ঋণের ধরণ (Loan Category)
সর্বোচ্চ সীমা (Max Limit)
ডেট-ইকুইটি রেশিও
ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড গাড়ি
৮০ লক্ষ টাকা
৮০:২০
সাধারণ গাড়ি (জ্বালানি চালিত)
৬০ লক্ষ টাকা
৬০:৪০
ব্যক্তিগত ঋণ (জামানত ছাড়া)
১০ লক্ষ টাকা
প্রযোজ্য নয়
ব্যক্তিগত ঋণ (জামানতসহ)
৪০ লক্ষ টাকা
প্রযোজ্য নয়
নির্দেশনা প্রদানকারী
বাংলাদেশ ব্যাংক (সার্কুলার তারিখ: ০৫ মে ২০২৬)
গাড়ি ঋণের নতুন নিয়ম (New Auto Loan Regulations)
নতুন প্রবিধান অনুযায়ী, ঋণের সীমা গাড়িভেদে ভিন্ন হবে:
ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড গাড়ি: এই ধরনের জ্বালানি সাশ্রয়ী গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ঋণের সর্বোচ্চ সীমা ৮০ লক্ষ টাকা। এই ঋণের ক্ষেত্রে ডেট-ইকুইটি রেশিও (Debt-Equity Ratio) হবে ৮০:২০। অর্থাৎ গাড়ির দামের ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যাংক লোন হিসেবে দিতে পারবে।
সাধারণ গাড়ি: ইলেকট্রিক বা হাইব্রিড নয় এমন সাধারণ জ্বালানি চালিত গাড়ির ক্ষেত্রে ঋণের সীমা সর্বোচ্চ ৬০ লক্ষ টাকা। এক্ষেত্রে ডেট-ইকুইটি রেশিও থাকবে ৬০:৪০।
আরও পড়ুন:
ব্যক্তিগত ঋণের সুবিধাও বাড়লো (Increase in Personal Loan Limit)
গাড়ি লোনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ঋণের (Personal Loans) ক্ষেত্রেও নীতিমালায় পরিবর্তন আনা হয়েছে:
জামানতহীন ঋণ: কোনো প্রকার সিকিউরিটি বা জামানত ছাড়াই একজন ব্যক্তি এখন থেকে সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ব্যক্তিগত ঋণ নিতে পারবেন।
জামানতসহ ঋণ: উপযুক্ত জামানত বা সিকিউরিটি থাকলে ব্যক্তিগত ঋণের সীমা বাড়িয়ে ৪০ লক্ষ টাকা করা হয়েছে। তবে লিকুইড সিকিউরিটির বিপরীতে নেওয়া ঋণ এই সীমার অন্তর্ভুক্ত হবে না।
দেশের ক্রমবর্ধমান জিডিপি (GDP) এবং মানুষের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে গ্রাহকদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
গাড়ি ও ব্যক্তিগত ঋণ সংক্রান্ত প্রশ্ন ও উত্তর-FAQ
প্রশ্ন: ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড গাড়ির জন্য সর্বোচ্চ কত টাকা লোন পাওয়া যাবে?
উত্তর: বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড গাড়ির জন্য এখন সর্বোচ্চ ৮০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ব্যাংক লোন পাওয়া যাবে।
প্রশ্ন: সাধারণ (জ্বালানি চালিত) গাড়ির জন্য ঋণের সীমা কত?
উত্তর: সাধারণ পেট্রোল বা ডিজেল চালিত গাড়ির ক্ষেত্রে ঋণের সর্বোচ্চ সীমা হচ্ছে ৬০ লক্ষ টাকা।
প্রশ্ন: ইলেকট্রিক গাড়ির লোনের ক্ষেত্রে ডেট-ইকুইটি রেশিও (Debt-Equity Ratio) কত?
উত্তর: ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড গাড়ির জন্য ডেট-ইকুইটি রেশিও হবে ৮০:২০; অর্থাৎ গাড়ির দামের ৮০ শতাংশ পর্যন্ত লোন নেওয়া যাবে।
প্রশ্ন: সাধারণ গাড়ির লোনের জন্য কত শতাংশ টাকা ব্যাংকের পক্ষ থেকে দেওয়া হবে?
