গত ১৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্ট (SME and Special Programs Department) থেকে এ সংক্রান্ত নীতিমালা জারি করা হয়েছে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে নির্দেশিত এই প্রকল্প অবিলম্বে কার্যকর হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
আবেদনের সময়সীমা ও যোগ্যতা (Udyog Scheme Application Deadline and Eligibility)
বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষণা অনুযায়ী প্রথম ধাপে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে:
- প্রথম পর্যায়ের আবেদনের তারিখ (First Phase Application Deadline): ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত আবেদন জমা দেওয়া যাবে।
- দ্বিতীয় পর্যায়ের আবেদনের তারিখ (Second Phase Application Deadline): অন্যান্য জেলার উপজেলার উদ্যোক্তারা ১ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।
- আবেদন ফরম প্রাপ্তিস্থান (How to Download Udyog Application Form): বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, এসএমই পোর্টাল (SME Portal BD) এবং সকল তফসিলি ব্যাংকের (Scheduled Banks Bangladesh) ওয়েবসাইট থেকে আবেদন ফরম ডাউনলোড করা যাবে।
আরও পড়ুন:
আবেদন জমা দেওয়ার নিয়ম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (Required Documents for Bangladesh Bank Udyog Scheme)
আবেদনকারীকে তাঁর সংশ্লিষ্ট উপজেলায় অবস্থিত যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখায় নির্ধারিত আবেদন ফরম পূরণ করে জমা দিতে হবে। যে ব্যাংকে আবেদন করবেন, সেখানে আগে থেকে অ্যাকাউন্ট থাকা বাধ্যতামূলক নয়।
প্রয়োজনীয় নথিপত্র:
- ১. জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা জন্মনিবন্ধন সনদের কপি।
- ২. সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ (যদি থাকে)।
- ৩. দক্ষতা উন্নয়ন বা উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ সনদ (যদি থাকে)।
- ৪. স্থানীয় ওয়ার্ড কমিশনার বা কাউন্সিলর কর্তৃক প্রদত্ত নাগরিকত্ব সনদ/প্রত্যয়নপত্র।
আরও পড়ুন:
অর্থায়ন পদ্ধতি ও ঋণ অনুমোদনের প্রক্রিয়া (Loan and Grant Allocation Ratio 50:50)
এই কর্মসূচির আওতায় সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা মিলবে, তবে অর্থায়নের পরিমাণ নির্ধারণ হবে ব্যবসার প্রকৃত প্রয়োজন ও মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে।
- ঋণ ও অনুদানের অনুপাত (50:50 Loan Grant Scheme): মোট অর্থায়নের অনুপাত হবে ৫০:৫০। যেমন— কোনো উদ্যোক্তার ব্যবসার জন্য ১২ লাখ টাকা প্রয়োজন হলে তিনি ৬ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ এবং ৬ লাখ টাকা অনুদান হিসেবে পাবেন।
- লিড ব্যাংক সমন্বয় (District and Upazila Lead Bank System): প্রতিটি উপজেলায় বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত ‘লিড ব্যাংক’ পুরো প্রক্রিয়া সমন্বয় করবে।
- ঋণ অনুমোদন (Loan Processing Time): চূড়ান্ত মনোনয়নের পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংক নিজস্ব ঋণনীতি অনুসরণ করে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে ঋণ অনুমোদনের ব্যবস্থা নেবে। আবেদন প্রত্যাখ্যান হলে তার লিখিত কারণ বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে হবে।
- অতিরিক্ত সুবিধা ও শর্ত: অর্থায়নের পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের আর্থিক সাক্ষরতা, মেন্টরিং, বিজনেস প্ল্যান তৈরি ও ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণে সহায়তা দেওয়া হবে। তবে কোনো প্রকার তদবির করা হলে আবেদন সরাসরি বাতিল বলে গণ্য হবে।
আরও পড়ুন:
তরুণ উদ্যোক্তাদের ২০ লাখ টাকা ঋণ সহায়তা: বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচিতে আবেদনের নিয়ম
একনজরে: আবেদনের সময়সীমা, ৫০:৫০ ঋণ ও অনুদান অনুপাত, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং প্রক্রিয়াকরণের নিয়ম
বিষয় / মূল ক্ষেত্র
‘উদ্যোগ’ কর্মসূচির নীতি ও নিয়ম
আবেদনকারী ও ব্যাংকের করণীয়
অর্থায়নের পরিমাণ ও অনুপাত
সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা (৫০% ব্যাংক ঋণ : ৫০% অনুদান)
ব্যবসার প্রকৃত চাহিদা ও প্রাক্কলিত ব্যয়ের ওপর ভিত্তি করে ১০ লাখ ঋণ ও ১০ লাখ অনুদান মিলবে।
আবেদনের সময়সীমা
১ম ধাপ: ১৬ সেপ্টেম্বর - ১৫ অক্টোবর
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিজ উপজেলার যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখায় আবেদন ফরম জমা দিতে হবে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
NID/জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদ, শিক্ষাগত ও প্রশিক্ষণ সনদ
আবেদন ফরমের সাথে কাউন্সিলর/চেয়ারম্যানের নাগরিক সনদ ও অন্যান্য সনদের সত্যায়িত কপি সংযুক্ত করতে হবে।
আবেদন গ্রহণ ও ঋণ অনুমোদন
উপজেলা/জেলা লিড ব্যাংকের মাধ্যমে সমন্বয় ও ১৫ কার্যদিবসে অনুমোদন
আগে থেকে হিসাব থাকা বাধ্যতামূলক নয়; ঋণ নাকচ হলে ব্যাংক কারণসহ বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাবে।
অতিরিক্ত সুবিধা ও শর্ত
মেন্টরিং, ট্রেনিং, ট্রেড লাইসেন্স সহায়তা; তদবির করলে প্রার্থিতা বাতিল
উদ্যোক্তারা বিজনেস প্ল্যান তৈরি ও আর্থিক সাক্ষরতা সুবিধা পাবেন; সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নির্বাচন হবে।
২য় ধাপ: ১ নভেম্বর - ৩০ নভেম্বর
আরও পড়ুন:




