বিভাগ (Department) ছুটি শুরু (Start) ছুটি শেষ (End) মোট দিন (Total Days) প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৬ মার্চ ২০২৬ ৩৬ দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৬ মার্চ ২০২৬ ৩৬ দিন কলেজ ও মাদরাসা ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৮ মার্চ ২০২৬ ৩৯ দিন
আরও পড়ুন:
টানা ৩৬ দিনের ছুটির আমেজ
শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত নতুন শিক্ষাপঞ্জি (Academic Calendar) অনুযায়ী, ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত টানা ৩৬ দিন বন্ধ থাকবে স্কুলগুলো। তবে ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার মহান স্বাধীনতা দিবস হওয়ায় এবং পরবর্তী দুদিন সাপ্তাহিক ছুটি (Weekly Holiday) থাকায় শিক্ষার্থীরা মূলত টানা ৩৮ দিনের ছুটি উপভোগ করতে পারবেন। আগামী ২৯ মার্চ থেকে পুনরায় শুরু হবে পাঠদান কার্যক্রম।
মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন ও সিদ্ধান্ত
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই সংশোধিত ছুটির তালিকা (Revised Holiday List) প্রকাশ করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫-এ অনুমোদিত শিক্ষাপঞ্জি (Academic Calendar) অনুসরণ করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত টানা ছুটি থাকবে। তবে ২৭ ও ২৮ মার্চ শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় পাঠদান কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে আগামী ২৯ মার্চ থেকে।
বিবরণ (Description) তারিখ থেকে (From) তারিখ পর্যন্ত (To) মোট ছুটি (Total) প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৬ মার্চ ২০২৬ ৩৬ দিন সাপ্তাহিক ছুটিসহ মোট ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৮ মার্চ ২০২৬ ৩৮ দিন
আরও পড়ুন:
কেন এই ছুটির সিদ্ধান্ত?
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রমজান মাসে শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় অনুশীলন (Religious Practice), ইবাদত-বন্দেগি এবং পারিবারিক পরিবেশে সময় দেওয়ার সুযোগ করে দিতেই এ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া গ্রীষ্মকালীন তীব্র গরম (Hot Weather) এবং শিক্ষার্থীদের শারীরিক স্বাস্থ্যের (Physical Health) কথা বিবেচনা করে মন্ত্রণালয় তাদের আগের সিদ্ধান্ত সংশোধন করেছে।
আইনি লড়াই ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
এর আগে রমজানে স্কুল বন্ধ রাখা নিয়ে বিষয়টি উচ্চ আদালত (High Court) পর্যন্ত গড়ায়। একজন আইনজীবীর রিট পিটিশনের (Writ Petition) পরিপ্রেক্ষিতে আদালত স্কুল বন্ধের নির্দেশ দিলেও পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) চেম্বার আদালত সেই আদেশ স্থগিত করেন। আইনিভাবে স্কুল খোলা রাখতে বাধা না থাকলেও জনমত ও পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় শেষ পর্যন্ত ছুটির পক্ষেই সিদ্ধান্ত নেয়।
ছুটির উপলক্ষ (Occasion) শুরু (Start Date) শেষ (End Date) পুনরায় খোলার তারিখ রমজান, শবেকদর ও ঈদ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৬ মার্চ ২০২৬ ২৯ মার্চ ২০২৬ সাপ্তাহিক ছুটি (শুক্র ও শনি) ২৭ মার্চ ২০২৬ ২৮ মার্চ ২০২৬
আরও পড়ুন:
রাতে ছুটি ঘোষণা, সকালে স্কুলে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা: বিপাকে রাজধানীর অভিভাবক মহল
পবিত্র রমজান (Holy Ramadan) উপলক্ষে দেশের সকল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধের ঘোষণাটি শেষ মুহূর্তে আসায় চরম বিড়ম্বনায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে হঠাৎ ছুটির সিদ্ধান্ত আসায় আজ বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর শত শত শিক্ষার্থী ও অভিভাবককে স্কুল গেট থেকে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে দেখা গেছে।
রাজধানীর স্কুলগুলোতে বিশৃঙ্খলা ও ভোগান্তি
বৃহস্পতিবার সকালে মগবাজার, মতিঝিল ও মালিবাগসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় এক ভিন্ন চিত্র। রোজা রেখে তীব্র জ্যাম (Traffic Jam) ঠেলে সন্তানদের নিয়ে স্কুলে এসে অনেক অভিভাবক দেখেন মূল ফটক বন্ধ। মতিঝিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গেটে সন্তানকে নিয়ে আসা এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সকালে রোজা রেখে অনেক কষ্ট করে স্কুলে এসে দেখি গেট বন্ধ। রাতে যে ছুটি (Late Night Holiday Announcement) দিয়েছে সেটা জানতাম না। অন্তত একদিন আগে জানালে এই ভোগান্তি হতো না।"
যাতায়াত খরচ ও সময়ের অপচয়
হঠাৎ এই সিদ্ধান্তে অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে যারা দূর-দূরান্ত থেকে রিকশা বা বাসে করে শিক্ষার্থীদের নিয়ে এসেছেন, তাদের যাতায়াত ভাড়া (Transportation Cost) এবং সময় দুটোই নষ্ট হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী স্কুল গেটে টানানো নোটিশ (Notice Board) দেখে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে যায়। অভিভাবকদের মতে, মন্ত্রণালয়ের এই ধরণের 'লাস্ট মিনিট' সিদ্ধান্তে জনভোগান্তি কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
পটভূমি ও মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত
বুধবার রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় (Ministry of Primary and Mass Education) যৌথভাবে সংশোধিত ছুটির তালিকা প্রকাশ করে। ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার মহান স্বাধীনতা দিবস এবং পরবর্তী দুই দিন সাপ্তাহিক বন্ধ (Weekly Off) থাকায় শিক্ষক-কর্মচারীরা মূলত ২৮ মার্চ পর্যন্ত টানা ছুটি ভোগ করবেন। যদিও মাদরাসা (Madrasa) ও কলেজে আগেই ছুটি শুরু হয়েছিল, কিন্তু স্কুলগুলোর ক্ষেত্রে শেষ মুহূর্তের এই পরিবর্তনই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে সাধারণ মানুষের জন্য।
আরও পড়ুন:





