যেভাবে কাজ করবে ব্যক্তিগত বাংলা কিউআর (How Personal Bangla QR Code Works)
নতুন এই ব্যবস্থার ফলে টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়ায় আসবে আমূল পরিবর্তন:
- হিসাব নম্বরের ঝামেলা মুক্তি: টাকা পাঠাতে প্রেরককে দীর্ঘ ব্যাংক হিসাব নম্বর, রাউটিং নম্বর কিংবা ১১ ডিজিটের মোবাইল নম্বর ম্যানুয়ালি লিখতে হবে না।
- সরাসরি স্ক্যান ও লেনদেন: প্রাপক তার স্মার্টফোনে কিউআর প্রদর্শন করবেন, আর প্রেরক নিজ অ্যাপের ক্যামেরা দিয়ে স্ক্যান করলেই প্রাপকের নাম ও সংক্ষেপিত হিসাব নম্বর স্ক্রিনে ভেসে উঠবে। পিন (PIN) দিলেই লেনদেন সম্পন্ন হবে।
- গ্যালারি ছবি বা স্ক্রিনশট আপলোড: দূরবর্তী কোনো ব্যক্তি যদি কিউআর কোডের ছবি বা স্ক্রিনশট মেসেঞ্জারে পাঠান, তবে প্রেরক অ্যাপের গ্যালারি থেকে সেই ছবি আপলোড করে সরাসরি টাকা পাঠাতে পারবেন।
আরও পড়ুন:
লেনদেন মাশুল বা সার্ভিস চার্জ কত? (Bangla QR Transaction Fee Details)
বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালিত ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের (NPSB) বিদ্যমান ইন্টারঅপারেবল চার্জ কাঠামোর অধীনেই এই কিউআর লেনদেন নিষ্পন্ন হবে:
- ব্যাংক থেকে ব্যাংক লেনদেন (Bank to Bank Transfer Fee): প্রতিবার টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে স্থায়ী ফি ১০ টাকা।
- ব্যাংক থেকে এমএফএস (Bank to MFS Transfer Charge): লেনদেনকৃত অর্থের ওপর ০.১৫ শতাংশ মাশুল।
- এমএফএস থেকে ব্যাংক বা অন্য সার্ভিস (MFS to Bank Account Charge): সর্বোচ্চ ০.৮৫ শতাংশ সার্ভিস চার্জ।
- পিএসপি থেকে লেনদেন (PSP to Bank/MFS Charge): পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (PSP) থেকে টাকা পাঠালে সর্বোচ্চ ০.২০ শতাংশ চার্জ প্রযোজ্য হবে।
আরও পড়ুন:
এনক্রিপশন প্রযুক্তিতে বন্ধ হবে জালিয়াতি (Cyber Security and Fraud Protection in QR)
কিউআর কোড পরিবর্তন করে বা ভুয়া কোড দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঝুঁকি রোধে উচ্চস্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এতে যুক্ত করা হচ্ছে ‘পাবলিক কি ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ (Public Key Infrastructure) প্রযুক্তি ও ডিজিটাল সিগনেচার। সেন্ট্রাল ট্রাস্ট স্টোরে পাবলিক কি সংরক্ষিত থাকবে এবং পেমেন্ট সুইচের মাধ্যমে প্রতিটি লেনদেন রিয়েল-টাইমে যাচাই করা হবে। ফলে জালিয়াতি করে টাকা আত্মসাৎ করা সম্ভব হবে না।
প্রান্তিক ব্যবসায়ী ও খুচরা লেনদেনে তৈরি হবে নতুন সুযোগ (Financial Inclusion & Retail Payment Impact)
বর্তমানে দেশে প্রায় ১৪ কোটি ব্যাংক হিসাব ও ২৪ কোটি এমএফএস হিসাব রয়েছে। নতুন এই পদ্ধতি বাস্তবায়িত হলে বিপুলসংখ্যক গ্রাহক এই সুবিধার আওতায় আসবেন। প্রান্তিক ব্যবসায়ী, ফেরিওয়ালা, কিংবা সাধারণ মানুষ তাদের কিউআর কোডটি ফোনে রেখে, প্রিন্ট করে বা লেমিনেটেড কার্ড আকারে সঙ্গে রাখতে পারবেন। প্রেরক কোন অ্যাপ ব্যবহার করছেন তা জানা ছাড়াই কেবল বাংলা কিউআর স্ক্যান করলেই টাকা নির্দিষ্ট হিসাবে পৌঁছে যাবে, যা ক্যাশলেস অর্থনীতি গঠনে বড় ভূমিকা রাখবে।
আরও পড়ুন:
ব্যক্তিগত ‘বাংলা কিউআর’ লেনদেনের মাশুল ও সুবিধাসমূহ
একনজরে লেনদেনের মাধ্যমভিত্তিক সার্ভিস চার্জ, এনপিএসবি ফি এবং ব্যক্তিগত কোড ব্যবহারের মূল সুবিধাসমূহ
ব্যাংক থেকে ব্যাংক (Bank to Bank)
প্রতি লেনদেনে ১০ টাকা (স্থায়ী)
দীর্ঘ অ্যাকাউন্ট ও রাউটিং নম্বর লেখার প্রয়োজন নেই
এনপিএসবি (NPSB) মাধ্যমে রিয়েল-টাইম যাচাই
ব্যাংক থেকে এমএফএস (Bank to MFS)
০.১৫% (মোট অর্থের ওপর)
প্রাপকের নাম ও সংক্ষিপ্ত হিসাব দেখে নিশ্চিত হওয়া যায়
ভুল নম্বরে টাকা যাওয়ার ঝুঁকি শূন্য
এমএফএস থেকে ব্যাংক/অন্য সেবা (MFS to Bank/Others)
সর্বোচ্চ ০.৮৫%
গ্যালারি থেকে ছবির স্ক্রিনশট আপলোড করে লেনদেনের সুযোগ
পাবলিক কি ইনফ্রাস্ট্রাকচার এনক্রিপশন
পিএসপি থেকে লেনদেন (PSP to Bank/MFS)
সর্বোচ্চ ০.২০%
প্রিন্ট বা লেমিনেটেড কার্ড আকারে সাথে রাখার সুবিধা
ডিজিটাল স্বাক্ষর নিরাপত্তা যুক্ত
ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (P2P Transaction)
বিদ্যমান ইন্টারঅপারেবল চার্জ প্রযোজ্য
প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ক্যাশলেস লেনদেন সহজ
সেন্ট্রাল ট্রাস্ট স্টোরে নিরাপদ ডাটা সংরক্ষণ
লেনদেনের মাধ্যম (Transaction Type)
আবেদনযোগ্য মাশুল/ফি (Service Charge)
ব্যক্তিগত কিউআরের মূল সুবিধা (Key Benefits)
সুরক্ষা ও প্রযুক্তি (Security & Tech)
আরও পড়ুন:




