আন্তর্জাতিক নারী দিবসে প্রবাসী নারীকর্মীদের অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতের দাবি

এয়ারপোর্টে প্রবাসী নারীরা
এয়ারপোর্টে প্রবাসী নারীরা | ছবি: এখন টিভি
0

প্রায় ১০ লাখের বেশি নারী কর্মী বর্তমানে বিদেশে কর্মরত। সাত বছরে ফিরেছেন অন্তত ৭০ হাজার। যাদের বেশিরভাগই শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতনসহ নিপীড়নের নানা অভিযোগ আছে। গেল আট বছরে প্রায় ৮০০ নারীর মরদেহ দেশে ফিরেছে বাক্সবন্দী হয়ে। আন্তর্জাতিক নারী দিবসে দেশের নারীদের মতো প্রবাসের নারীকর্মীদেরও অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতের আহ্বান সংশ্লিষ্টদের।

নওগাঁর বুলবুলি। ঈদের ছুটিতে সৌদি থেকে ফিরেছেন। গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করেন তিনি। পটুয়াখালীর বেবিও প্রবাসী গৃহকর্মী। আড়াই বছরে দুইবার করতে হয় মালিক পরিবর্তন। দ্বিতীয় মালিকের বিরুদ্ধে তার নানা অভিযোগ।

সৌদি ফেরত নারীরা জানান, তার মালিক খোঁজ রাখতো না, ঠিকমতো খাবার দিতো না। ঈদের ছুটিতে তারা এসেছেন দেশে, আবার ঈদ শেষে ফিরে যাবেন সেখানে।

বিমানবন্দরে ভিন্ন ভিন্ন দেশ থেকে ফেরা এমন অসংখ্য নারীর দেখা মেলে। যারা বছরের পর বছর রেমিট্যান্সের অংশীদার হচ্ছেন।

২০০৪ সাল থেকে নারীরা বিদেশে যাওয়া শুরু করেন। ২০১৩ সালে এ সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। ২০১৫ সালে সৌদি আরবে নারীকর্মী পাঠানোর জন্য চুক্তি হওয়ার পর এ সংখ্যা রাতারাতি বছরে লাখ পেরিয়ে যায়।

বিএমইটির তথ্য বলছে, বর্তমানে ১০ লাখেরও বেশি নারী বিদেশে কাজ করছেন। তবে তাদের মধ্যে কতজন ফিরেছেন তার সঠিক তথ্য নেই। বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের তথ্যমতে, সাত বছরে অন্তত ৭০ হাজার নারী ফিরেছেন। এদের বেশিরভাগই নিপীড়নের শিকার। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, আট বছরে প্রায় আটশো নারীকর্মীর মরদেহ ফিরেছে দেশে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, ২০১২ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত ৬ হাজারের বেশি নারী মানব পাচারের শিকার হয়েছেন।

অতিরিক্ত কাজের চাপ ও নির্যাতন সামলাতে না পেরে নারীরা নিয়মিত পালিয়ে দূতাবাসের সেফ হাউসেও আশ্রয় নেন। বিদেশ যেতে আগ্রহী, অবস্থানরত এবং ফিরে আসা প্রায় দেড় হাজার নারীকর্মীর তথ্য সংগ্রহ করেছে নারী শ্রমিক কেন্দ্র।

বাংলাদেশ নারী শ্রমিক কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুমাইয়া ইসলাম বলেন, ‘সব থেকে বড় গ্যাপ হলো রাষ্ট্রের। রাষ্ট্র কেনোভাবেই তার শ্রমিকের খোঁজ খবর নেয় না। তারা রেমিট্যান্স পাঠায় এতে রাষ্ট্র খুশি, তবে তাদের যে অধিকার রয়েছে তা নিশ্চিত করতে হবে, তাদের সুরক্ষা রাষ্ট্রের দিতে হবে।’

আরও পড়ুন:

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারী কর্মীরা তথ্যের ঘাটতি নিয়ে বিদেশে যান। যে কারণে গন্তব্য দেশে গিয়ে প্রতারিত হন। এক্ষেত্রে বিদেশ যাওয়ার আগে কর্মঘণ্টা, বিশ্রাম ও বিনোদনের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

কর্মজীবী নারীর অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক সানজিদা সুলতানা বলেন, ‘যেখানে তাদের রাখা হয় তাদের পাসপোর্ট রেখে দেয়া হয়। তাদের বাহিরে যেতে দেয়া হয় না। তার যে নির্যাতন হচ্ছে এ কথা জানানোরও কোনো সুযোগ থাকে না। শ্রম কল্যাণে দেখবেন কল্যাণ একটি পার্ট, অধিকার আরেকটি পার্ট। এখানে কল্যাণ তো আছে তবে অধিকার কোথায়?’

অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতে বিদেশে থাকা দূতাবাসকে নারীদের কথা শুনতে হবে, নিতে হবে লিখিত অভিযোগ।

এফএস