উত্তর: সাধারণ গাড়ির ক্ষেত্রে লোন অনুপাত হবে ৬০:৪০; যেখানে ব্যাংক সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ লোন দিবে এবং বাকি ৪০ শতাংশ গ্রাহককে বহন করতে হবে।
প্রশ্ন: পার্সোনাল লোন বা ব্যক্তিগত ঋণ সর্বোচ্চ কত টাকা নেওয়া যাবে?
উত্তর: উপযুক্ত জামানত বা সিকিউরিটি থাকলে একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৪০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ব্যক্তিগত ঋণ নিতে পারবেন।
প্রশ্ন: জামানত ছাড়া কি ব্যক্তিগত ঋণ পাওয়া সম্ভব?
উত্তর: হ্যাঁ, কোনো প্রকার জামানত বা সিকিউরিটি ছাড়াই সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ব্যক্তিগত ঋণ পাওয়া যাবে।
প্রশ্ন: এই নতুন নিয়মটি কবে থেকে কার্যকর হয়েছে?
উত্তর: বাংলাদেশ ব্যাংক এই সংক্রান্ত সার্কুলারটি ৫ মে ২০২৬ তারিখে জারি করেছে, যা বর্তমান সময় থেকে কার্যকর।
প্রশ্ন: লিকুইড সিকিউরিটির বিপরীতে নেওয়া ঋণ কি ৪০ লক্ষ টাকার সীমার মধ্যে পড়বে?
উত্তর: না, লিকুইড সিকিউরিটির বিপরীতে নেওয়া ঋণ এই ৪০ লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত ঋণের সীমার অন্তর্ভুক্ত হবে না।
প্রশ্ন: এই ঋণের জন্য আবেদন কোথায় করতে হবে?
উত্তর: বাংলাদেশে কার্যরত যেকোনো তফসিলি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এই ঋণের জন্য আবেদন করা যাবে।
প্রশ্ন: কেন ব্যাংক লোনের এই সীমা বাড়ানো হয়েছে?
উত্তর: দেশে পরিবেশবান্ধব ও জ্বালানি সাশ্রয়ী ইলেকট্রিক এবং হাইব্রিড গাড়ির ব্যবহার উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এই সীমা বাড়ানো হয়েছে।
প্রশ্ন: গাড়ির ইন্স্যুরেন্স কি এই ঋণের অন্তর্ভুক্ত?
উত্তর: হ্যাঁ, ব্যাংকগুলো প্রদত্ত এই ঋণের সীমার মধ্যেই ইন্স্যুরেন্সের সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
প্রশ্ন: পরিবারের কোনো নির্ভরশীল সদস্যের জন্য কি আলাদা লোন পাওয়া যাবে?
উত্তর: নির্ভরশীল সদস্যদের প্রদান করা লোন সুবিধা মূল আবেদনকারী ব্যক্তির ঋণের সীমার (Exposure) অংশ হিসেবেই গণ্য হবে।
প্রশ্ন: হাইব্রিড গাড়ির চাহিদা বৃদ্ধির কারণ কী?
উত্তর: পরিবেশবান্ধব বৈশিষ্ট্য এবং উচ্চ জ্বালানি দক্ষতার কারণে বর্তমানে দেশে হাইব্রিড গাড়ির চাহিদা ও ব্যবহার ক্রমাগত বাড়ছে।
প্রশ্ন: ঋণের নীতিমালা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কী কী বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে?
উত্তর: বর্তমান বাজার মূল্য এবং গ্রাহকদের ক্রমবর্ধমান ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনা করে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
প্রশ্ন: ব্যক্তিগত ঋণের সীমা বাড়ানোর পেছনে মূল কারণ কী?
উত্তর: দেশের জিডিপি (GDP) প্রবৃদ্ধি এবং মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির ফলে গ্রাহক পণ্যের চাহিদা বাড়ায় এই সীমা পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে।





