কোনো সরকারি বরাদ্দ নয়, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আজিজুল হক আজাদের ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও প্রচেষ্টায় ৭৯ লাখ ৪৫ হাজার মার্কিন ডলারের ওষুধের অনুদান এসেছে। যার মূল্য বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৯৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।
ক্যান্সার, বাত, অ্যাজমা, সিওপিডি, চর্মরোগ, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ও শিশুদের হিমোফিলিয়াসহ নানা রোগের জীবন রক্ষাকারী এসব ওষুধ বিনামূল্যে পেয়ে উপকৃত হবেন হাজারো রোগী।
রোগীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন হলেই অসুস্থ, কিন্তু আজকে আমাকে ডাক্তার ট্রিটমেন্ট দিয়েছে।’
আরও পড়ুন:
অন্য একজন বলেন, ‘আমার ছেলে আট বছর হলে অসুস্থ। গত পাঁচ বছর হলে আজিজুল হক আজাদ স্যারের কাছে চিকিৎসা করাচ্ছি। এখন একটু ঠিক হয়েছে।’
এরইমধ্যে হাসপাতালে পৌঁছেছে দেড় হাজার বক্স ডুপিলুম্যাব এবং ১৫০ বক্স সারিলুম্যাব ইনজেকশন। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর এই প্রচেষ্টা সফল হয়েছে বলে জানান ডা. আজিজুল হক আজাদ।
তিনি বলেন, ‘এ ধারা অব্যাহত আছে। আমরা গতকাল আরও একটা চিঠি দিয়েছি। আরও একটা শিপমেন্ট আসবে। প্রায় দুই হাজার ইনহেলার আসবে। তারা আশ্বস্ত হয়েছে বলেই কিন্তু এত বিশাল অঙ্কের সহায়তা দিয়েছে।’
ওষুধগুলো সময়মত ব্যবহার করতে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানান কর্মকর্তারা।
আরও পড়ুন:
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফার্মাসিস্ট মীর শহিদুল আলম বলেন, ‘যেটা ফ্রিজে সংরক্ষণ করার জন্য সেটা ফ্রিজে সংরক্ষণ করেছি। আর রুম টেম্পারেচারে সংরক্ষণের জন্য কিছু ওষুধ পেয়েছি সেগুলো আমরা এসি রুমে সংরক্ষণ করছি।’
স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি সহায়তার পাশাপাশি এমন আন্তর্জাতিক অনুদান দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বড় ভূমিকা রাখবে।
রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কে বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা রোগীদের মাঝে বিতরণ করতে পারছি। রোগীরা তাদের চিকিৎসাগত আর্থিক সমস্যার জায়গা থেকে ওষুধ পেয়ে লাভবান হচ্ছে। অন্যান্য হাসপাতালগুলোও যদি এভাবে কোনো না কোনো দাতা সংস্থার মাধ্যমে পেয়ে থাকে সেক্ষেত্রে পুরো দেশবাসী উপকৃত হবে।’
এসব দামি ওষুধ রোগীদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে হলেও বর্তমানে তা পাচ্ছেন বিনামূল্যে। এর আগেও ডা. আজিজুল হক এবং ইন্টার্ন চিকিৎসক শীর্ষ শ্রেয়ানের প্রচেষ্টায় আরও ৫৩ কোটি টাকার ওষুধ এসেছিল এই হাসপাতাল।





