্রাসন আরও বেশি জোরালো করার হুমকিও দিয়েছে তেল আবিব।
আইডিএফের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডিফ্রিন বলেন, ইরানের অনেক বড় ভুল করেছে। এখন আইডিএফ সমগ্র লেবানন জুড়ে হামলা আরও জোরালো করবে। হিজবুল্লাহর ওপর আঘাত আরও তীব্র করবে। আমরা ইসরাইলের ওপর গোলাবর্ষণ চলতে দেব না।
এমন উত্তেজনায় লেবাননের যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার শঙ্কা প্রকট হয়েছে। ফলে ইরানে হামলা করা থেকে ইসরাইলকে আপাতত থামালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ইরানে পাল্টা হামলা না চালাতে রাজি হলেন নেতানিয়াহু।
ইরানের সঙ্গে চুক্তি মেনে নেয়া ছাড়া নেতানিয়াহুর সামনে 'কোনো বিকল্প নেই বলেও জানিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, নেতানিয়াহু সিদ্ধান্ত নেয়ার কেউ নন। অন্যদিকে শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার আগে ইরানের জব্দকৃত সম্পদ ছাড় দেয়া হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দিলেন ট্রাম্প। এনবিসি নিউজকে দেয়ার সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ কথা জানান।





