আজ (সোমবার, ১০ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট থেকে জারি করা পৃথক দুটি সার্কুলারে এ তথ্য জানা গেছে। আগামী ১ অক্টোবর থেকে এ নিয়ম আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে।
আরও পড়ুন:
নতুন সিদ্ধান্তে ব্যবসায়ী ও গ্রাহকদের সরাসরি সুবিধা (Bangla QR Merchant Discount Rate & Benefits)
‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের লক্ষ্যে চালু হওয়া সর্বজনীন ও ইন্টারঅপারেবল বাংলা কিউআর (interoperable Bangla QR transaction) ব্যবহারের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে:
- আলাদা কিউআরের দিন শেষ: আগে বিকাশ, নগদ, রকেট বা ব্যাংক অ্যাপের জন্য আলাদা আলাদা কিউআর প্রয়োজন হতো। এখন একটিমাত্র বাংলা কিউআর কোড ঝুলিয়েই সব ব্যাংকিং ও এমএফএস (MFS to bank QR payment) অ্যাপ থেকে পেমেন্ট নেওয়া সম্ভব।
- জিরো কস্ট ও ক্যাশলেস সুবিধা: গ্রাহককে কোনো প্রকার অতিরিক্ত চার্জ বা হিডেন ফি গুণতে হবে না। এছাড়া ১ টাকার খুচরা বা ভাঙতি টাকার বিড়ম্বনা এবং ছেঁড়া নোট সংক্রান্ত ঝামেলা পুরোপুরি দূর হবে।
- জামানতবিহীন এসএমই ঋণ: ফুটপাতের হকার বা ছোট চায়ের দোকানদারদের নিয়মিত ক্যাশলেস লেনদেনের মাধ্যমে ব্যাংকিং চ্যানেলে ‘ডিজিটাল ক্রেডিট প্রোফাইল’ (digital credit profile for small business loan) তৈরি হবে, যা ভবিষ্যতে জামানতবিহীন ব্যাংক ঋণ পেতে সাহায্য করবে।
আরও পড়ুন:
কেনাকাটা ও দৈনন্দিন জীবনে ৭টি অর্থনৈতিক সুবিধা (7 Major Advantages of Bangla QR Code)
বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশিত এ উদ্যোগ সাধারণ ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের ৭টি বড় আর্থিক স্বস্তি এনে দিচ্ছে:
- ১. ডিজিটাল পার্স: ভারী ওয়ালেট বা ক্যাশ টাকা বহনের প্রয়োজন নেই, স্মার্টফোনই এখন পার্স।
- ২. এক কিউআরে সব পেমেন্ট: মোবাইল ব্যাংকিং (MFS) বা ব্যাংকিং অ্যাপ যেটিই থাকুক না কেন, একটি সর্বজনীন কোডেই কাজ হবে।
- ৩. সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সেবা: গ্রাহকের জন্য ‘জিরো কস্ট’ (zero cost payment for customers)।
- ৪. নিখুঁত পেমেন্ট: খুচরা টাকার অভাব কিংবা ভাংতি খোঁজার বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি।
- ৫. নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত: চুরি বা টাকা হারানোর ভয় নেই; প্রতিটি লেনদেনে পিন (PIN) ও বায়োমেট্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
- ৬. স্বয়ংক্রিয় খরচের হিসাব: অ্যাপ স্টেটমেন্টে প্রতিটি ট্রানজাকশনের ডিজিটাল রেকর্ড (digital receipt record) থাকবে।
- ৭. ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের উন্নয়ন: লেনদেনের রেকর্ডের ওপর ভিত্তি করে সহজে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে লোন সুবিধা পাওয়া যাবে।
আরও পড়ুন:
ক্যাশলেস বাংলাদেশ গঠনের পথে মাইলফলক (Cashless Bangladesh & Financial Inclusion)
বাংলা কিউআরের সার্বিক সম্প্রসারণের ফলে শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও ডিজিটাল আর্থিক অন্তর্ভুক্তি (financial inclusion BD) আরও জোরালো হবে। এতে যেমন ব্যবসায়ীদের বিক্রির হিসাব ও কর ব্যবস্থাপনা সহজ হবে, তেমনি নগদ টাকা বহনের ঝুঁকি কমবে। ১ অক্টোবর থেকে নতুন আদেশ ও পরবর্তীতে বাধ্যতামূলক ব্যবহারের মাধ্যমে দেশে ডিজিটাল লেনদেনের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটবে।
সম্পূর্ণ ফ্রিতে ক্যাশলেস লেনদেন; গ্রাহক ও ব্যবসায়ীরা পাবেন যেসব বিশেষ সুবিধা, বাংলাদেশ ব্যাংকের বড় সিদ্ধান্ত
একনজরে 'বাংলা কিউআর' লেনদেনে ফি মওকুফ, পেমেন্ট গ্রহণের নিয়ম এবং গ্রাহক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বিশেষ সুবিধার বিস্তারিত
বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত
বাংলা কিউআরভিত্তিক লেনদেনে ইন্টারচেঞ্জ ফি (IRF) সম্পূর্ণ শূন্য করা হয়েছে এবং ছোট লেনদেনে বিশেষ সরকারি প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়েছে।
১ অক্টোবর থেকে কার্যকর
গ্রাহকদের বিশেষ সুবিধা
• জিরো কস্ট: পেমেন্টে কোনো বাড়তি ফি বা হিডেন চার্জ নেই।
• খুচরা ঝামেলার অবসান: নির্ভুল অঙ্কের (যেমন- ১৯ বা ৫১ টাকা) ক্যাশলেস পেমেন্ট।
• নিরাপত্তা: চুরি বা টাকা হারানোর ভয় নেই, প্রতিটি লেনদেনে পিন/বায়োমেট্রিক সুরক্ষা।
স্মার্টফোনই এখন ডিজিটাল পার্স
ব্যবসায়ীদের সুবিধা
• একটি মাত্র কিউআর: সব ব্যাংক ও MFS (বিকাশ, নগদ, রকেট) থেকে পেমেন্ট গ্রহণের ব্যবস্থা।
• সহজ হিসাব: বিক্রির তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংরক্ষিত থাকে।
দোকানের কাউন্টার থাকবে ঝামেলামুক্ত
ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও জামানতবিহীন ঋণ
হকার বা ছোট ব্যবসায়ীদের লেনদেনের মাধ্যমে ‘ডিজিটাল ক্রেডিট প্রোফাইল’ তৈরি হবে, যা পরবর্তীতে ব্যাংক থেকে জামানতবিহীন ব্যবসা ঋণ পেতে সাহায্য করবে।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বড় আর্থিক সুযোগ
আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও স্মার্ট অর্থনীতি
শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও ক্যাশলেস লেনদেন ছড়িয়ে পড়বে, যা দেশের ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থায় এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।
ক্যাশলেস বাংলাদেশ বিনির্মাণ
সার্বিক প্রভাব
নগদ টাকা বহন, চুরি ও ছেঁড়া নোটের ঝুঁকি কমিয়ে সর্বজনীন 'বাংলা কিউআর' দেশের সামগ্রিক পেমেন্ট ব্যবস্থা একীভূত, স্বচ্ছ ও নিরাপদ করবে।
বিষয় / সুবিধা (Topic/Feature)
মূল তথ্য ও বিবরণ (Details)
বিশেষ দ্রষ্টব্য (Note)
আরও পডুন:





