শিল্প-কারখানা
অর্থনীতি
গ্যাস সংকটে চিড়া-মুড়ি উৎপাদন ব্যাহত
গাজীপুরে গ্যাস সংকটে ব্যাহত হচ্ছে চিড়া-মুড়ি উৎপাদন। এরসঙ্গে যোগ হয়েছে ধান-চালের বাড়তি দাম। লোকসানে একের পর এক বন্ধ হচ্ছে মিল। সরবরাহ কমায় বাজারে বেড়েছে চিড়া-মুড়ির দাম।

মেশিনে পড়েছে ধুলোর আবরণ। ক'দিন আগেও যেখানে ঘুরতো অর্ধশত শ্রমিকের জীবিকার চাকা, এখন গ্যাস সংকটে অকেজো সেই মেশিনগুলো।

গ্যাস সংকটে বন্ধ হওয়ার পথে পাশের আরেক চিড়া-মুড়ির মিল। চুলোতে নেই আগুন, বন্ধ মুড়ি ভাজার রোস্টার। তাই অলস সময় পার করছে শ্রমিকরা। এ অবস্থায় কোনমতে উৎপাদন সচল থাকলেও তাতে মেটানো যাচ্ছে না বাজারের চাহিদা। শ্রমিকরা জানান, দিনের অধিকাংশ সময়ই থাকে না গ্যাস। তাই অর্ধেক মেশিন বন্ধ রেখেই করতে হয় উৎপাদন।

জেলায় চিড়া-মুড়ি উৎপাদন কারখানা রয়েছে প্রায় ১৫টির বেশি। শ্রমিকরা বলেন, 'আগে ২শ' বস্তা পোডাকশন হতো। এখন গ্যাসের অভাবে ৮০ থেকে ১শ' বস্তা পোডাকশন হচ্ছে।'

আরেকজন বলেন, 'মুড়ি ভাজার মেশিন আজ প্রায় ৪ মাস ধরে বন্ধ। একটা বন্ধ করে একটা চালু করা হচ্ছে। কখনো চুলা, কখনো মুড়ি ভাজার রোস্টার এইভাবেই আমাদের মুড়ি ভাজতে হচ্ছে।'

গ্যাস স্বল্পতার পাশাপাশি এ শিল্পের কাঁচামাল সংকটে ধান-চালের লাগামহীন দামও বেড়েছে। গত দুই সপ্তাহে ধাপে ধাপে প্রতি মণ ধানের দাম বেড়েছে ১২০ টাকা, চালের দাম বেড়েছে বস্তাপ্রতি ৩০০ টাকা পর্যন্ত।

কারখানা মালিকরা বলছেন, গ্যাস না থাকায় কুড়া বা তুষ দিয়ে বিকল্প উপায়ে উৎপাদন সচল রাখার চেষ্টা চলছে। তবে যে পরিমাণ উৎপাদন হয় তা দিয়ে খরচ উঠাতেই হিমশিম অবস্থা। এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে রমজানে চিড়া, মুড়ির চাহিদা মেটানোই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

মিতালি চিড়া কলের স্বত্বাধিকারী নুরুল করিম পারভেজ বলেন, 'ধান-চালের যে ঊর্ধ্বগতি, স্থিতিশীল না হলে, আর যদি পর্যাপ্ত গ্যাস আমরা না পাই তাহলে কোনোভাবেই ফ্যাক্টরি চালানো সম্ভব না। ৩০ জন শ্রমিকের বেতন তাদেরকে দিয়ে যদি আমি প্রোডাকশন না করতে পারি, ব্যবসা না চালাইতে পারি তাহলে তো আমার কারখানা রেখে লাভ নেই।'

সংকট মোকাবিলায় চাল আমদানি ও শিল্পে নিরবিচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের দাবি ব্যবসায়ীদের। গাউছিয়া মুড়ি মিলের পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, 'গ্যাসের সমস্যার কারণে আমরা মুড়ির রোস্টার বন্ধ করে চাল ভাজি। এরপর চুলা বন্ধ করে আবার রোস্টার চালু করি। যার কারণে আমরা একই সময়ে দুইটা চালাতে পারছি না। আমাদের রমজান মাসে আড়াইশ' থেকে তিনশ' বস্তা মুড়ি প্রোডাকশন দেওয়ার কথা, কিন্তু আমরা তা দিতে পারছি না।'

মিলগুলোতে উৎপাদন কমায় প্রভাব পড়েছে বাজারে। সংকটকে পুঁজি করে রমজানের আগেই বস্তাপ্রতি চিড়া-মুড়ির দাম বেড়েছে ৫০-১০০ টাকা।

চিড়া-মুড়ি ব্যবসায়ীরা বলেন, 'কাস্টমার এসে আমার কাছ থেকে আগে একটা মুড়ির বস্তা নিয়েছে সেটা ভালো। কিন্তু কাস্টমার এসে কমপ্লেন করে যে, মুড়ি তো ভালো না।'

তারা আরও জানান, ২৫ শতাংশ উৎপাদন বন্ধ শুধু গ্যাসের জন্য। এই গ্যাসের জন্যই মুড়ি-চিড়ার দাম বাড়তি বলে জানান তারা।

ইএ