প্রথমবারের মতো প্রভাব র‍্যাঙ্কিং স্থান পেল ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় | ছবি: এখন টিভি
0

টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রথমবারের মতো বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ উচ্চশিক্ষা মূল্যায়ন সংস্থা টাইমস হায়ার এডুকেশন প্রভাব র‍্যাঙ্কিং এ স্থান অর্জন করেছে। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবদান মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রকাশিত এ র‌্যাঙ্কিংয়ে ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বব্যাপী ১০০১–১৫০০ ব্যান্ডে স্থান লাভ করেছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশের ৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে যৌথভাবে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে।

এবারের র‌্যাঙ্কিংয়ে বিভিন্ন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায়ও উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। এসডিজি-৪ (মানসম্মত শিক্ষা)-এ ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয় ৩০১–৪০০ ব্যান্ডে স্থান লাভ করে বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে তৃতীয় অবস্থান অর্জন করেছে। এ সূচকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কোর ৬৩।

এছাড়া এসডিজি-৩ (সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ) এবং এসডিজি-৯ (শিল্প, উদ্ভাবন ও অবকাঠামো)-এ বিশ্ববিদ্যালয়টি যথাক্রমে ৬০১–৮০০ ব্যান্ডে এবং এসডিজি-১১ (টেকসই নগর ও জনপদ)-এ ৪০১–৬০০ ব্যান্ডে স্থান অর্জন করেছে।

র‌্যাঙ্কিংয়ে প্রকাশিত অন্যান্য সূচকে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৪১ শতাংশ নারী এবং ৫৯ শতাংশ পুরুষ। এছাড়া প্রতি শিক্ষক অনুপাতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৭.১।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা র‌্যাঙ্কিংয়ে ধারাবাহিকভাবে সাফল্য অর্জন করে চলেছে ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়। দ্য ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিং এ বিশ্ববিদ্যালয়টি ১২০১–১৫০০ ব্যান্ডে স্থান লাভ করেছে এবং গবেষণার গুণমান সূচকে বিশ্বে ৭৪৬তম অবস্থান অর্জন করেছে। কিউএস এশিয়া ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিং ২০২৫- এ ৮৫১–৯০০ ব্যান্ডে স্থান লাভের পাশাপাশি প্রতি গবেষণাপত্রে উদ্ধৃতি সূচকে এশিয়ায় ১৩৭তম এবং শিক্ষক পিছু গবেষণাপত্র সূচকে বাংলাদেশে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে।

আরও পড়ুন:

অন্যদিকে সাইমাগো ইন্সটিটিউশনস র‍্যাঙ্কিং (এসআইআর) ২০২৬- এ বাংলাদেশের ৪৭টি তালিকাভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম, বিশ্বে ১৯৩০তম এবং সামাজিক অবস্থান সূচকে ৯০৪তম স্থান অর্জন করেছে।

এ অর্জনে সন্তোষ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রভাব র‍্যাঙ্কিং এ প্রথমবারের মতো স্থান অর্জন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত গৌরবের ও অনুপ্রেরণার। এ সাফল্য আমাদের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, গবেষক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমাদের কার্যক্রম আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পাওয়ায় আমরা আনন্দিত।’

তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতেও গবেষণার মানোন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কার্যকর ভূমিকা রেখে মাভাবিপ্রবিকে বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাব।’

তিনি এ অর্জনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকল সদস্য, প্রাক্তন শিক্ষার্থী, সহযোগী প্রতিষ্ঠান ও শুভানুধ্যায়ীদের আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানান। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিংয়ে অবস্থান সুদৃঢ় করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া কোয়ালিটি রিভিউ অ্যান্ড র‌্যাঙ্কিং কমিটির সদস্যদের প্রতিও বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এসএস