আরও পড়ুন:
ইতিহাস ও বিবর্তনের ফাগুন (Historical Context)
বসন্ত মানেই পূর্ণতা। ইতিহাস থেকে জানা যায়, 'ফাল্গুন' নামটি এসেছে মূলত ফাল্গুনী নক্ষত্র (Phalguni Star) থেকে। খ্রিষ্টপূর্ব ১৫০০ সালের দিকে যখন চন্দ্রবর্ষ ও সৌরবর্ষ মেনে চলা হতো, তখন ফাল্গুন ছিল পূর্ণ চন্দ্রের মাস। আধুনিক বাংলাদেশে পহেলা ফাল্গুন পালনের প্রাতিষ্ঠানিক সূচনা হয় ১৯৫০-১৯৬০ এর দশকে।
তৎকালীন পাকিস্তানি অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে রবীন্দ্রসংগীত (Rabindra Sangeet) শোনা ও বাঙালি ঢঙে বসন্ত বরণের মাধ্যমে নিজেদের সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য জানান দিয়েছিল এ দেশের মানুষ। পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ (Faculty of Fine Arts, DU) সর্বপ্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে পহেলা ফাল্গুন ও বসন্ত বরণ উৎসবের প্রবর্তন করে, যা আজ সারা দেশে এক সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে।
দ্রোহ ও রক্তের অমর গাথা (Resistance and Remembrance)
বাঙালির সংস্কৃতিতে ফাল্গুন কেবল উৎসবের নয়, এটি দ্রোহের মাসও (Month of Rebellion)। ১৯৫২ সালের ৮ই ফাল্গুন (Language Movement 1952) মাতৃভাষার সম্মান রক্ষায় রাজপথ রঞ্জিত হয়েছিল রফিক, সালাম, বরকত ও শফিকের রক্তে। শিমুল আর কৃষ্ণচূড়ার লাল রং আজও আমাদের সেই বীরত্বপূর্ণ আত্মত্যাগের কথা মনে করিয়ে দেয়। ভাষাশহীদের সেই রক্তের সোপান বেয়েই অর্জিত হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। তাই পহেলা ফাল্গুন বাঙালির কাছে একদিকে যেমন সৌন্দর্যের প্রতীক, অন্যদিকে তেমনি ন্যায়ের পথে লড়াই করার প্রেরণা।
সাহিত্য ও সংস্কৃতির বসন্ত (Literature and Art)
বসন্ত ঋতুকে কালজয়ী করে তুলেছেন আমাদের কবি ও সাহিত্যিকরা। কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের সেই বিখ্যাত উক্তি— ‘ফুল ফুটুক আর না-ই ফুটুক, আজ বসন্ত’ অথবা বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের ‘বসন্ত বাতাসে সই গো’ গানটি আজও প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে বসন্তের দোলা দেয়। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অসংখ্য গানে বসন্তের যে রূপ ফুটে উঠেছে, তা আজও আমাদের বসন্ত বরণ অনুষ্ঠানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ২০২৬ সালের এই দিনে একদিকে যখন চারুকলার বকুলতলায় আবির খেলা ও গান চলে, অন্যদিকে আগারগাঁও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরসহ (Liberation War Museum) বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলো মুখরিত থাকে নবজাগরণের আহ্বানে।
আরও পড়ুন:
আরও পড়ুন:





