শিল্প-কারখানা
অর্থনীতি

নাটোরে চামড়ার ব্যবসায় ধ্স

কোরবানির পর প্রথম দু'সপ্তাহ চামড়ার দাম ভালো থাকলেও হঠাৎ করেই নাটোরের চামড়ার বাজারে ধ্স নেমেছে। লোকসান করে চামড়া বিক্রি করছেন ফড়িয়া ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। এ জন্য পর্যাপ্ত ট্যানারি মালিক না আসা ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটকে দায়ী করছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

রাজশাহীর বাঘা উপজেলা থেকে নাটোরের চকবৈদ্যনাথের আড়তে গরু ও খাসির চামড়া নিয়ে এসেছেন ব্যবসায়ী মহির উদ্দিন। গত দু'দিন ধরে ১০৬ পিস গরু এবং ২ হাজার ১০০ পিস খাসির চামড়া নিয়ে বসে থাকলেও বিক্রি করতে পারেনি। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে চামড়া বেচা-কেনার জড়িত থাকলেও আগে এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হয়নি বলে জানান তিনি। হঠাৎ চামড়ার দাম কমে যাওয়ায় তার মাথায় হাত। প্রতিপিস গরুর চামড়ায় ২০০ টাকা এবং খাসিতে ১০ টাকা করে লোকসান গুণতে হবে তাকে। এতে করে পুঁজি হারানোর শঙ্কা তার।

মহির উদ্দিন বলেন, 'খাসির চামড়া ৬০ থেকে ৬০ টাকা কেনাবেচা হয়েছে। গরুর চামড়া ১ হাজার ৩০০ বা ১ হাজার ৩৫০ টাকা কেনাবেচা হয়েছে। এরকম দামে আগে বেচাকেনা করেছি। এই কয়টা টাকার জন্য আমি এখানে আসছি আজ। কিন্তু এখানে এসে এবার শুনি চামড়ার দাম একেবারে কম।'

কোরবানির ঈদ পরবর্তী দুই সপ্তাহ নাটোরের বাজারে ভাল দামে বিক্রি হয়েছিল গরু ও খাসির চামড়া। সে সময় গরু ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং খাসি ও বকরির চামড়া প্রকারভেদে ৮০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।

গত কয়েকদিন ধরে হঠাৎ করেই ধস নামে নাটোরের চামড়ার বাজারে। এতে করে গরু ৮০০ থেকে ৯০০টাকা, খাসি-বকরিসহ অন্য পশুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। এতে বাজারে চামড়ার দাম কমায় হতাশ ফড়িয়া ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, ট্যানারি মালিকরা না আসায় স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে দাম নিয়ন্ত্রণ করছে।

একজন ব্যবসায়ী বলেন, 'খাসির চামড়া বিক্রি করার পর ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগে গরুর চামড়া বিক্রি করতে। সেজন্য চলে আসছি। কিন্তু এখন বলছে না ওই বাজার আর পাবো না। দাম কম বলে আর বলে যে, এই দাম হলে বেচা, না হলে নাই।'

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে চালু ট্যানারির সংখ্যা প্রায় ১৫০। কিন্তু নাটোরে চামড়া কিনছে হাতে ৬ থেকে ৭টি ট্যানারির মালিক ও তাদের প্রতিনিধিরা। প্রতিবছর সরকার লবণযুক্ত চামড়ার দাম বেঁধে দিলেও সবসময় তা মানা হয়না। তবে ভালো চামড়ার দাম আগের মতোই রয়েছে বলে দাবি করছেন ব্যবসায়ীরা।

নাটোরের চকবৈদ্যনাথের চামড়ার আড়তে ভাল মানের চামড়া পাওয়া যায় বলেই প্রতিবছর এই আড়তের দিতে নজর থাকে ট্যানারি মালিকদের। সে কারণে দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের ৩৮ জেলা থেকে চামড়া নিয়ে আসেন ব্যবসায়ীরা। তবে চামড়া সমিতির নেতাদের দাবি, ঈদের বেশ কিছু দিন পেরিয়ে যাওয়ায় ভালোমানের চামড়া সরবরাহ না থাকায় কমেছে নিম্নমানের চামড়ার দাম।

নাটোর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতি গ্রুপের সদস্য লুৎফর রহমান লান্টু বলেন, 'মৌসুমি ব্যবসায়ীরা খাসির চামড়ার ব্যাপারে যে অভিযোগ দিচ্ছে, তা সঠিক না। ঈদের ২০ দিন পার হওয়ার পর চর্বিযুক্ত খাসির চামড়া কিছুটা হয়তো নরম হয়ে গেছে। এর আগে খাসির চামড়া ৮০ থেকে ১২০ টাকা করে বিক্রি হয়েছে।'

এ বছর নাটোরে মৌসুম জুড়ে গরুর সাড়ে ৬ থেকে ৭ লাখ পিস এবং ছাগলের ৪ থেকে ৫ লাখ পিস চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে দাম কমে যাওয়ায় চকবৈদ্যনাথের আড়তে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী চামড়া সংগ্রহ হবে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

এমএসআরএস

এই সম্পর্কিত অন্যান্য খবর